জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের দেওয়া ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণের সময় এ অনিয়মের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন উপকারভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাগ অফিসার আশরাফুল আলম উপস্থিত থাকলেও প্রত্যেক উপকারভোগীকে প্রায় ১ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাল মাপার জন্য ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার না করে একটি বালতি দিয়ে মনগড়া ভাবে চাল বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের ঈদ উপহার হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ সময় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বালতি দিয়ে উপকারভোগীদের চাল তুলে দিচ্ছেন। পাশে ইউপি সদস্যরা বসে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছিলেন।
এ সময় দেখা যায়, উপকারভোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছু লোক অন্য পাশ দিয়ে প্রবেশ করে চাল নিয়ে যাচ্ছে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে কয়েকজনকে সেই চাল কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করতেও দেখা যায়। কয়েকজন ব্যক্তি একাধিকবার চাল তুলে এনে তা বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এতে এসব চাল কারা বিক্রি করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
১ নম্বর ওয়ার্ডের জহরুল নামের এক উপকারভোগী বলেন, “বালতি দিয়ে গ্রাম পুলিশ চাল মেপে দিয়েছে। বড়জোর ৮ কেজির মতো হবে।”
একই এলাকার জরিনা নামে এক নারী বলেন, “আমাকেও বালতি দিয়ে চাল দিয়েছে, ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজির মতো হবে।”
আরেক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। টিপসই নেওয়ার পর আবার লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে, এখনো চাল পাইনি।”
এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি সদস্য নাজমুল ইসলামকে কয়েকজন কালোবাজারিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে বের করে দিতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে তদারকি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “আমার চোখেও দু-একটি অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।”
মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, “আমার অজান্তে কিছু অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। চাল বিতরণে অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজু








