বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছেন, শুধুমাত্র যানজটের কারণে ঢাকা শহরে প্রতিদিন ১৪০ কোটি টাকা লস হচ্ছে সরকারের এবং বছরে তার পরিমাণ ৫০হাজার কোটি টাকা। গাজীপুর ও চিটাগাং হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন। সেটাকে যদি আমরা ঠিক রাখতে না পারি, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলেন, জীবন যাত্রার মান বলেন, শান্তি বলেন, সমৃদ্ধি বলেন, ন্যায় বিচার বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা বলেন, তার কোন কিছুই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো না।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর মহানগর পুলিশ আয়োজিত গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি ওইসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। সুধী সমাবেশে এলাকার বিভিন্ন অপরাধ, অনিয়ম, চাঁদাবাজী, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ ও সমস্যার চিত্র তুলে ধরা হয়।
আইজিপি আরো বলেন, মাদক আমাদের তরুণ সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু হলেই তাদের একটি অংশ রাস্তা অবরোধ করে। এতে যানজট সমস্যা তৈরি হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের রাজ্যের ৯৯ পার্সেন্ট শ্রমিক নিরীহ। তারা মাস শেষে বেতন পেলেই খুশি থাকে। কিন্তু ওয়ান পার্সেন্ট লোক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর থাকে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি স্থানীয় এমপি এম মনজুরুল করিম রনি বলেন, দেশে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, যানজটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এগুলো কিন্তু একদিনে সৃষ্টি হয়নি, এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে। একটি ফ্যাসিস্ট গভর্মেন্ট দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, সে কারণেই কিন্তু সমস্যাগুলো ঘনীভূত হয়েছিল। আমরা দেখেছি দুর্নিতীকে (করাপশন) তারা ইন্সপায়ার করেছে। শুধু গাজীপুর নয় সারাদেশে যুব সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দিয়েছিল তারা। যুব সমাজকে ধ্বংস করতেই পরিকল্পিতভাবে তারা এই কাজটি করেছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে অন্য দেশের সিলেবাসকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিল তারা।
নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের একমাসও হয়নি। ইতোমধ্যে সমাজের মূল সমস্যাগুলো যেমন মাদক, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমিও আমাদের গাজীপুরে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। পুলিশ কমিশনারকে বলেছি এসব কাজে যদি আমার দলের কোন নেতাকর্মীও জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এজন্য আমিও সহযোগিতা করব। ঈদে ঘরমুখী মানুষদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ কমিশনারসহ আমরা শর্ট টার্ম প্ল্যান করবো। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহন নেতা-কর্মী শ্রমিকরা মিলে সকলে যদি কাজ করি তাহলে যানজটসহ সকল সমস্যা দূর করা যাবে।
সুধী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আহম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (বাংলাদেশ পুলিশ) রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দীন, গাজীপুর মহানগর বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন কায়সার, আহমেদ আলী রুশদি, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দীন, টঙ্গীর পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক বশির আহমেদ প্রমুখ।
রাজু








