বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন খাতের আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন আধুনিকায়নের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, ভাঙচুর, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাজধানীর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের উত্তরা পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এক নারী উদ্যোক্তা। তিনি আন্তর্জাতিক কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান ProKnoWara Consulting Firm-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চেক রিপাবলিকের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান CYRCID-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছিল।
কিন্তু তার অভিযোগ, দুই ব্যক্তি—এ.কে.এম. মঈনুল ইসলাম (নবীন) ও নাফিসা আফরিন চৌধুরী (শেফা)—CYRCID কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ CYRCID ই-মেইলের মাধ্যমে পূর্বে স্বাক্ষরিত এমওইউ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক যোগাযোগ না রাখার কথাও উল্লেখ করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ProKnoWara Consulting Firm-এর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন খাতের চলমান বৈশ্বিক রূপান্তর উদ্যোগকে ব্যাহত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারতের KnoWerX Education-কেও হুমকি দেয়। ProKnoWara-এর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে ভারতের হাইকমিশন, ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভিযোগ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ইউরোপীয় Digital Product Passport (DPP) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Orobo-এর ওপর সাইবার আক্রমণ চালানোর অভিযোগও করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এটি ProKnoWara-এর আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা।
নারী উদ্যোক্তা জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান Digital Product Passport (DPP), Circular Data Infrastructure এবং Sustainable Supply Chain Transformation-এর মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন শিল্পকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কমপ্লায়েন্স কাঠামোর জন্য প্রস্তুত করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের একটি অফিসিয়াল পোস্টার বৈধভাবে একটি বাণিজ্যিক স্থানে স্থাপন করা হলেও অভিযুক্তরা সেটি ছিঁড়ে ফেলে এবং ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কাছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছেও পাঠানো হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও অশালীন ও অসম্মানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন। তার ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, তাকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশের সামনেই তার ওপর শারীরিক হামলার চেষ্টা করা হয় এবং অভিযুক্তরা কোম্পানির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা অব্যাহত রাখার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নারী উদ্যোক্তা বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে হুমকি দেওয়া এবং সাইবার আক্রমণের মতো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বৈশ্বিক রূপান্তর উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা হয়রানির মাধ্যমে তাদের থামানো যাবে না। আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বৈশ্বিক রূপান্তরের কাজ অব্যাহত রাখা হবে।
রাজু








