ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

রেমিটেন্স বাড়াতে পদক্ষেপ

-

প্রকাশিত: ২০:২৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রেমিটেন্স বাড়াতে পদক্ষেপ

সম্পাদকীয়

সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শীর্ষক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, প্রতিবছর যে পরিমাণ বাংলাদেশী শ্রমজীবী বিদেশে যান, সে তুলনায় প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স আসছে না দেশে। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশী বিদেশে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তিমূলক শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অনেকেই সেখানে আয়-উপার্জনও করছেন। কিন্তু সে তুলনায় দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন না। সরকার ২০২০ সালে প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করলেও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। করোনা অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগেও যে বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে আসত, তা বর্তমানে গিয়ে ঠেকেছে প্রায় তলানিতে।

ফলে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে, বর্তমানে যা ২১ বিলিয়ন ডলার। বেড়েছে আমদানি ব্যয়ও। গত আগস্টে দেশে রেমিটেন্স এসেছে সর্বনিম্ন-১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। যা আগের বছরের ৬ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ। চলতি সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা প্রথম ২২ দিনে ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। রেমিটেন্স কমার বিষয়টি সরকারের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন এমন হচ্ছে তার কারণ খতিয়ে দেখতে সরকার অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে পরামর্শ এবং সংস্কার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। তাদের সংস্কার কর্মসূচি ও পদ্ধতি সরকার গ্রহণ করে দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। 
ইতোপূর্বে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধা অন্বেষণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি গুরুত্বারোপ করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সে দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমজীবী প্রেরণের ওপর। যাতে তারা বেশি আয়-উপার্জন করতে সক্ষম হন এবং বেশি অর্থ দেশে পাঠাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের অবৈধ হুন্ডির পথ পরিহার করে বৈধ উপায়ে অর্থাৎ, ব্যাংকিং চ্যানেলে স্বোপার্জিত অর্থ প্রেরণের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তারা সরকার প্রদত্ত প্রণোদনার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন। সর্বোপরি উৎসাহিত হতে পারেন সঞ্চয় ও বিনিয়োগ। 
বাংলাদেশের জন্য সর্বশেষ শ্রমবাজার খুলেছে মালয়েশিয়ায়, বর্তমান বৈশি^ক সংকটে যা একটি সুসংবাদ।

এ বিষয়ে  দুই দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে কয়েক লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। এর আগে কৃষি শ্রমিক প্রেরণ নিয়ে চুক্তি হয়েছে গ্রিসের সঙ্গে। সার্বিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে সে দেশে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের। দীর্ঘদিন পর বাহরাইন খুলে দিয়েছে বাংলাদেশীদের জন্য শ্রমবাজার। জাপান, রুমানিয়া, পোল্যান্ড ও বলিভিয়ায় বৈধভাবে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। মালদ্বীপে অবৈধভাবে বসবাসকারী সোয়া লাখ বাংলাদেশী শ্রমিকের বৈধতার সুযোগ পাওয়ায় নতুনদের যাওয়ার পথও সুগম হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের পরেই রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ। মূলত ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় হুন্ডি ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রবাসী আয় বেশি পাঠানো হচ্ছে দেশে। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ৪৯ শতাংশ প্রবাসী আয় আসে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে। ৫১ শতাংশ আসে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে। বিশেষজ্ঞ  অর্থনীতিবিদদের সংস্কার কর্মসূচি ও পরামর্শ সরকার আমলে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করলে প্রবাসী আয়ে গতি আসবে বলেই প্রত্যাশা।

×