ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

লোকশিল্প মেলা

-

প্রকাশিত: ২০:২৮, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩

লোকশিল্প মেলা

সম্পাদকীয়

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব-২০২৩। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আবহমান গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিবছরই মাসব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে। এবারের মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনীর ২৪টি স্টলসহ ১০০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪৮ জন কারুশিল্পী অংশ নিয়েছেন। বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ১৯৭৬ সাল থেকে চলে আসছে এই মেলা।
উন্নয়ন ও সভ্যতার অন্তরালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঙালীর অনেক ঐতিহ্য। বর্তমানে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও এখনো কিছু ঐতিহ্যময় মেলার সন্ধান মেলে, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে যান দেশী-বিদেশী পর্যটকরাও। বিশেষ করে বাংলা এবং ইংরেজি নববর্ষে উৎসবমুখর বাঙালি নানা উৎসবে মেতে ওঠে। এসব মেলার মাধ্যমে দেশীয় হস্তশিল্পের প্রসার ও বিপণন বাড়ে। নতুন প্রজন্ম জানতে পারে হারানো শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) উদ্যোক্তা।

তারা এসব মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পণ্য প্রচারের সুযোগ পায়, যা অর্থনীতির গতি-প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি বার্ষিক প্রায় ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে এমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে উন্নীত হতে উদগ্রীব। এজন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অভিযোজনসক্ষম প্রবৃদ্ধি অর্জনে অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল হাতিয়ার শিল্পায়ন। 
এ বছর সোনারগাঁওয়ের কারুশিল্প মেলায় দারুশিল্পের কারুকাজ, হাতি-ঘোড়া, মমি পুতুলের বর্ণালি-বাহারি পণ্য, জামালপুরের তামা-কাঁসা-পিতলের শৌখিন সামগ্রী, সোনারগাঁওয়ের বাহারি জামদানি শিল্প, বগুড়ার লোকজ বাদ্যযন্ত্র, কক্সবাজারের শাঁখা ঝিনুক শিল্প, ঢাকার কাগজের শিল্প, রাজশাহীর মৃৎশিল্প-মাটির চায়ের কাপ, শখের হাঁড়ি, বাটিক শিল্প, খাদিশিল্প, মণিপুরী তাঁতশিল্প, রংপুরের শতরঞ্জি শিল্প, টাঙ্গাইলের বাঁশ-বেতের কারুপণ্য, সিলেটের বেতশিল্প, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুজনি কাঁথা, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কারুপণ্য, মৌলভীবাজারের বেতের কারুশিল্প, ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশের কারুশিল্প, মাগুড়া ও ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, পাটজাত কারুপণ্য, লোকজ অলঙ্কার শিল্প, নাগরদোলা, বায়োস্কোপ ও মিঠাই ম-ার পসরা রয়েছে স্টলগুলোতে।

দেশের লোক ও কারুশিল্পকে ধরে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এসব মেলার আরও প্রচার ও প্রসার প্রয়োজন। এবার মেলায় কারুশিল্পীদের সংখ্যা বাড়ায় দুজনকে একটি করে স্টল দেওয়া হয়েছে। এজন্য তারা পণ্য ভলোভাবে সাজাতে পারেনি বলে জানা যায়। কিভাবে এ মেলার পরিসর আরও বাড়ানো যায় আগামীতে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল দৃষ্টি দেবে বলেই প্রত্যাশা।

×