ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

বাঙালি-পাহাড়ির ঐক্যের প্রতীক শান্তিচুক্তি

ড. মিল্টন বিশ্বাস

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ১ ডিসেম্বর ২০২২

বাঙালি-পাহাড়ির ঐক্যের প্রতীক শান্তিচুক্তি

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি

আজ থেকে ২৫ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে সম্পাদিত হয় শান্তিচুক্তি, যে চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে সৃষ্ট দু’দশকের বেশি সময় ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুযায়ী বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ হলো-পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়।

উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছে। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী ১২,২২৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শরণার্থী পরিবারকে সুযোগ-সুবিধাসহ সরকার কর্তৃক পুনর্বাসন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগদানের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়েছে শান্তিবাহিনীর ৭১৫ সদস্যকে। অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারী শান্তিবাহিনীর ১৯৮৯ জন সদস্যের প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে পার্বত্য উপজাতীয়দের কোটা সুবিধাসহ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে কোটা সুবিধা ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক ভাষায় শিক্ষা চালু ও প্রধান ৭টি পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীর শব্দকোষ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বসহ আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে উন্নয়নের সেতুবন্ধন সৃষ্টি হওয়ায় এবং উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে সুসম্পর্কের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তির জনপদে পরিণত হয়েছে পার্বত্য এলাকা।
১৯৭০ সালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ওই এলাকার ভূ-বৈচিত্র্য, নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং সেখানে বসবাসকারী নানা সম্প্রদায়ের বিষয়ে জানার সুযোগ হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, যা তাকে ওই অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে কার্যক্রম গ্রহণে অনুগ্রাণিত করে। এজন্য শান্তির অগ্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তিচুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়নে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কেবল ভূমি সংস্কার ব্যতীত পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে।

শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সেনা ক্যাম্পগুলোর অধিকাংশই তুলে নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের চারটি জায়গায় কেবল সেনাবাহিনীর চারটি ব্রিগেড থাকবে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে সব সরিয়ে নেওয়া হবে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ আরও সুন্দরভাবে বসবাস করবেন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা আরও উন্নয়ন হবে- সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার ১৮ বছর ধরে কাজ করছে। পাহাড়ের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইন সংশোধনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ভূমি সংস্কার কমিশন বারবার গঠন করা হচ্ছে। কিন্তু এই কমিশনের কাজটা ঠিকমতো হচ্ছে না। সরকার ভূমি সংস্কারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন একাধিকবার গঠন করলেও কমিশনের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি। কারণ, সেখানে কিছুটা অবিশ্বাস এবং দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছিল। তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আইন-২০০১-এর কতিপয় সংশোধনীর দাবি মেনে নেওয়া দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। প্রথম থেকেই বিএনপি পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেছিল। পার্বত্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে যখন অস্ত্র সমর্পণের আয়োজন করা হয় তখন বিএনপি হরতাল ডেকে বলেছিল অস্ত্র সমর্পণ করা যাবে না। খালেদা জিয়ার মন্তব্য ছিল এই চুক্তি হলে ফেনী থেকে পুরো পার্বত্যাঞ্চল ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। কিন্তু সেসব কথা অসার প্রমাণিত হয়েছে। বরং শান্তিচুক্তির ফলে পাহাড়ে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সুসম্পর্ক এবং সৌহার্দ্য বিরাজ করছে।

॥ দুই ॥
দেশের ভেতর থেকে শান্তিচুক্তির বিরোধিতা হলেও ওই চুক্তির কারণে পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি ও বাঙালির জীবনে ফিরে এসেছে শান্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীরাও বাংলাদেশের নাগরিক। সুতরাং শেখ হাসিনার সরকার ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ খাত এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আসলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার প্রকৃত রাজনৈতিক সমাধান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে উপজাতি ও জুম্ম জনগোষ্ঠীর জাতীয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। শান্তিচুক্তির পর সেই সময়কার আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ক্যাম্পও বৃদ্ধি করেনি।

বর্তমানেও চলমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। বরং চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে ইউপিডিএফ ক্রমবর্ধমান হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র সংঘাত সৃষ্টি করছে। আবার তাদের রুখতে অন্যরাও অস্ত্র ধরেছে। অথচ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গেরিলা যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। এক সময় বিভিন্ন দলের ভেতর কোন্দল এবং বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়ায় চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

কিন্তু তথাকথিত স্বায়ত্তশাসন ও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিকে সামনে রেখে সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসের জীবনে অভ্যস্ত বিভিন্ন দলের কর্মীরা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মাঝে-মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে উঠছে। সরকারের দ্রুত ব্যবস্থাপনায় অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বাঙালিদের প্রতি ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী সদস্যরা সদয় দৃষ্টি দেবেÑ এ প্রত্যাশাও রয়েছে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষের জনশক্তির।  
শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন বা ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নসমূহ পার্বত্য এলাকায় সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছে। পার্বত্য অঞ্চলে স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালে মাত্র ৪৮ কি.মি. রাস্তা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলে নির্মাণ করেছে প্রায় ৩০০০ কি.মি. রাস্তা, অসংখ্য ব্রিজ ও কালভার্ট। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণ এবং টেলিযোগাযোগের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দেশী এবং বিদেশী এনজিওসমূহের কার্যক্রম, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পার্বত্যাঞ্চলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ সড়ক, অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান, অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার, পার্বত্যাঞ্চলে মোতায়েনরত সেনাবাহিনীকে ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তন, সামাজিক ও বিদ্যুৎ উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তিন পার্বত্য জেলায় ৫০ হাজার ৮৪৭ জনকে বয়স্ক ভাতা, ৩০ হাজার ৪১০ জনকে বিধবা ভাতা, ৯ হাজার ৩১১ জনকে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা এবং এক হাজারের বেশি প্রতিবন্ধীকে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলে ১ হাজার ৪৬টি সমিতির মাধ্যমে ৫২ হাজার ১৭২ জন সদস্যের দারিদ্র্য বিমোচন তথা জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭০০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া ব্যাপকভাবে লেগেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ ছিল না।

সরকার ২০১৭ সালে সেখানে ১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১টি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেছে। আশির দশকে যেখানে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি। তার সংখ্যা এখন ৪৭৯টি। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। শিক্ষার হার ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৪.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষার হার ৫৯.৮২ শতাংশ, সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের শিক্ষার হার ২৩%। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১টি থেকে ৩টি করা হয়েছে। হাসপাতালের সংখ্যা ৩টি থেকে ২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। যেখানে কোনো খেলার মাঠ ছিল না বর্তমানে সেখানে ৫টি স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে। কলকারখানা, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ১৯৩টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন উন্নীত হয়েছে ১৩৮২টিতে। ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এককালের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভূত উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল বলেই। অর্থাৎ শান্তিচুক্তির গুরুত্ব দেখা যায় তুলনামূলক এসব উন্নয়ন চিত্রে।

॥ তিন ॥

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সমসাময়িককালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সফল রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি আমাদের দেশের জন্য এক বিরল অর্জন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউনেস্কো পুরস্কার প্রাপ্তিও ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অনন্য স্বীকৃতি। চুক্তির পর পুরো পার্বত্যাঞ্চলজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ যথেষ্ট বেগবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত থেকে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অপরিহার্যতা লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে গত সাড়ে ১৩ বছর যাবৎ একটানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মধ্যে প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করেছেন। এজন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তার কাছে যথাযোগ্য মর্যাদা পাবে এটাই স্বাভাবিক। কয়েক বছর আগে কক্সবাজার জেলার রামুসহ টেকনাফ, পটিয়া ও উখিয়ায় দুষ্কৃতকারীরা দলবেঁধে বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দির ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ, শান্তিচুক্তিতে বর্ণিত সকল নাগরিকের অধিকার সমুন্নত রাখার প্রত্যয় বাস্তবায়নে বাঙালি-পাহাড়ির যৌথ প্রচেষ্টা দরকার। পাহাড়ি-বাঙালির সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন হোক পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অন্যতম অনুধ্যানÑ এই প্রত্যাশা সকলের।
লেখক : চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,
 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ
[email protected]

monarchmart
monarchmart

শীর্ষ সংবাদ:

সব রেকর্ড ভেঙে দুইদিনে পাঠানের আয় ১২৭ কোটি!
শীতের তীব্রতা কমায় বোরো ধান লাগাতে ব্যস্ত চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা
নেপালের আসিফ পেলেন আইসিসির পুরস্কার, কৃতিত্ব কী তার!
পাকিস্তানে ২৫৫ রুপির বিপরীতে ১ ডলার
আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন
বিদ্যুতের দাম প্রতি মাসেই সমন্বয়, নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস দেয়ার চেষ্টা
মির্জা ফখরুল কি আল্লাহর ফেরেশতা, প্রশ্ন কাদেরের
মাশরাফির সিলেটকে ৬ উইকেটে হারাল রংপুর
বিএনপি শুধু মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে: নানক
মার্কিন অভিযানে সোমালিয়ায় আইএস নেতা নিহত
দম ফুরিয়ে গেছে, তাই বিএনপির নীরব পদযাত্রা কর্মসূচি: তথ্যমন্ত্রী
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরীক্ষার মেশিন চুরি
খাদ্যশস্যের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ
পূর্ব জেরুজালেমে উপাসনালয়ে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৭
মুখস্থ করে সৃজনশীল মানুষ হওয়া যায় না : শিক্ষামন্ত্রী