ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

শেখ রেহানার চিঠি ॥ চোখ ভিজে আসে

ড. মোঃ হাসিবুল আলম প্রধান

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ১২ আগস্ট ২০২২

শেখ রেহানার চিঠি ॥ চোখ ভিজে আসে

.

প্রায় তেরো বছর আগের কথা২০১০ সালের ১১ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠে পঁয়ত্রিশ বছর পরশিরোনামে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার একটি আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী লেখা প্রকাশিত হয়েছিলএ লেখাটি পড়তে গিয়ে মনের অজান্তে বারবার ভিজে যায় চোখএ লেখাটিতে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে সংঘটিত ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকা-ের পূর্বে সুদূর জার্মানি থেকে বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও ছোট ভাই শেখ রাসেলকে যেসব চিঠি লিখেছিলেন, সেই চিঠিসমূহের বর্ণনা ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেছিলেন১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং তাঁদের তিন পুত্র ও দুই পুত্রবধূসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নির্মম হত্যাকা-ের শিকার হলেও বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শুধু শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকার কারণে ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকা- থেকে বেঁচে যান

প্রকৃত প্রাপকের কাছে এ চিঠিগুলো পৌঁছেনি, এ চিঠিগুলো পাবার আগেই প্রাপকরা বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে শাহাদাতবরণ করেছিলেনবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে এবং শেখ রেহানার লেখার মাধ্যমে পঁয়ত্রিশ বছর পর আলোর পাদপীঠে প্রথমবারের মতো এ চিঠিগুলো আসেদৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত শেখ রেহানার এই আবেগঘন লেখাটি পড়ে মনে হয়েছিল, এ লেখাটি সকলের পড়া দরকার, এ চিঠিগুলো সম্পর্কে সকলের জানা দরকার, সকলের জানা দরকার কী দুঃসহ স্মৃতি ও অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন দুই বোন দেশরতœ শেখ হাসিনা ও  শেখ রেহানাঅনেক দিন ধরে লেখাটি খুঁজে পাইনি বিধায় আর এ নিয়ে লেখা হয়ে ওঠেনিশোকাবহ আগস্টে অবশেষে সেই মর্মস্পর্শী লেখাটি হাতে পেয়েছি এবং সেই লেখার সূত্র ধরেই এই লেখাপঁয়ত্রিশ বছর পর পাওয়া চিঠিগুলো সম্পর্কে শেখ রেহানা তাঁর লেখায় এভাবেই লেখেন Ñ‘ভাগ্যের কী নিষ্ঠুর খেলা, পঁয়ত্রিশ বছর আগে আব্বা-মা, ভাই-ভাবীদের কাছে যে চিঠি লিখেছিলাম আজ সেই চিঠিগুলো আমাকেই খুলতে হলোচিঠিগুলো জার্মানি থেকে লেখাখামের মুখ বন্ধডাকপিয়ন তার মতো করে যথারীতি ডাকবাক্সে রেখে গিয়েছিলচিঠিগুলো আপা যখন বত্রিশ নম্বর থেকে আমার হাতে এনে দিলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য আমার হাত-পা অবশ হয়ে গিয়েছিলবুকের ভেতরটা কষ্টে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছিলতিনি আরও লেখেন- আমার হাতের লেখা আমাকেই পড়তে হলোএ চিঠিগুলোর পরিবর্তে যদি সেই প্রাণপ্রিয় মানুষগুলো ফিরে পেতামআল্লাহতো কত কিছুই করতে পারেনআমার যেন কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল নাএমন চমকপ্রদ ঘটনা কি কখনও ঘটতে পারে? এত বছর ধরে তো দেখছি, জীবনের একটা বড় সময় চলে গেলচোখ দুটো এখনও প্রিয়জনদের খোঁজেদুচোখের অশ্রু, কষ্ট-অস্থিরতা নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে দুই বোন সাহস সঞ্চয় করে খামটা খুলে চিঠিগুলো পড়লামকিশোরী বয়সে লেখা ঐ চিঠিগুলোয় আমার মনের কথাগুলো তুলে ধরেছিলাম

ভাবতে ভাবতে চোখ ভিজে আসেবনে মরহুম রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর বাসায় বেড়াতে গেলে তাঁর হাতে চিঠিগুলো খামে ভরে দিয়েছিলামতিনি এগুলো ঢাকায় বত্রিশ নম্বরের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেনধুলায় মলিন হয়ে গেছে কাগজের পাতা, লেখার কালিও ঝাপসাকিন্তু অক্ষরগুলো আমি ঠিকই পড়তে পারলামশেখ রেহানার এ লেখায় মোট ৭টি চিঠির বর্ণনা পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১টি লিখেছিলেন বাবা শেখ মুজিবকে, ১টি লিখেছিলেন মা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে, ১টি লিখেছিলেন বড় ভাই শেখ কামালকে, ১টি লিখেছিলেন বড় ভাবি সুলতানা কামালকে, ১টি লিখেছিলেন বড়ভাই শেখ জামাল ও ভাবি রোজীকে এবং ১টি লিখেছিলেন ¯œহের ছোট ভাই শেখ রাসেলকেচিঠিগুলোর মধ্যে বাবা, মা ও শেখ রাসেলকে লেখার সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ ছিল এবং বাবা শেখ মুজিব ও বড় ভাই শেখ কামালকে লেখা চিঠির শেষে তিনি নিজের নাম রেহান লিখেছিলেন। 

কী ছিল এই চিঠিগুলোতে, কী লিখেছিলেন শেখ রেহানা? চিঠিগুলোতে তিনি লিখেছিলেন তাঁর ভাষায় আব্বা-মায়ের কাছে কত আবদার, বিদেশ যাবার সময় ছোট্ট রাসেলের ফরমায়েশ, নতুন ভাবীদের নিয়ে মজা করব ফিরে এসেনতুন পরিবেশে যাতে ওদের কোন সমস্যা না হয় আমি দেশে ফিরে সব সমাধান করে দেব’  তাঁর বাবার কাছে চিঠিতে  জার্মানির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর প্রিয় সোনার বাংলা যে কোন অংশে কম নয়, প্রাচ্যের সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করা যায় সে কথাও লিখতে তিনি ভুলেননিআমার খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আব্বা বেশি চিন্তা করতেন একথা উল্লেখ করে বাবা মুজিব যাতে চিঠি পড়ে  খুশি হন সেজন্য তিনি চিঠিতে লেখেন যে আমি যে লক্ষ্মী মেয়ের মতো সব ঠিকমতো খাচ্ছি সেটাও জানাতে ভুল করিনিমাকে চিন্তা করতে নিষেধ করতে গিয়ে তিনি লেখেন ছোটখাটো সব ধরনের খবর দিয়ে মাকে চিন্তা করতে নিষেধ করেছিআমি সব ধরনের কাজ করতে পারি, সেটাও লিখেছিজয় ও পুতুলের জন্য মা যেন কোন চিন্তা না করেওরা আমার সব কথা শুনত, তাই যেন চিন্তা না করেস্বপ্নের দেশ প্যারিস যাবার বিষয়েও বড় ভাবিকে চিঠি লেখতে গিয়ে লেখেন, ‘বড় ভাবীকে লেখা স্বপ্নের দেশ প্যারিস যাব জানাতে পেরে একটা রোমাঞ্চ ছিল আমার মনে তখনতার বিয়ের সময় তোলা রঙিন ছবিগুলো বিদেশে ওয়াশ করে কেমন হয়েছে তাও জানিয়েছিলাম

কেননা ঢাকায় তখন রঙিন ছবি ওয়াশ হতো নাকধষংঁযব শহরের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মনোরম পরিবেশের বর্ণনা জানাতে গিয়ে তাঁর জামাল ভাইকে তিনি লেখেন, ‘জামাল ভাইকে লিখি আমরা যখন কধষংঁযব শহরের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিলাম, এটা দেখে এত মুগ্ধ হই যে, তাকে জানাই, আব্বার যদি টাকা থাকত ও অনুমতি পেতাম তাহলে আমিও এখানে লেখাপড়ার জন্য থেকে যেতাম’ ‘পঁয়ত্রিশ বছর পরশিরোনামে লেখায় শেখ রেহানা লেখেন, ‘ভাগ্যের নির্মম নিষ্ঠুর পরিহাস, আমার বিদেশ থাকার ইচ্ছা পূরণ হলো এমনভাবে যে আব্বা ও মায়ের অনুমতির প্রয়োজন হলো নাপঁচাত্তর থেকে পরবাসেই রয়ে গেলামবাবা-মা ছাড়া নিরাপদ ও আনন্দময় আশ্রয় আর কে দিতে পারে? পরবাসে দিন কাটাতে হলো জীবনযুদ্ধ করেদুঃখ-কষ্ট-বেদনা ও বঞ্চনাসহ কত ধরনের দুর্ভোগ সহ্য করতে হয় তাও জেনে গেছি

জার্মানির ইড়হহ, কধষংঁযব এবং  ঞরনবম থেকে মা, বাবা, বড়ভাই, মেজো ভাই ও ভাবিদের এবং ছোট ভাইকে লেখা চিঠিগুলোর মধ্যে একজন বাঙালী কিশোরী হিসেবে শেখ রেহানা যে আবেগ ও অনুভূতির সঞ্চারণ ঘটিয়েছিলেন তা যে কাউকে নাড়া দেবে, চিঠির মধ্যে শব্দ চয়ন ও অভিব্যক্তিগুলোও হৃদয়ের ভেতর থেকে সাবলীলভাবে উচ্চারিতআমরা সেই চিঠিগুলোর বর্ণনায় খুঁজে পাব পারিবারিক নিবিড় বন্ধন ও বাঙালীর শাশ^ত ভালবাসার নির্মল অভিব্যক্তিশেখ রেহানা ১৯৭৫ সালের ১১ আগস্ট তারিখে বন থেকে তাঁর মাকে লিখেছিলেন,’...পুতুলী অনেক কথা বলেআব্বা ও তুমি কেমন আছ? আমি এখন অনেক কাজ করিতোমার জন্য অনেক জিনিস কিনতে ইচ্ছে করেসুন্দর সুন্দর জিনিস

কামাল ভাইয়ের বিয়ের পর এটাই প্রথম জন্মদিনসুন্দর একটা প্রেজেন্ট দিওদুলাভাইয়ের কাজ করে ১ মার্ক পেয়েছিকালকে বেশি কাজ করলে ৫ মার্ক দেবে১৯৭৫  সালের ৫ আগস্ট তারিখে কধষংঁযব থেকে তিনি তাঁর বাবাকে লিখেছিলেন, ‘আব্বা,আমার সালাম নেবেনআপনি কেমন আছেনআমরা ভাল আছিকধষংঁযব খুব সুন্দর জায়গাকিন্তু অসম্ভব গরমগত রবিবার ব্ল্যাক ফরেস্ট গিয়েছিলামকিন্তু আব্বা জানেন, রাঙ্গামাটি থেকে খুব একটা পার্থক্য বুঝলাম নাএখানকার লোক খুব ভদ্র ও ভালআমি অনেক কাজ করিদুধ খাই, খাবার ঠিকমতো খাইআজকে কামাল ভাইয়ের জন্মদিনদোয়া করবেনআপনার স্নেহের রেহানবড় ভাই কামাল ভাইকে বন থেকে তিনি চিঠি লিখেছিলেন এভাবে, ‘কামাল ভাই, কেমন আছ? আমি ভাল আছিভাবি যা বলে শুনবেদোয়া করস্নেহের রেহানবড় ভাবি সুলতানা কামালকে অনবদ্য ও সাবলীল ভাষায় যে চিঠি তিনি বন থেকে লিখেছিলেন, সেখানেও ছিল একটা সরল সাহিত্যের ছোঁয়া, ছিল ভাবির প্রতি সত্যিকার ভালবাসার বহির্প্রকাশছোট ছোট বাক্যে সুন্দর করে গুছিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘বড় ভাবি, আমার সালাম নিওকেমন আছতোমাকে আগেও চিঠি দিয়েছিকালকে বনে এসেছিএখানে গরম ঢাকার মতোঅবশ্য আজকে বৃষ্টি হয়েছেতোমার পরীক্ষা কেমন হয়েছেতোমার ফটোগুলো সুন্দর উঠেছেআমার ক্যামেরা পুতুলী নষ্ট করে দিয়েছে

তাই ফটো উঠাতে পারছি নামন খুব খারাপআমরা যে জায়গায় থাকি খুবই সুন্দরছোট্ট শহরবাসা থেকে দোকানের রাস্তাটা ঠিকই চিনে ফেলেছিতোমার কথা খুব মনে হয়গতকাল কোলন গিয়েছিলামওটাও খুব সুন্দর শহরখুব ভাল লেগেছে।... আজকে জাহাজে যাবমঙ্গলবার আর্মস্টারডামতারপর যাব ব্রাসেলস এবং তারপর যাব প্যারিস আমার স্বপ্নের দেশদুই বউতে আব্বা-আম্মার সব আদর নিও নানিচে ঠিকানা দিচ্ছি চিঠি দিওআমার সালাম নিওইতি রেহানাবন থেকে শেখ রেহানা তাঁর জামাল ভাই ও ভাবি রোজীকে চিঠি লিখতে ভুলেননিতিনি লেখেন, ‘জামাল ভাই ও রোজী, কালকে বনে এসেছিআজকে কলোনে গিয়েছিলামআজ এখানে বৃষ্টি হয়েছেডলির বিয়েতে কেমন মজা করলেচিঠি দিওচিঠি পেলে খুব খুশি লাগেতোমার বন্ধুদের সাথে কথা হয়েছেতারা তোমার বিয়ের গল্প শুনতে চায়কধষংঁযব ফিরে তোমাকে ফোন করবচিঠি দিওরেহানা

সব শেষে যে চিঠিটির কথা বলব তা ১৯৭৫ সালের ৩ আগস্ট আদরের ছোট ভাই রাসেলকে ট্রিবার্গ থেকে শেখ রেহানা লিখেছিলেন, যে চিঠিতে প্রিয় ছোট ভাইয়ের প্রতি হৃদয়ের ভেতর থেকে উচ্চারিত হয়েছে সুললিত ভালবাসার বহির্প্রকাশতিনি লিখেছিলেন, ‘রাসুমণি, আজকে আমরা ঞরনবম গিয়েছিলামএটা জার্মানির সবচেয়ে বড় ঝর্ণাঅনেক উপরে উঠেছিলামএদের ভাষায় বলে Wasserfalle. আজকে ব্ল্যাক ফরেস্ট গিয়েছিলাম।... পড়াশোনা করোখাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করবেমার কথা শুনবেতোমার জন্য খেলনা কিনবলন্ডনের চেয়ে এখানে অনেক দামছোট্ট ছোট্ট গাড়ি প্রায় দুই পাউন্ড দামতুমি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও পড়াশোনা করোইতি রেহানা আপা

পঁয়ত্রিশ বছর পরশিরোনামে লেখায় শেখ রেহানার লেখার শেষ অংশটুকু পড়লে চোখ থেকে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়েপাহাড়সম ভারী কয়েকটি বাক্যের শোকার্ত উচ্চারণ বুকের ভেতর প্রবলভাবে নাড়া দেয়, হৃদয়ে শুরু হয় রক্ত ক্ষরণতিনি লেখেন, ‘এ চিঠির অক্ষরগুলো যেন আমার মনের সঙ্গে কথা বলেমনে মনে ভাবি, মা কি উত্তর দিতদেশে ফিরলে কত কথা শুনতে চাইতআব্বা কি উপদেশ দিতেনভাই ও ভাবিরা কত মজা করে উত্তর দিতরাসেল খেলনা পেলে কি পরিমাণ খুশি হতো! এখন এ চিঠিগুলো আমার কাছে তাদের স্মৃতিময় সম্পদএ বড় কষ্টের, এ বড় বেদনার১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস ও জঘন্যতম হত্যাকান্ডে বাবা-মা, তিন ভাই, দুই ভাবিসহ অনেক নিকটতম আত্মীয়স্বজনকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা অশ্রুসিক্ত বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন আপনজন ও আত্মীয়স্বজনদের নানা স্মৃতি ও স্মৃতিচিহ্ন ঘিরেসব হারিয়ে এই বেঁচে থাকায় ক্ষণিকের জন্যও কি কোন সুখ আছে? আছে শুধু যন্ত্রণা আর কান্নার ধারাতবুও থেমে নেই শত্রুপক্ষ, প্রতি পদে পদে মৃত্যু আশঙ্কা আর ষড়যন্ত্রের নীলনক্সা

সব আঁধার আর ষড়যন্ত্র ভেদ করে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা আজও বাঙালী জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন আর আমাদের পথ দেখাচ্ছেনসব ভেদাভেদ ভুলে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আমাদের তাঁদের দেখানো পথেই হাঁটতে হবেপ্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ আজ বিশ^ দরবারে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।  বিশেষ করে  করোনা দুর্যোগ এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ^ অর্থনৈতিক মন্দার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশেও কোন কোন মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, সেই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করতে হবেকী পেলাম কী পেলাম না সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার মতো কষ্টের পাথর বুকে চেপে বাংলাদেশকে ষড়যন্ত্র ও দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা

লেখক :  প্রফেসর ও সভাপতি, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]