ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

১৪ দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

এখানে ঘাঁটি বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২৩, ২৪ মে ২০২৪

এখানে ঘাঁটি বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন

স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, তা গত ১৫ বছরে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এরপরও শুনতে হয় কথা বলার স্বাধীনতা নেই। কিন্তু সরকার কারও গলা টিপে ধরেনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

তিনি আরও বলেন, ‘বিজয় ও স্বাধীনতার চেতনা নস্যাৎ করতেই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটানো হয়। তারপর থেকেই দেশটা শুধু পেছাতে থাকে। সরকার জনগণের জন্য কাজ করে, কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই মানুষ এটা বুঝতে পারে।
গ্যাস বিক্রির চুক্তিতে রাজি হননি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শক্তিশালী (যুক্তরাষ্ট্র) দেশটি সেই সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেয়নি। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় বসার মতো দীনতায় ছিলাম না কখনো।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এয়ার বেজ বানাতে দিলে, কারও কারও নির্বাচনে জিততে কোনো সমস্যা নেই। এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রাজি হইনি আমি। বে-অব বেঙ্গলে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ঘাঁটি বানাবে। ভারত মহাসাগরের এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটার ওপর তাদের নজর। এখানে বেজ (ঘাঁটি) বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়? আমি এটা করতে দিচ্ছি না বলেই খারাপ।’
চক্রান্ত এখনো চলমান রয়েছে। তবে জনগণ সঙ্গে রযেছে, তারাই সামনে চলার মূল শক্তি বলে গর্ব করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুদ্রাস্ফীতি সব দেশের মতো বাংলাদেশেও হচ্ছে। একই কথা রিজার্ভেও। রিজার্ভ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কেন না, আপৎকালীন খাদ্য মজুত রয়েছে। এত বেশি আলোচনার কারণে আজ প্রায় সবাই রিজার্ভ নিয়ে কথা বলেন। এই সতর্কতা দেশের জন্য ভালো।
সমবায়ের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ধান-মাছ চাষ হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, সেখানে ছয়বিঘা জমি দিয়েছি আমি। সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে এখন শরীয়তপুরের সবজি। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত অতিক্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।
সবসময় সাধারণ-নির্যাতিতদের পাশে আছেন বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা কবে ফেরত যাবে জানি না। প্রতিদিন সেখানে নতুন-নতুন শিশু জন্ম নিচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ-সংঘাত করতে যাইনি আমরা। আলোচনা চালানো হচ্ছে। তবে মিয়ানমারের নিজেদেরই অবস্থা ভালো না।
উৎপাদনে কোনো সংকট নেই দেশে, তবে ইনফ্লেশন কমানোটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের করণীয় ঠিক করতে আলোচনা হবে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। 
সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জোটনেত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে শরিক দলগুলোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগেরও একাধিক নেতা অংশ নেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন বণ্টন নিয়ে সবশেষ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা। জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে জোট নেতাদের এটিই প্রথম বৈঠক হচ্ছে।
তবে এরই মধ্যে নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিসহ নানা বিষয়ে ১৪ দলে দূরত্ব সৃষ্টির গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি জোটনেত্রীও এ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। এরই মধ্যে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর শেখ হাসিনার ডাকা এ বৈঠককে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলছেন জোট নেতাদের অনেকে।

×