ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

তৃতীয় ধাপের নির্বাচন জমে উঠেছে

জনকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৫, ২৩ মে ২০২৪

তৃতীয় ধাপের নির্বাচন জমে উঠেছে

রাতেও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা

দেশজুড়ে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন জমে উঠেছে। এ উপলক্ষে প্রার্থীরা নিজ এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো।

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারে জমে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ। পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে ঢাকা পড়ছে স্থানীয় হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও পাড়া-মহল্লা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের সমর্থনে বাজানো হচ্ছে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম। স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে মানুষের ভিড়।

অপরদিকে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে দল বেঁধে ভোট চাইছেন কর্মী-সমর্থকরা। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন (কাপ-পিরিচ), কোলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এম মাহবুব উল্লাহ্ কিসমত (দোয়াত-কলম) ও বর্তমান উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান জিঠু (আনারস)।

তিন প্রার্থীই পুরো শ্রীনগর চষে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন কৌশলে প্রচারের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সভা-উঠান বৈঠকে প্রার্থীরা নিজ নিজ বক্তব্যে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। তৃতীয় ধাপের ২৯ মের এই নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রথমে কাপ-পিরিচ ও দোয়াত-কলমের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই মনে করা হলেও আনারস প্রতীকও মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। 
ভোটারদের অনেকেই ধারণা করছেন এখন এ পদে ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
কাপ-পিরিচ প্রতীকের মসিউর রহমান মামুন পুনরায় নির্বাচিত হতে ভোটারদের নানাভাবে আকৃষ্ট করছেন। আর দোয়াত-কলম প্রতীকের এম মাহবুব উল্লাহ কিসমত নতুন প্রার্থী হিসেবে সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন। আর ওয়াহিদুর রহমান জিঠু এই নির্বাচনে নিরব বিপ্লব ঘটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সমর্থন আদায় করে নিচ্ছেন। 
অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান (টিউবওয়েল), মো. কামরুজ্জামান মৃধার (তালা), মাসুম মোল্লা (মাইক) মাহবুব আলম (বই), মো. ইকবাল হোসেন (চশমা), জাকির হোসেন (উড়োজাহাজ) চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে। এ পদে ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে- অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ও মো. কামরুজ্জামান মৃধার সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটের লড়াই হবে দ্বিমুখী। 
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রহেনা বেগম (হাঁস,  মর্জিনা বেগম (ফুটবল), মোসা. শামছুন নাহার সুমি (প্রজাপতি) ও ফিরুজা বেগম (কলস)  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে স্থানীয় ভোট বিশ্লেষকরা মনে করছেন- মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাঁস, ফুটবল ও প্রজাপতি প্রতীকের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে ত্রিমুখী। 
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, উপজেলায় মোট ইউনিয়ন সংখ্যা ১৪টি। মোট ভোট কেন্দ্র ৯৩টি। মোট ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬৯ জন।  ব্যালট  পেপারে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ মে। 

সিরাজদিখান 
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার তিন পদে ২০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২০ প্রার্থীর প্রচারনায় বিশেষ পরিবেশ বিরাজ করছে উপজেলাটিতে। চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ে হবে বলে মনে করছেন এলাকার ভোটবোদ্ধারা।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মইনুল হাসান নাহিদ (মোটরসাইকেল), কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প, বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি  আওলাদ হোসেন মৃধা (আনারস) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবু বক্কর সিদ্দিক (কাপ-পিরিচ) নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল জাদিদ ইরান (দোয়াত-কলম) ও আইনজীবী শমরেশ নাথ (ঘোড়া)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম আবুল কাশেম মিয়া (চশমা), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুল (পালকি), উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন সুমন (মাইক), উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ মনির হোসেন মিলন (গ্যাস সিলিন্ডার), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ এস এম শাহাদাত হোসেন (উড়োজাহাজ), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মামুন হোসেন (বৈদ্যুতিক বাল্ব), বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শামীম শিকদার (টিউবঅয়েল), উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আরাফাত শেখ রাসেল (টিয়া পাখি), উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ওমর আলী (তালা) ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক রাসেল মুন্সি (বই) নির্বাচনে অংশ  নেবেন। 
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাহমিনা আক্তার তুহিন (ফুটবল), মিসেস আয়েশা আক্তার (সেলাই মেশিন), ফারহানা আক্তার লিজা (কলস) আঁখি শাহীন (হাঁস) ও লুৎফুন নাহার খুকুমনি (বৈদ্যুতিক পাখা) ভোটারদের মন জয়ে মাঠ গরম করছেন। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আলা আমিন জানান, সিরাজদিখান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪৬।

বিয়ানীবাজার, সিলেট
শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম বিয়ানীবাজার উপজেলার হাট-বাজার। একদিকে প্রার্থীদের প্রচার, অপরদিকে চলছে ভোটের বিচার বিশ্লেষণ। শেষ পর্যায়ে এসে চেয়ারম্যান পদে ৯ প্রার্থীর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন নেতা। যার মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদধারী নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টেলিফোন প্রতীকের আতাউর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক মোটরসাইকেল প্রতীকের দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনায় আছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হেলিকপ্টার প্রতীকের আবুল কাশেম পল্লব। 
নির্বাচনের শুরুর দিকে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ সময়ে আলোচনায় এগিয়ে আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান টেলিফোন প্রতীকের আতাউর রহমান খান। দলের শীর্ষ সিনিয়র নেতাদের সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনের মূল লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে এসেছেন তিনি।

এ ছাড়াও মূল লড়াইয়ের আলোচনায় থাকা মোটরসাইকেল প্রতীকের দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের মন জয় করতে অবিরাম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের ভোটে তার এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। 
আরেক প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হেলিকপ্টার প্রতীকের আবুল কাশেম পল্লব ফের নির্বাচিত হতে দিন রাত ভোটের মাঠে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন, শেষ মুহূর্তে আলোচনা রয়েছেন তিনিও। নানা হিসেব নিকেশের বেড়াজালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটে চমক দেখাতে পারেন শালিক পাখি মার্কা নিয়ে নির্বাচন করা গৌছ উদ্দিন। 
অপর প্রার্থী দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হলে বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের মানুষের জন্য আমার দরজা খোলা থাকবে। জনগণের ডাকে জনগণের একজন খাদেম হয়ে সব সময় অতীতের ন্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করব। আমি সকলের দোয়া ও ভালোবাসা চাই। 
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল (মোটরসাইকেল প্রতীক), আবুল কাশেম পল্লব (হেলিকপ্টার প্রতীক), আতাউর রহমান খান (টেলিফোন প্রতীক), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (কৈ মাছ প্রতীক), জামাল হোসেন (আনারস প্রতীক), আব্দুল বারী (দোয়াত কলম), গৌছ উদ্দিন (শালিক পাখি), জহির উদ্দিন (ঘোড়া), জাকির হোসেন সুমন (কাপ পিরিচ) নিয়ে নির্বাচন করবেন।

ঈশ্বরদী, পাবনা
আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নানামুখী প্রচার ততই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটছেন প্রার্থীরা।

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহ না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। তাই তারা নিজ নিজ প্রার্থীকে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দলীয় প্রতীক না থাকায় এবার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এরা হলেন ১নং সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার (আনারস প্রতীক), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবুল কালাম আজাদ মিন্টু (মটরসাইকেল প্রতীক) এবং জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী (ঘোড়া প্রতীক)। চেয়ারম্যান পদে জমজমাট প্রচারে আনারস প্রতীকের এমদাদুল হক রানা সরদার ও মটরসাইকেল প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ মিন্টু সক্রিয় থাকায় তাদের মধ্যে লড়াই চলছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।

ঘোড়া প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকীর প্রচার চলছে নীরবে নিভৃতে। অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। এরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহজেবিন শিরিন পিয়া (ফুটবল প্রতীক), বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আতিয়া ফেরদৌস কাকলী (কলস প্রতীক), মুক্তিযোদ্ধা কন্যা সোহানা পারভীন রুনা ( সেলাই মেশিন) ও পারভীন খাতুন (হাঁস প্রতীক) ।

অপর দিকে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান (মাইক), সাইফুল ইসলাম বাবু ম-ল (চশমা), আরিফুল ইসলাম লিটন (টিউবওয়েল), সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য সফিউল আলম বিশ্বাস (তালা), আব্দুর রহমান মিলন (উড়োজাহাজ), মেহেদী হাসান লিখন মোল্লা ( বৈদ্যুতিক বাঘ) ও আব্দুল বারী (টিয়া)। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টারের শহরে পরিণত হয়েছে ঈশ্বরদী।
 
নীলফামারী সদর  
জমে উঠেছে তৃতীয় ধাপের নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচার। প্রতীক বরাদ্দের পর বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে চলছে প্রচার ও জনসংযোগ। পোস্টার টাঙানোর পাশাপাশি চলছে মাইকিং। তবে সুষ্ঠু পরিবেশে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে চান ভোটাররা। উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলার ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে ৬ উপজেলার মধ্যে প্রথম ধাপে দুটি ও দ্বিতীয় ধাপে তিনটি সহ ৫টি উপজেলার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এবার তৃতীয়  ধাপে, আগামী ২৯ মে ভোট অনুষ্ঠিত হবে জেলা সদরে। 
জেলা সদর উপজলা পরিষদের ভোটের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিরোদা রানী রায় জানান,  চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জনসহ মোট ১৩ জন  বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
 চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী- হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান (আনারস), জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তী (ঘোড়া), জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার রায় (হাতুড়ি) ও জাতীয় পার্টির সহযাগী সংগঠন জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির জেলা আহ্বায়ক  তরিকুল ইসলাম (লাঙ্গল)।

সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের ৪ জন হলো সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলী (ফুটবল), বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সান্ত¦না চক্রবর্তী (প্রজাপতি), জেসমিন আক্তার সাথী (কলস) ও  শিউলী আক্তার বানু (হাঁস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন হলো অনিমেষ রায় (টিউবওয়েল), জ্যোতিরময় রায় (টিয়াপাখি), হর্ষবর্ধন রায় ( চশমা) আক্তারুজ্জামান (তালা) ও আরিফ হোসেন (উড়োজাহাজ)।

সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার সামছুল আজম জানান, তৃতীয় ধাপে ব্যালটে ২৯ মে ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন। সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার তিন লাখ ৬৩ হাজার ৮৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৮ ও মহিলা ১ লাখ ৮১ হাজার ১৫৬ জন। ভোটারদের জন্য ১৪১ ভোট কেন্দ্রে ১ হাজার ১৪টি ভোট কক্ষ রাখা হয়েছে।

মঠবাড়িয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
নিজস্ব সংবাদদাতা, মঠবাড়িয়া পিরোজপুর ॥ মঠবাড়িয়ায় ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন ২০২৪ উপলক্ষে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে বুধবার থেকে পৌর শহরের কে,এম লতীফ ইনস্টিটিউশনে চারদিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলছে। এতে প্রায় ২ হাজার ২শ’ এর বেশি প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহাদাৎ হোসেন জানান, তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ প্রশিক্ষণ চলছে। এ কর্মশালায় প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাইয়ূম জানান, আগামী ২৯ মে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

পাইকগাছা  
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনার পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পাইকগাছা সরকারি কলেজ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাচন অফিস এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীনের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নাজমুল হুসাইন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, ওসি ওবাইদুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সামিউল আলম, মনোরঞ্জন ও বজলুর রহমান।

উল্লাপাড়ায় জামানত হারিয়েছেন নয় প্রার্থী
নিজস্ব সংবাদদাতা উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ ॥ উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ তিনটি পদে ১৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ৯ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়। 
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা  গেছে, চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে তিনজনই জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রদত্ত ভোট সংখ্যা ১ লাখ ২২হাজার ৪শ’ ২৮। এর ১৫ শতাংশ ভোট হচ্ছে ১৮ হাজার তিনশ’ ৬৪ টি। যা পাননি তিন প্রার্থী। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম মিল্টন। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকমল হোসেন এবং হেদায়েত আহমেদ। 
ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত হারিয়েছেন শরিফুল ইসলাম, সরোয়ার হোসেন, বই আলমগীর হোসেন ও এসএম জাহিদুজ্জামান কাকন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্ধারিত ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন একা খাতুন ও ঝরনা খাতুন।

×