ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

অটোরিকশা চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ২১:০১, ২০ মে ২০২৪

অটোরিকশা চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিধিমালা তৈরি করে অটোরিকশা চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। 

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি বিধিমালার মাধ্যমে অটোরিকশা চালকদের নিয়মের মধ্যে আনা হবে। তাদের নির্দিষ্ট রাস্তায় চলতে হবে। তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থাও করা হবে। কি গতিতে চলবে তা নির্দিষ্ট করা হবে।’ 

অটোরিকশা চালকরা নিজেদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এসেছে। তিনি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, অটোরিকশা চালকদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তাদের জীবিকার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।’

মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যে একটি বিধিমালার মাধ্যমে এটিকে রেগুলেট করতে হবে। সেই রেগুলেশনে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে দিতে হবে যে এই এলাকার বাইরে তারা চালাতে পারবে না। এরমধ্যে তাদের চালাতে হবে। মহাসড়কে কিংবা বিজি হাব কিংবা সড়কে তারা অটোরিকশা চালাতে পারবেন না, যেতে পারবেন না। কোন কোন সড়কে চলতে পারবে, কী গতিতে তারা যেতে পারবে, সেটা তিনি বলে দিয়েছেন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মহাসড়ক কিংবা বড়ো সড়কে তারা যেতে পারবেন না, সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে সংশোধন কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সড়ক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

অটোরিকশা চালকদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তোমরা আমাকে জানাওনি। তাদের জীবিকার কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি। তাদের জীবিকার ব্যবস্থা না করে তাদের সম্পর্কে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক মনে করেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আমার সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। আমি জানিনি। আমার সাথে তোমাদের কথা বলা উচিত ছিল। তিনি এভাবেই বলেছেন। তাদের জীবিকার ব্যবস্থা না করে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক হয়নি।’

এটি ছাড়াও বাজার কঠোরভাবে মনিটরিং করতে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

গত ১৫ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজধানীর ‘অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়ানো বিপজ্জনক’ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) জানায়, ঢাকা মহানগরীতে ব্যাটারি অথবা মোটরচালিত রিকশা বা ভ্যান এবং রংচটা, জরাজীর্ণ, লক্কড়-ঝক্কড় মোটরযান চালানো বন্ধ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, এই নির্দেশনার পর রোববার থেকে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন অটোরিকশা চালকেরা। এ সময় কালশীর একটি পুলিশ বক্সে আগুনও দেওয়া হয়। সোমবারও রাজধানীর রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন তাঁরা।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা বন্ধের ব্যাপারে নেওয়া সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

এবি

×