ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বাধা

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

​​​​​​​শংকর কুমার দে

প্রকাশিত: ২৩:৪৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিএনপি নেতাকর্মীদের  বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

.

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাধা দানের জন্য বিএনপি-জামায়াত হরতাল-অবরোধ ডেকে সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ঢাকা মহানগর পুলিশের ৫০ থানায় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী ক্যাডারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৩৪ মামলায় অভিযুক্ত হাজার ৮৬৮ জন আসামি বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। বিএনপির হাজার ১৫৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের বাইরে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো প্রায় হাজার জনকে। খুব শীঘ্রই এসব মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে আদালতে। বিএনপি-জামায়াত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাধা দান করতে হরতাল-অবরোধের ডেকে রাজধানী ঢাকায় যেসব অপরাধ সংঘটিত করেছে তার মধ্যে হত্যাকান্ড, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, নৈরাজ্য, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে খবর জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হরতাল-অবরোধ ডেকে সহিংস আগুন সন্ত্রাসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, শামসুজ্জামান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ দলটির বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় ঢাকা মহানগরের নেতা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন বাধাদানের জন্য হরতাল-অবরোগ-অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে সহিংস আগুন সন্ত্রাস করেছে বিএনপি-জামায়াত। ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে খবর জানানো হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অপরাধ বিষয়ক মাসিক সভায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সহিংস আগুন সন্ত্রাসসহ অপরাধের মামলাগুলো তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসিদের মামলার তদন্ত দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের তিন মাসে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় বিএনপি-জামায়াত এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অপরাধ বিষয়ক মাসিক সভায় জানানো হয় যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাধা দানের জন্য যে সহিংস আগুন সন্ত্রাসের অভিযোগে রাজধানীর ৫০ থানায় ২৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা পুলিশের তদন্তাধীন। বিএনপির ডাকে ২৮ অক্টোবরের সহিংস সংঘর্ষে মোট মামলা হয়েছে ৩৬ আসামির সংখ্যা ১৫৪৪। এসব মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে পুলিশ। ডিএমপি সূত্র জানান, ঢাকায় ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সহিংসতার ঘটনায় মোট ৩৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নাম উল্লেখ করে হাজার ৫৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে যার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগকে আসামি করা হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলায় গতকাল গ্রেপ্তার দেখানোর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে পুলিশ হত্যাসহ অন্তত চারটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, শামসুজ্জামান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অনেকে। মামলাগুলোয় পুলিশকে হত্যা হত্যার উদ্দেশে ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়। মামলার বেশির ভাগের বাদী পুলিশের সদস্যরা।

ডিএমপি সূত্র জানান, গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির মহাসাবেশ চলাকালে কাকরাইলে পুলিশের সঙ্গে দলটির কর্মীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ওই সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হক পারভেজকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় সেদিন রাতেই পল্টন থানায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের এসআই মাসুক মিয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়, বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ২৮ অক্টোবর পল্টন থানার কালভার্ট রোডের পূর্বপ্রান্তে বাদীসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বরত ছিলেন। বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিএনপি সহযোগী সংগঠনেরহাজার হাজারনেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা করে। ইটপাটকেলের আঘাতে এডিসি (ডিবি-ওয়ারী জোন) ইলিয়াছ হোসেন, কনস্টেবল আমিরুল হকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হন। সে সময় আমিরুল হকআত্মরক্ষার্থেডিআর টাওয়ারে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে রাস্তার ওপর ফেলে এলোপাতাড়ি ইট, লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। এতে আমিরুল গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। তখন পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমিরুলকে পরে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের একটি হিসাব অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর পল্টনে বিএনপির সমাবেশের দিন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত রাজধানীর ৫০টি থানায় মোট ২৩৪ টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সহিংসতার ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হয় ৩৬টি। এরপর নভেম্বরে ১৩৩টি এবং ডিসেম্বরে ৪১টি মামলা হয়েছে। সব মামলায় নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে হাজার ৮৬৮ জনকে। মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলটির বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় ঢাকা মহানগরের নেতা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে নেওয়ার পর অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

×