ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে লস এন্ড ডেমেজ ফান্ড

কাওসার রহমান, দুবাই থেকে 

প্রকাশিত: ১৬:১২, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে লস এন্ড ডেমেজ ফান্ড

প্রতিবাদ

বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে নবগঠিত লস এন্ড ডেমেজ ফান্ড আশার আলো দেখাচ্ছে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই কার্যকর করা এই তহবিলে অর্থায়নে আশানুরূপ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এই তহবিলে ৭০০ মিলিয়ন বা ৭০ কোটি ডলার জমা পড়েছে। 

যদিও চাহিদার তুলনায় এটি অত্যন্ত নগণ্য। তারপরও গঠনের পর থেকে উন্নত দেশগুলো একে এক এগিয়ে আসছে এই তহবিলে অর্থায়নের ক্ষেত্রে। যা বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। 

নতুন আশা তৈরি করলেও এই তহবিল থেকে অর্থ পেতে বাংলাদেশের আরও অন্তত আট মাস সময়
 লাগবে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এই তহবিল ব্যবহারের মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। এজন্য জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকে এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। 

বাংলাদেশ ইতোধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের লস এন্ড ডেমেজের ক্ষয় ও ক্ষতির নিরুপণের বিষয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করছে। এই সমীক্ষা শেষ হলে জানা যাবে, বাংলাদেশে কোন খাতে কী পরিমান লস এন্ড ডেমেজ বা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয় ও ক্ষতি হচ্ছে। সেটি নিরুপনের পর বাংলাদেশ নবগঠিত লস এন্ড  ডেমেজ তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য ও এলডিসি গ্রুপের লস অ্যান্ড ড্যামেজ সমন্বয়কারী এম হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের কার্যক্রম শুরু হতে কমপক্ষে আরো ৮ মাস সময় দরকার হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে প্রথম সভায় বসবে এই তহবিল পরিচালনায় গঠিত পরিচালনা পরিষদ। আর এই পরিষদই লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রস্তুতির অভাবে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না। তাই শুরু থেকে লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের অর্থ পাওয়ার জন্য দক্ষ জনবল ও কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করতে হবে।  

দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম শেষে গত বছর মিশরের রাজধানী শার্ম আল শেখে ২৭তম জলবায়ু সম্লেলনে ঐতিহসিক লস এন্ড ডেমেজ ফান্ড গঠন করা হয়। ফলে এই অর্থবিহীন এই তহবিলকে কার্যকর করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু এবারের ২৮ তম জলবায়ু সম্মেলনের প্রথম দিনেই এই কঠিক কাজটি সহজ করে দেয় আয়োজক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। 

সম্মেলনের সভাপতি আয়োজক দেশের পরিবেশ মন্ত্রী সুলতান আল জাবের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়ে এই তহবিলকে কার্যকর করার প্রস্তাব করে। প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক এই তহবিলকে কার্যকর করার প্রাস্তব অনুমোদন করেন। ফলে অন্যান্য দেশগুলোও এই তহবিলে অর্থায়নে এগিয়ে আসে।  
এ পর্যন্ত এই তহবিলে ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়েছে। আরব আমিরাতের ১০ কোটি ডলার ছাড়াও জার্মানী ১০ কোটি ডলার, ইটালী ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ফ্রান্স ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যুক্তরাজ্য ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র এক কোটি ৭৫ লাখ ডলার দিয়েছে। অষ্ট্রেলিয়া এই তহবিলে কোন অর্থ প্রদান না করলেও তারা আবার জলবায়ু অর্থায়নে ফিরে এসেছে। দেশটির সাবেক সরকার জলবায়ু অর্থায়নে অষ্ট্রেলিয়াকে প্রত্যাহার করে নিলেও বর্তমান সরকার শুক্রবার প্যাসিফিক দেশগুলোর জন্য ১৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। 

তবে এই অর্থ এখনও প্রত্যাশার চাইতে অনেক কম। লস এন্ড ডেমেজের জন্য প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত দশেগুলোর প্রয়োজন ১০০ বিলিয়ন থেকে ৫৮০ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় অর্থ প্রাপ্তি চাহিদার মাত্র দশমিক ২ শতাংশ। 

বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক আমিনুল হক বলেন, তহবিলে  যে পরিমান অর্থ পাওয়া গেছে তা অতি নগণ্য। আবার এই অর্থ উন্নত দেশগুলো কবে দবে তার সময়সীমা সংক্রান্ত  কোন রূপরেখা নির্ধারণ করেনি। 

তিনি বলেন, লস এন্ড  ডেমেজে অর্থের প্রতিশ্রুতি   দেয়ার কারণে ধনী  দেশগুলো বিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য যে বিশেশায়িত অভিযোজন তহবিলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অর্থ প্রদান করছে না। এবং চলতি কপে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র ২১ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

যা গত বছরের চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ কম। অভিযোজন তহবিলে অর্থ বরাদ্দ না বাড়লে বিপদাপন্ন দেশগুলোর বিপদ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।  

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের আর্থিক ও অ-আর্থিক ক্ষতির জন্য এই তহবিল থেকে অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।

 

এসআর

×