ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০

অংশ নেবে ১০ লাখ শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আগের নিয়মেই

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আগের নিয়মেই

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে এবারও গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে এবারও গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবারের মতো এবারও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ তিন ভাগে চলবে পরীক্ষা। তবে এবারও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট গুচ্ছ পরীক্ষার আওতার বাইরে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বছর এইচএসসিতে পাস করা ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি বছর উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা কেটে গেল। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার একক ভর্তি পরীক্ষা নিতে আগেভাগেই রাষ্ট্রপতির কাছে অধ্যাদেশ জারির সুপারিশ করেছিল ইউজিসি। কিন্তু অধ্যাদেশে জারি না হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে আগের নিয়মেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউজিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, ইউজিসি একক ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছে।

অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অফিস আদেশ ও মন্ত্রণালয়ের ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সে প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত ভালো হলো কী না-এ প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম বৃথা যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুসারে ইউজিসি সব বিশ্ববিদ্যালয়কে একক আওতাভুক্ত করে একটি ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ বিষয়ে কমিটি গঠন করে এবং বিস্তারিত আলোচনা শেষে একটি অধ্যাদেশের খসড়াও তৈরি করেছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে একক ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গতবছরের মতো আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাইরে থাকা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বছর গুচ্ছভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়ও গুচ্ছ ভর্তিতে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দিয়ে নজির স্থাপন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজস্ব সংবাদদাতারা জানান, এই বড় চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবারও নিজস্ব পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে। এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা গুচ্ছ পরীক্ষা নিতে রাজি নয়। তবে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করা হলে বিষয়টি ভিন্ন ছিল।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জনকণ্ঠকে বলেন, একক ভর্তি পরীক্ষার যেসব সুবিধা রয়েছে তেমন অসুবিধাও আছে। একটি মাত্র ভর্তি পরীক্ষায় একটি প্রশ্ন যদি কোনো শিক্ষার্থীর জন্য ভালো না হয়, সে যদি কোনো কারণে ওইদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে কী সে উচ্চশিক্ষা বঞ্চিত হবে? আসলে একক ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে একাধিক গুচ্ছ পরীক্ষা হওয়া উচিত। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেয়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদন ফি কমানোর পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় আলাদা বরাদ্দ দেওয়া কি ঠিক হবে? প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু স্বায়ত্তশাসিত এসব ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীনতাও দেওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন শিক্ষার্থী। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ হাজার ৫৯৫ জন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিল তারা। ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে উদগ্রীব ছিল শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।

×