ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

রোডম্যাপ বাস্তবায়নে মাঠ কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির নির্দেশনা ইসির

জাতীয় নির্বাচনে আসন নয়, জেলাভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১৩, ৩১ মার্চ ২০২৩

জাতীয় নির্বাচনে আসন নয়, জেলাভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সচিবালয়ের মাধ্যমে মাঠ কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সচিবালয়ের মাধ্যমে মাঠ কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোডম্যাপ থেকে যেন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা পিছিয়ে না পড়ে সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব জাহাংগীর আলম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক নয়, জেলাভিত্তিকই রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।
জাহাংগীর আলম বলেন, মাসিক সমন্বয় সভায় ইসির সব কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণও উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন তাদের ঘোষিত রোডম্যাপ থেকে আমরা পিছিয়ে না পরি। এক্ষেত্রে নির্বাচনের ‘আপ টু বটম’ মালামাল ক্রয় থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন পর্যন্ত সব বিষয়ের ওপর তারা রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন কোনো বিষয়ে আমরা পিছিয়ে না থাকি।
জাহাংগীর আলম বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায় থেকে আমরা জানতে চেয়েছি, ব্যালট বক্সগুলো কোথায় আছে, কিভাবে আছে, সেগুলো যাচাই করে তারা আমাদের রিপোর্ট দেবেন। এগুলো বাস্তবিক অর্থেই ইসির অভ্যন্তরীণ কাজ। রোডম্যাপ অনুসারে এ বছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে আগামী বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, নতুন দল নিবন্ধন ও আইন সংশোধনের কাজে হাত দিয়েছে ইসি। বড় এ কাজগুলোর প্রতিটিই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বড় কাজটিও ইতোমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন। 
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আরপিও সংশোধন নিয়ে মন্ত্রিসভার  বৈঠক হয়েছে। সেখানে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। নীতিগত অনুমোদন বলতে যে প্রস্তাবগুলো আছে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয় আরও যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তারপর পরবর্তী সভায় উত্থাপন করবে। কোন্ অংশ বাতিল বা কোন্টা রাখা হবে; সেটা কিন্তু নীতিগত অনুমোদনের সময় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় না।  তবে মিডিয়াতে দু’টি বিষয়ে ভিন্ন রকম প্রতিবেদন এসেছে। একটি জেলায় একজন রিটার্নিং অফিসার থাকে, এখন আসন শব্দটা যোগ করা হয়েছে। কিন্তু মিডিয়াতে প্রতি আসনে একজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আইনের ধারাটা না পড়েই ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে- যদি কোথাও গুরুতর অনিয়মের কারণে নির্বাচন স্থগিত করতে হয়, নির্বাচন কমিশন করতে পারেন, এটা আগে থেকে বলা আছে। এখন বলা হয়েছে, কোনো একটি ফলাফল  তৈরির সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বিবরণীটা কমিশনে পাঠাবে। যদি গুরুতর কোনো অনিয়ম হয় তখন নির্বাচন কমিশন যথাযথ তদন্ত করবে। তদন্তে যদি মনে হয় গুরুতর অপরাধে ফলাফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি, তখন তারা ফলাফল বাতিল করতে পারবেন। 
পাঁচ সিটি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ইসির পরবর্তী বৈঠকে ॥ পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরবর্তী  বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সচিব মো. জাহাংগীর আলম। বৃহস্পতিবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। 
ইসি সচিব জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৫ সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে- গাজীপুর, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল। এদিকে ৫ সিটি নির্বাচনের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, এপ্রিলের প্রথমার্ধেই নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী  বৈঠকে হবে। সেখানেই ভোটের দিনক্ষণ ঠিক হতে পারে।

×