ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০০, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে খুনি, রাজাকার, আল-বদর, যুদ্ধাপরাধী ও গ্রেনেড হামলাকারীরা আর যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য সারাদেশে জনমত সৃষ্টি করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রতিটি ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে, কোনো গুজবে কান দেবেন না।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের ঢালাও সমালোচক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষও জিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তখন কথা বলেছিলেন। এখনো অনেকে আছেন খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের সঙ্গে।
তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র কারবারি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক। খালেদা জিয়াও এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ অপরাধীদের সঙ্গে এখন অনেক জ্ঞানী-গুণীও গণতন্ত্রের কথা বলেন। তারা বুদ্ধিজীবী নন, আসলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। তারা খালেদা-তারেকের সঙ্গে গিয়ে মিলেছেন সরকার উৎখাতের জন্য। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই সমস্ত কাজ যারা করেছে, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা কেন? আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী?
গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই বলে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে। টাকা নেই বলে অনেকে টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়াবারো, তারা চুরি করে খেতে পারবে, সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছে কেউ কেউ। এদের সঙ্গে চোরের সখ্য রয়েছে কি না- সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সোমবার রাতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণবিষয়ক বৈঠক, অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা এবং মঙ্গলবার সকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের কোথাও কোনো সমস্যা নাই। প্রতি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলব, গুজবে কেউ কান দেবেন না।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ছাত্রলীগের কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ফুল, ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় উপহার দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতারা। এরপর ছাত্রলীগের থিম সং পরিবেশন ছাড়াও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট ও বিসিএল কমিউনিটি অ্যাপের উদ্বোধন এবং সম্মেলন উপলক্ষে করা প্রকাশনারও উদ্বোধন করেন। ৩০তম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অসীম কুমার বৈদ্য ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার রেজাউল করিম সুমন পরে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ও দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি যথাক্রমে কাউন্সিলে সাংগঠনিক প্রতিবেদন ও শোক প্রস্তাব পেশ করেন। নিহত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্মেলনে প্রাচীন এই সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী প্রবীণ ও নবীন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল মে, ২০১৮ সালে।
আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার অপপ্রচারের জবাব দিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছিলাম, সেই ডিজিটাল মাধ্যম ভরে গেছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে। আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে বলব, এর উপযুক্ত জবাব সবাইকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, জবাবটা বেশি কিছু না, ওরা (বিএনপি-জামায়াত) যখন আমাদের বিরুদ্ধে যেটা লেখে, তার জবাবে ওদের অতীত অপকর্মটা যদি কমেন্টে ছেড়ে দেওয়া যায়, তাহলেই ওরা ওটা বন্ধ করে দেবে। এটাই হচ্ছে সব থেকে ভালো। ওরা যা বলবে, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে কী করেছে, তাদের অগ্নি-সন্ত্রাস, তাদের খুন, কাকে কাকে মেরেছে, তাদের ভোট চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি- এগুলো তুলে দিলেই যথেষ্ট। আমার মনে হয়, ছাত্রলীগ এই কাজটা করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ সমস্ত মিথ্যে কথা বলে মানুষকে তারা ভাঁওতা দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়। এটা একটা শ্রেণি আছে, তারা এটা করবেই আমি জানি। কারণ, মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করে দিয়েছি, আর সেটাকেই আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগায় তারা। কাজেই এদিকে সকলের বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি, তারা এ দেশের উন্নয়ন কখনোই দেখবে না।

মানুষ সামনের দিকে আগায়, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পেছনে যায়, ভূতের মতো। তারা মনে হয় ভূতের রূপ নিয়েই আসে আমাদের দেশে। আর মানুষের ভোট চুরি করলে মানুষ ছেড়ে দেয় না- এটা খালেদা জিয়ার মনে থাকা উচিত। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়। এ দেশে ভোট চুরি, ভোট কারচুপির কালচার  দিয়েছে জিয়াউর রহমান। ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দিয়ে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। না ব্যালট পাওয়া যায়নি। সব হ্যাঁ ভোট ছিল।
বৈশ্বিক মন্দার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সাশ্রয়ী ও সঞ্চয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক মন্দায় উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। আজকে আমাদের দারিদ্র্যের হার কমে গেছে। মানুষের খাবারের অভাব নেই। প্রচুর পরিমাণে খাবার আছে। আল্লাহর রহমতে উৎপাদনও ভালো হয়েছে। প্রত্যেকটা জিনিস আমরা আগে থেকে লক্ষ্য রাখি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমি ইংল্যান্ডের কথা জানি, সেখানে দোকানে গেলে একটা পরিবার এক প্যাকেটের বেশি ডিম খেতে পারবে না।

একটার বেশি পাউরুটি কিনতে পারবে না। সবকিছুই রেশন। বিদ্যুতের দাম দেড়শ’গুণ বাড়িয়েছে, একটি পরিবার একটি রুমের মধ্যে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হিটার জ্বালিয়ে বসে থাকে। ওই ঠা-ায় হিটার না জ্বালিয়ে তো আর টিকতে পারে না। কাজেই ওভাবে তাদের থাকতে হয়।
উন্নত দেশের এই বাস্তব অবস্থার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেই তুলনায় বাংলাদেশ তো অনেক ভালো অবস্থায় আছে। তারপরও আমি বলব, যখন বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, অর্থাৎ মন্দা দেখা দেয়, তার ধাক্কাটা আমাদের দেশে লাগবেই। কাজেই আমাদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। খাদ্য যেমন উৎপাদন করতে হবে, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

প্রত্যেককে আমি বলব, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সুইচ অফ করতে হবে। মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জারের সুইচ অফ করে দিতে হবে। প্রত্যেককে এভাবে সাশ্রয়ী হতে হবে। আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা, সেই ধাক্কা যেন বাংলাদেশে না লাগে। এদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।
বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নের নামে বিএনপির মনোনয়ন বার্ণিজ্যের কথা উল্লেখ করে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে না পারায় ওই সময় ওই দলটির দুই সিনিয়র নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও মোর্শেদ খানের মনোনয়ন না পাওয়ার কথাও সম্মেলনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য বিএনপি নিজ দলের নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও মোর্শেদ খানের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় বিএনপির ওই নেতারা মনোনয়ন পাননি। তারা নিজেরাই আমার কাছে এসে এ কথা জানিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দেশটাকে এমন অবস্থা বানিয়েছিল যেন, জরুরি অবস্থা (ইমারজেন্সি) ঘোষণা হয়। আর সেই ইমারজেন্সিতেও যারা এসেছিলেন- প্রেসিডেন্ট ছিল বিএনপির, প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন, মাইনুদ্দীন সবই বিএনপির সৃষ্টি। ক্ষমতা দখল করে তারা কিন্তু প্রথমে গ্রেপ্তার করল আমাকে, খালেদা জিয়াকে না। এটাই হচ্ছে আশ্চর্যের বিষয়। কারণ, আমি তাদের কিছু কাজের প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি সত্য কথা বলতে কখনো ভয় পাই না।
তিনি বলেন, তাদের (জরুরি অবস্থার তত্ত্বাবধায়ক সরকার) হাতেই মামলা, সেই মামলায় এরা (খালেদা জিয়া-তারেক রহমান) সাজা পেয়েছে। খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা বিদেশ থেকে এসেছিল। একটি টাকাও এতিমখানায় যায়নি, সব টাকাই নিজে রেখে দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কিন্তু আমার প্রশ্ন, আমাদের অনেক জ্ঞানী-গুণী বিএনপির সঙ্গে হাত মেলায়, অনেক তত্ত্বকথা শোনায়, গণতন্ত্রের ছবক দেয়, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়।
প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা নিজেদের বুদ্ধিজীবী বলে। বুদ্ধিজীবী না আসলে এরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। তারা একটা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নেতা মানে যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে, মানি লন্ডারিং করেছে, অর্থ পাচার করেছে, তাদের সঙ্গে জড়ো হয়েছে সরকার উৎখাতের জন্য।

খালেদা জিয়াকে আমরা উৎখাত করেছি, এরশাদকে উৎখাত করেছি। জিয়াকেও উৎখাত আমরা করতে পারতাম। আন্দোলনটা গড়ে তোলার আগেই অক্কা পেল, নিজের লোকদের হাতেই মারা গেল। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই সমস্ত কাজ যারা করেছে, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা কেন?
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল জনগণের রুদ্ররোষে। এটা বিএনপির জানা দরকার, মনে রাখা দরকার। জনগণের ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে  দেয় না। জনগণও জানে কিভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হয়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।

আর বিএনপি নির্বাচনে জিতবে কিভাবে- ২০১৮ সালের নির্বাচনে এক সিটে যদি তিনজন করে মনোনয়ন দেয়। এখানে ফখরুল একজনকে মনোনয়ন দেয়, রিজভী একজনকে দেয়, আর লন্ডন থেকে তারেক দেয় আরেক জনকে। যে যত টাকা পায়, সে ততটা মনোনয়ন দেয়। সেখানে হলো টাকার খেলা। তারপরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বলে আমাদের নির্বাচন করতে দিল না।
সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির নেতা অন্তত দুইজন আমার কাছে এসে নালিশ করে গেছেন। সিলেটের ইনাম আহমেদ চৌধুরী এসে বললেন, আমার কাছে টাকা চেয়েছে তারেক জিয়া, আমি দিতে পারিনি। তাই আমার মনোনয়ন বাতিল করে যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। মোর্শেদ খান তিনি নিজে এসে বলেছেন, তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি এ টাকা দিতে পারব না। এর জন্য মনোনয়ন ক্যানসেল (বাতিল)। এই হলো তাদের ২০১৮-এর নির্বাচন। এটা আমাদের দেশের যারা বুদ্ধিজীবী তারা অনেকে ভুলেই গেছেন এ কথাগুলো লিখতে।
শেখ হাসিনা বলেন, ওইভাবে নির্বাচন করে নির্বাচনে জেতা যায় না, এটা হলো বাস্তবতা। সকালে একজনের নাম দেয়, দুপুরে আরেকটা নাম দেয়, বিকেলে আরেকটা নাম যায়। এইভাবেই হলো তাদের ইলেকশন, যে ঢাল কড়ি, মাখ তেল। যে টাকা দেবে পেয়ে যাবে। যে দলের এই অবস্থা, তারা গণতন্ত্র আবার উদ্ধার করবে! যাদের জন্মই হয়নি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে, জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে। তবে এটা ঠিক, সেই দল (বিএনপি) কিছু রাজনীতি শিখেছে আমাদের কাছে যৌথ আন্দোলন করে। কারণ, এরশাদবিরোধী আন্দোলন যখন আমরা করি, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কিছু শিখেছে। এটা হলো বাস্তব কথা।
ছাত্রদলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার পেটুয়া বাহিনী সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। ঢাবিতে রাতের অন্ধকারে ভিসিকে সরিয়ে নতুন আরেকজনকে বসিয়ে দিয়ে ভিসির পদটাও দখল করে নেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকসহ বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করে।

তাদের অত্যাচার-নির্যাতনে সারাদেশ ছিল নির্যাতিত। শুধু ক্ষমতায় থাকলেই নয়, ক্ষমতার বাইরে থেকেও অগ্নি-সন্ত্রাসের কথা সবার জানা। ২০১৩-২০১৪ সালে প্রায় তিন হাজার মানুষকে দগ্ধ করে তারা। পাঁচশ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। বাস-লঞ্চ-রেল কোনো কিছুই তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
তিনি বলেন, বিএনপির কাজই হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট’- এর প্রতিবাদে আমি ছাত্রলীগের হাতে বই-খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, শিক্ষা শুধু নিজেরাই গ্রহণ করবে না, গ্রামে গিয়ে নিরক্ষর মানুষকে শিক্ষা দেবে। তারা সেটিই করেছে। আমাকে রিপোর্টও দিয়েছে। আমাদের পেটুয়া বাহিনী লাগে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ৩৫ লাখ মানুষকে ঘর করে দিয়েছে এবং জাতির পিতার এই বাংলাদেশে কেউ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান এবং তাদের বৃত্তান্ত দিলে সরকার তাদের পুনর্বাসন করবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতির পিতা সোনার বাংলাদেশ গড়তে যে সোনার মানুষ চেয়েছিলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই সেই সোনার মানুষ হয়ে উঠবে।
সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে লেখাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, লেখাপড়া শিখে এ দেশের উপযুক্ত নাগরিক হতে হবে যেন, বাংলাদেশের এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকে। আমি চাই, বাংলাদেশে আমাদের যারা নেতাকর্মী, তারা সেইভাবে গড়ে উঠবে যেন এই দেশের স্বাধীনতার চেতনা কেউ মুছে ফেলতে না পারে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে না পারে, খুনি, রাজাকার, আল-বদর, যুদ্ধাপরাধী এরা যেন কোনোদিন এই দেশে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। সেইভাবেই জনমত সৃষ্টি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে কাজ করতে গেলে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানবশক্তি দরকার। কাজেই আমাদের এই যুবসমাজ যারা আমাদের ভবিষ্যৎ, তারাই আমার ২০৪১-এ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক। কাজেই তাদেরকে আমরা দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। তারা প্রযুক্তি এবং কারিগরিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হবে এবং আমাদের আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যে যাই করুক না কেন, লেখাপড়াটা শিখতে হবে। লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে হবে।
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দোয়া ও আশীর্বাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেই যারা মেধাবী, তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা যেমন নিজেদের করতে হবে, কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে, সেখানে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা দরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনীতিও যেমন দরকার, আবার সেইভাবে আমাদের প্রশাসন বা কারিগরি সব ধরনের শিক্ষার দরকার রয়েছে।
শেখ হাসিনা জাতির পিতার বক্তব্য ‘আমাদের ইতিহাস ছাত্রলীগের ইতিহাস’ উদ্ধৃত করে বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক প্রতিটি আন্দোলনে শহীদদের তালিকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীই বেশি। প্রতিটি সংগ্রামেই ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে। আগামী দিনেও তারা বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে- এই আশাই করি।

তিনি করোনাভাইরাস মহামারির রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেলসহ সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

monarchmart
monarchmart