ছবি: জনকণ্ঠ
দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার স্বামী পরিত্যক্তা দুই সন্তানের জননী সেলিনা আক্তারের। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বসতঘর পেয়ে নতুন আশার আলো দেখছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ির পরিত্যক্ত ভিটায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছিলেন সেলিনা আক্তার। ঘরটি এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, সেখানে বসবাস করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভাব-অনটনের কারণে বড় ছেলে আপন শেখ পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকা নির্বাহে নেমে পড়ে, আর ছোট সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল সেলিনার।
একটি বসতঘরের আশায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও অনেকেই পাশে দাঁড়াননি। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে সেলিনার করুণ জীবনচিত্র।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেনের উদ্যোগে সেলিনা আক্তারকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ঘরটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান খান পিকলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসন থাকবে।”
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত সেলিনা আক্তার বলেন, “এতদিন অনেক কষ্ট করেছি। এখন অন্তত বাচ্চাদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারব।”
এলাকাবাসীও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
এ.এইচ








