মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। এর প্রভাব হিসেবে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ‘গন্তব্যহীন ফ্লাইট’—অর্থাৎ যেসব ফ্লাইট নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝ আকাশ থেকেই ফিরে আসছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই ধরনের ঘটনা এখন ক্রমেই বাড়ছে।
সম্প্রতি এমিরেটস-এর লন্ডন থেকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইট মাঝপথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। লন্ডন থেকে ছেড়ে যাওয়া ওই ফ্লাইটটি সৌদি আকাশসীমায় থাকাকালে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার তথ্য পেয়ে ফিরে যায়। প্রায় ৯ হাজার ১০০ কিলোমিটার উড়াল শেষে এটি আবার গ্যাটউইক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করে, যা এই ধরনের ‘গন্তব্যহীন’ যাত্রার একটি বড় উদাহরণ।
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এও। ইরানি ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অন্তত ৩০টি ফ্লাইট মাঝপথে ঘুরে যেতে বা বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে আবার যাত্রার শুরুর শহর বা অন্য কোথাও যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় অংশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কাতার এয়ারওয়েজ এবং ইতিহাদ এয়ারওয়েজ-এর মতো বড় এয়ারলাইনগুলো সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু রাখলেও নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে হঠাৎ রুট পরিবর্তন বা ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা এখনো ঘটছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৩০ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে শুধু এমিরেটসই দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতা শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক বিমান শিল্প এবং অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
এ.এইচ








