দীর্ঘদিন ধরে কোনো খনন কার্যক্রম না হওয়ায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের একসময়ের খরস্রোতা মনাই নদী এখন প্রায় খালে পরিণত হয়েছে। পলি জমে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়ে নদীটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত খনন না করা হলে অচিরেই নদীটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত মনাই নদী একসময় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং নৌপথে যোগাযোগের জন্য এই নদী ছিল স্থানীয়দের প্রধান ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নদীটির তলদেশে পলি জমা ও খননের অভাবে বর্তমানে নদীর অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, মনাই নদীর তীরবর্তী বংশীকুন্ডা অঞ্চলে প্রায় বারোশ বছর আগে জনবসতি গড়ে ওঠে। নদীকে কেন্দ্র করেই এখানে গড়ে ওঠে কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানি মূলত উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের খাসিয়া নদীসহ আশপাশের নদ-নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মধ্যনগরের হাওরাঞ্চলে প্রবেশ করে। সেই প্রবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল মনাই নদী।
কিন্তু বর্তমানে নদীটির অধিকাংশ স্থানে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানির প্রবাহ কমে গিয়ে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় পানির উৎসও কমে গেছে।
এর প্রভাব পড়েছে নদীতীরবর্তী মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। মনাই নদীর তীরবর্তী বংশীকুন্ডা, ঘাসী, সানুয়া, হাটপাঠন, বাসাউড়া, বাট্টা, বীরসিংহপাড়া, দক্ষিণউড়া, নোয়াগাঁও, হামিদপুর, মির্জাপুর ও বুড়িপত্তনসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বর্তমানে গৃহস্থালি কাজ, গবাদিপশু ধোয়া এবং দৈনন্দিন গোসলসহ নানাবিধ কাজে পানির সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, একসময় এই নদীতে সারাবছরই পানি থাকত এবং মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু এখন অধিকাংশ সময় নদীর অনেক অংশ শুকনো থাকে। এতে নদীকেন্দ্রিক জীবিকা ও পরিবেশ দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন দ্রুত মনাই নদী খনন এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঐতিহ্যবাহী এই নদীটি অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে এবং এর সঙ্গে হারিয়ে যাবে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ভারসাম্যও।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, মধ্যনগরের মনাই নদীটি ঘাসী নদী নামে সমন্বিত ড্রেজিং প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই নদীটির খননকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
নোভা








