দেশের বাজারে রুপার দামে টানা পতন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসে একাধিকবার সমন্বয়ের মধ্যে কয়েক দফা দাম কমানো হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ টানা তিন দফায় মোট ৯৯২ টাকা কমেছে রুপার দাম। সর্বশেষ সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ রুপার দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে এখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়।
তবে এই দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে ১৪ মার্চও রুপার দাম কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২৯২ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৭৩২ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ২৮ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। তুলনামূলকভাবে গত বছর ১৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে দাম বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
অন্যদিকে, স্বর্ণের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাজুস ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৪৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার বেড়েছে এবং ১৮ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এ.এইচ








