ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

ঈদে টানা ব্যাংক বন্ধ, টাকা তুলবেন কীভাবে

প্রকাশিত: ১২:৫১, ১৯ মার্চ ২০২৬

ঈদে টানা ব্যাংক বন্ধ, টাকা তুলবেন কীভাবে

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার টানা সাত দিনের ছুটিতে বন্ধ থাকবে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এতে লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকলেও বিকল্প ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই টাকা তোলা, পাঠানো এবং কেনাকাটার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

ছুটির সময় নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা থাকবে এটিএম বুথ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ওপর। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তোলা যাবে, পাশাপাশি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে কার্ড দিয়ে কেনাকাটাও করা যাবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএস সেবাগুলোও এই সময়ে সচল থাকবে, ফলে জরুরি লেনদেনে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তবে দীর্ঘ ছুটিতে অনেক সময় এটিএম বুথে নগদ টাকার ঘাটতি দেখা যায়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার পাশাপাশি পিওএস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং এমএফএস সেবাগুলো নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বলা হয়েছে, যাতে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানো যায়।

বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এটিএম কার্ড ব্যবহার প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে, ফলে অধিকাংশ গ্রাহকের কাছেই কার্ড রয়েছে। শুধু এটিএম নয়, এখন অনেক ব্যাংক ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন (সিআরএম) চালু করেছে, যেখানে টাকা তোলার পাশাপাশি জমাও দেওয়া যায়। পাশাপাশি কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি কেনাকাটা করার সুবিধাও থাকছে।

সারা দেশে এখন ১২ হাজারের বেশি এটিএম বুথ, ৮ হাজারের বেশি সিআরএম এবং প্রায় দেড় লাখ পিওএস মেশিন রয়েছে। ব্যাংকগুলো মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় বড় একটি জনগোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে, যার ফলে ছুটির মধ্যেও লেনদেন চালু রাখা সহজ হচ্ছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমেও এখন দ্রুত টাকা পাঠানো সম্ভব। এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠাতে পারছেন। বর্তমানে এই সেবার গ্রাহক সংখ্যা এক কোটিরও বেশি, এবং লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ যেমন সেলফিন, নেক্সাস পে, আস্থা, সিটিটাচ, গো প্লাস, স্কাই ব্যাংকিং এবং এমটিবি নিও ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএস সেবাগুলোও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সেবার মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন করা যাচ্ছে, এবং ঈদের ছুটিতেও এজেন্টদের কার্যক্রম চালু থাকবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলেও বিকল্প ডিজিটাল ও কার্ডভিত্তিক সেবার কারণে ঈদের ছুটিতে আর্থিক লেনদেন থেমে থাকবে না। একটু পরিকল্পনা করে চললে এই সময়েও স্বাভাবিকভাবে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব।

এ.এইচ

×