ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

আইনের কঠোর পরিপালন না হলে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে: মেয়র

জবি সংবাদদাতা 

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ১৭ আগস্ট ২০২২

আইনের কঠোর পরিপালন না হলে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে: মেয়র

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস 

সেবা দানকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে আইনের কঠোর পরিপালন না করলে পুরান ঢাকায় রাসায়নিক কারখানা ও গুদামে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার (১৭ অগাস্ট) রাজধানীর লালবাগস্থ দেবীদাস ঘাট লেনে গত সোমবার সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এ মন্তব্য করেন।    

মেয়র বলেন, "এটি আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। আসলে এটি (যেখানে খাবার হোটেল ও পলিথিন কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে) একটি ওয়াক্ফ এস্টেট। এটির কোনও বাণিজ্য অনুমতি (ট্রেড লাইসেন্স) নেই, এই স্থাপনার কোনও বৈধতা নেই। সেখানে রেঁস্তোরা করেছে, কারখানা করেছে। 

কিন্তু আমরা বাণিজ্য অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও সেখানে কিভাবে গ্যাসের সংযোগ পেল, বিদ্যুতের সংযোগ পেল? এ বিষয়গুলোতে আসলে সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এখানে আইনকে কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে এরকম দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।"

সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা দক্ষিণ করপোরেশন থেকে যথার্থভাবে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা হলেও এখনও সেখানে বেআইনিভাবে রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলো পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র তাপস বলেন, "আমরা কিন্তু সেই দীর্ঘ ২০১৮ সালের পর থেকে এখানে কোনও ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছিনা। তারপরেও আপনারা দেখেছেন, এখানে অবৈধভাবে, বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে কারখানা করেছে, রেস্তোরাঁ করেছে। 

এগুলো কিন্তু আসলে সবই অনিয়মতান্ত্রিক, বেআইনি। এরই মাঝে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে ১৯২৪টি রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা চিহ্নিত করেছি এবং তা প্রেরণ করা হয়েছে।"  

এ বছরের মধ্যে ৫০০টি কারখানা ও গুদাম স্থানান্তর করার তথ্য অবগত করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, "রাসায়নিক কারখানা ও গুদামঘরগুলোর স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলে পাঁচশোটির মত গুদামঘর, কারখানা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে এবং সেটা এ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদেরকে সেভাবেই জানানো হয়েছে। এগুলোর সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তর প্রক্রিয়া না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমরা মুক্তি পাব না। 

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দুঃখজনকভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ জন মানুষ পুড়ে মারা গেছে। আসলে সকলের বোধোদয় জাগ্রত না হলে, অবৈধভাবে এই কার্যক্রম চলমান থাকলে তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে না। সেজন্য এসব বেআইনি ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।"

বাণিজ্য অনুমতি না থাকলেও বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সংযোগ কিভাবে দেওয়া হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, "আমাদের তরফ থেকে আমরা বাণিজ্য অনুমতি বন্ধ করে রেখেছি। অন্য সংস্থারগুলোর তো এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত যে, তারা বাণিজ্য অনুমতি ছাড়া কিভাবে এখানে গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে? আমরা জানি যে, ঢাকা শহরে বিভিন্নভাবে অবৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ পেয়ে যায়। এটাও হয়তোবা খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে যে, অবৈধভাবে এই সংযোগ নিয়েছে। 

এগুলো যদি আরও গভীরভাবে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা না হয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে এ রকম দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। প্রত্যেক বছরে কিন্তু দেখছি এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধুমাত্র নিমতলী বা চুড়িহাট্টায় নয়। প্রত্যেক বছরই কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটছে।" 

এরপরে ঢাদসিক মেয়র আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে চলমান পুনঃখনন কার্যক্রম ও নিউ মার্কেট সংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন। 
          
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দর আলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন, অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, কাউন্সিলদের মধ্যে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আ স ম ফেরদৌস আলম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নুরে আলম, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সাইদুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডসমূহের মহিলা কাউন্সিলবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।