ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন চমক

প্রকাশিত: ০৬:০৫, ১১ মার্চ ২০১৭

পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন চমক

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মাওয়া থেকে ফিরে ॥ পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞে নতুন চমক সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। একযোগে পাঁচটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনা ঘিরে চলছে হুলস্থুল কাজ। পদ্মার কর্মযজ্ঞ দেখতে দেশী-বিদেশী অনেকেই এখন প্রকল্প এলাকায় আসছেন। সরেজমিন বৃহৎ এই প্রকল্পটি দেখে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছেন। শুক্রবার পদ্মা সেতু পরিদর্শনে এসেছিল বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূতসহ ১১ সদস্যের একটি দল। তারা দিনভর সেতুর কর্মযজ্ঞ ঘুরে দেখে। উত্তাল এই পদ্মায় সেতু তৈরির কাজ দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে। বিকেলে আবার ঢাকায় ফিরে যায়। পদ্মায় বেজ গ্রাউন্ড সমস্যার সমাধানের পর এখন হরদম পাইল স্থাপন চলছে। এদিকে বুধবার থেকে প্রায় এক বছর পর আবার মাওয়া প্রান্তে শুরু হয়েছে পাইল স্থাপন। পাঁচ নম্বর পিলারে দুটি পাইল ড্রাইভ করা হয়ে গেছে। আরও একটির ড্রাইভ চলছে। পাশে চার নম্বর পিলারেও পাইল ড্রাইভের প্রস্তুতি চলছে। ওপারে জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের (সংযোগ সেতু) ৬০ পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। এই ভায়াডাক্টের ১৯৩ পাইলের বাকিগুলো স্থাপনে দিনরাত কাজ চলছে। মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে। এদিকে জাজিরা প্রান্তে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ নম্বর পিলারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঁচটি স্প্যান স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজে বিশেষ গতি আনা হয়েছে। পাঁচটি স্প্যান স্থান করলে সেতুর ৭শ’ ৫০ মিটার দৃশ্যমান হবে। ইতোমধ্যেই ৩৭ নম্বর পিলারের ২টি পাইল কংক্রিটিং হয়ে গেছে। আরেকটির কংক্রিটিং চলছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে পুরোদমে। ৩৭, ৩৮, ৩৯ নম্বর পিলারে ছয়টি করেই পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। ৪০ নম্বর পিলারে হয়েছে ৫টি পাইল, ৪১ নম্বরে ৪টি এবং ট্রানজেকশন পিলার ৪২ নম্বরেও ৪টি পাইল স্থাপন হয়েছে। ৪২ নম্বর পিলারের আরেকটি পিলার স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তিন মিটার ব্যাসার্ধের এবং ৮০ মিটার গভীর কংক্রিটিং পাইলগুলো স্থাপন হচ্ছে ৪২ নম্বর পিলারে। এ পর্যন্ত ৪২ নম্বরের ৪টি পাইলসহ মূল সেতুতে ৫০টি পাইল স্থাপন হয়েছে। এখন প্রতিদিনই পাইল স্থাপনের কাজ চলছে। মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তে চলছে এই পাইল স্থাপনের কাজ। দু’প্রান্তের দুটি ১ ও ৪২ নম্বর পিলার বাদে ৪০ পিলারে ২৪০টি পাইল বসবে। এদিকে ১৫০ মিটার দীর্ঘ সুপার স্ট্রাকচারের স্প্যান তৈরির জোড়া লাগানোর কাজ নিয়ে মাওয়ার কুমারভোগের ওয়ার্কশপ ব্যস্ত সময় পার করছে। পিলার তৈরি বিলম্বের কারণে কিছু মন্থর থাকলেও এখন পুরোদমে এই জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই প্রথম স্প্যানটি জোড়া লাগানোর পর লোড টেস্ট করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আরও দুটি স্প্যান জোড়া লাগানোর কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই ওয়ার্কশপে ৬টি স্প্যান রয়েছে। এছাড়া চীন থেকে মাওয়ার পথে সমুদ্রে রয়েছে আরও দুটি স্প্যান। আর চীনে তৈরি করা রয়েছে ১৮টি স্প্যান। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্প্যান তৈরির তাগিদ দেয়া হয়েছে। কারণ পাইল স্থাপনে নতুন গতি সৃষ্টি হওয়ায় মূল সেতুর পুরো কাজেই বিশেষ গতি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পাইলের টিউবও তৈরি রয়েছে বিপুল পরিমাণ। পদ্মা সেতুর জন্য প্রয়োজন ২৪০টি টিউব; এর মধ্যে ১৯২টির মতো টিউব তৈরি হয়ে গেছে। শুক্রবার পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেনÑ গড়ে সেতুর অগ্রগতি এখন ৪০ শতাংশ। আগামী জুলাইয়ে কাজের অগ্রগতিতে বড় অঙ্ক যুক্ত হলে সেতুর চেহারা সকলের কাছে দৃশ্যমান হবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু কাজে বিশ্বের বিশেষজ্ঞরাও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। পাইল স্থাপন করতে গিয়ে পদ্মার তলদেশের মাটির স্তর এবং কংক্রিটিংয়ে নানা রকমের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। পরে নতুন নতুন বিশেষজ্ঞরা এসে তার সমাধান দেন। এখানে যেসব প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হচ্ছে তা বাংলাদেশে যেমন প্রথম; বিশ্বের অনেক দেশেই এসব প্রযুক্তি তথা পদ্ধতি ব্যবহৃতই হয়নি।