ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

সহযোগিতা করছে স্বজন ও আরএসও ক্যাডাররা

রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে, মিশে যাচ্ছে লোকালয়ে

প্রকাশিত: ০৫:২১, ২২ ডিসেম্বর ২০১৬

রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে, মিশে যাচ্ছে লোকালয়ে

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কিছু কিছু পরিবার ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে শহরে। কাজের সন্ধানের নামে বস্তি থেকে ওরা কৌশলে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শহরে। সড়কপথে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নব্য কৌশল অবলম্বন করছে ওইসব রোহিঙ্গা। এদেশের নানা স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ার তাদের আরও একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের আবার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত উদ্যোগকে ফাঁকি দেয়া। রোহিঙ্গাদের মুখের আদলের আকৃতি ও ভাষা অনেকটা স্থানীয় লোকদের ন্যায় হওয়ায় সহজে এদের চেনা দায় বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও বিজিবি সদস্য। এ কারণে ওরা সহজে মিশে যাচ্ছে লোকালয়ে। আর এদের স্থানান্তর হওয়ার পেছনে সহযোগিতা করছে আগে থেকে শহরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্বজন ও আরএসও ক্যাডার। সূত্র জানায়, মিয়ানমারে সহিংস ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেশটিতে বসবাসকারী নিতান্ত দরিদ্র রোহিঙ্গা পরিবারগুলো পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। মিয়ানমারে বেকার, খালে-ঝিলে জাল ফেলে মাছ ধরা, ধানকাটা, চিংড়ি প্রজেক্টে মাসিক ও দিনমজুর হিসেবে কাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করত, মূলত ওইসব রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে জমির মালিক, ধনাঢ্য লোকজন ও ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা পরিবার কেউই বাংলাদেশে পালিয়ে আসেনি। কুতুপালং বস্তিতে অবস্থান নেয়া অনুপ্রবেশকারী আবদুল জব্বার (৪৫), বাড়ি উত্তর মংডুর জাম্বুনিয়া পাড়ায়। তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে টেকনাফের হোয়াইকং সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। মিয়ানমার থেকে জমিদার শ্রেণীর লোকজন কেন আসেনি জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, যাদের জায়গা-জমির মায়া আছে, তারা কি জন্য দেশ ত্যাগ করবে? ওইসব প্রভাবশালী সেখানকার প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে ভাব রেখে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সদস্যদের উপঢৌকন দিতে আমাদের সামর্থ্য নেই। বিজিপি আমাদের ধরে নিয়ে প্রায়ই বিনা মজুরিতে বিভিন্ন কাজ করায়। যে সব ঘরবাড়ি জালিয়ে দেয়া হয়েছে, সেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও কিছু কিছু বাড়ি পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে প্রভাবশালীরা সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করতে পারবে। আমাদের ঘর তৈরি করার জন্য টাকা কে দেবে। এ জন্য মিয়ানমারে আর ফিরে না যেতে এবং মগের (রাখাইন) অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে চলে এসেছি। একই বস্তিতে অবস্থান নেয়া উত্তর মংডুর গৌজিবিলের বাসিন্দা মৌলভী আবু হায়াত (৪৮)। সেখানে মসজিদে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি বলেন, আপাতত নিজ দেশে ভালই ছিলাম। সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে অন্তত ২০ দিন আগে অন্যদের সঙ্গে টেকনাফের উনিচপ্রাং সীমান্ত দিয়ে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে পালিয়ে আসি। তিনি জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ তাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসীরা (আরএসও) সেখানে (মংডু) গেছে বলে দাবি করলেও তা সত্য নয়। মিয়ানমারের একাধিক পাহাড়ে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। সাত নৌকা ফেরত ॥ টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে রোহিঙ্গাবাহী ৭টি নৌকা ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি। বুধবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত নাফ নদীর ৩ পয়েন্ট দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, প্রতিটি নৌকায় ১০ থেকে ১৫ জন করে রোহিঙ্গা ছিল।