ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

নিরাপদ খাদ্যের জন্য শাহবাগে এক নারীর যুদ্ধ

সংস্কৃতি প্রতিবোদক

প্রকাশিত: ২০:১৩, ৫ মার্চ ২০২৬

নিরাপদ খাদ্যের জন্য শাহবাগে এক নারীর যুদ্ধ

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ

রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে প্রতি শুক্রবার দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সেখানে নিয়মিত অবস্থান করছেন মেহেরুন নেছা শাহেলী। তাঁর ভাষায়, “খাদ্য নিয়ে এই উদ্যোগ আমার কাছে এক ধরনের যুদ্ধ—মানুষকে সচেতন করার যুদ্ধ।”

প্রায় সাত বছর ধরে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে চলেছেন এই সাহসী নারী। তাঁর স্বপ্ন—ভেজালে নিমজ্জিত বাংলার আদি খাদ্য ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা। তিনি মনে করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি খাদ্য খাতেই বিষের উপস্থিতি রয়েছে; সিন্ডিকেট ও অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহারে ফসল থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব বিষাক্ত খাদ্য মানবদেহের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর, বাড়াচ্ছে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ।

ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্সে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে কলেজে ইংরেজির প্রভাষক পদে যোগ দিয়েছিলেন শাহেলী। তবে নিজের ইচ্ছায় সেই আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, “এসি রুমে বসে অন্যের চাকরি করার চেয়ে রোদে-ঘামে ভিজে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করাই বেশি আনন্দের।”

তিনি জানান, তাঁর বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক হলেও পারিবারিক সুযোগ-সুবিধার পথে না গিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক সংগ্রামের পথ। “বরাবরই আমি স্রোতের বিপরীতে হাঁটি,” বলেন শাহেলী।

দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৪-১৫ লাখের কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অনিরাপদ ও ভেজাল খাদ্য এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। শুধু বর্তমান প্রজন্মই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে। বাড়ছে পুরুষ ও নারী বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি।

শাহেলীর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক খাদ্য সংগ্রহ ও উৎপাদন করছেন নিজস্ব তত্ত্বাবধানে। যেমন—
পাবনার খাঁটি ঘি
যশোরের খেজুরের গুড়
প্রাচীন পদ্ধতিতে গরুর ঘানির সরিষার তেল
চাকের কাঁচা মধু
আদি লাল চাল

এসব পণ্য দক্ষ কর্মীদের সহায়তায় উৎপাদন ও সংগ্রহ করে তিনি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বলে জানান।

তবে শুধু পণ্য উৎপাদনই নয়, সচেতনতা সৃষ্টি করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। শাহবাগ চত্বরে প্রতি শুক্রবার চলমান “নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন”-এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে সঠিক খাদ্য চেনার আহ্বান জানাচ্ছেন।

মেহেরুন নেছা শাহেলীর এই সংগ্রাম কেবল ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়—এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। তাঁর বিশ্বাস, জনগণ সচেতন হলে ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

এফএ

×