ছবি: সংগৃহীত
বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গাকে ঘিরে নানা ভবিষ্যদ্বাণী দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ‘বালকানের নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত এই নারীকে ঘিরে প্রচলিত বহু দাবি-দাওয়া জনপ্রিয় হলেও অধিকাংশই গবেষণা বা দলিলভিত্তিক নয়। ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে তাঁর নামে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত ‘ভবিষ্যদ্বাণী’। নিচে সেগুলোর সারমর্ম তুলে ধরা হল—যেগুলোর সত্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা
বিভিন্ন অনলাইন সূত্র দাবি করছে, বাবা ভাঙ্গা নাকি ২০২৬ সালে একটি বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা বিশ্বশক্তিগুলোকে জড়াতে পারে। তবে কোন দেশ জড়াবে বা কখন এটি শুরু হতে পারে—এসব বিষয়ে তাঁর কোনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না।
ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়
একটি ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়—২০২৬ সালে বড় ধরনের ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিশ্বের প্রায় ৭–৮ শতাংশ অঞ্চল ধ্বংস করে দিতে পারে। কিন্তু এমন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই।
এআই-এর ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা
আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়—২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নাকি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের বদলে প্রযুক্তি প্রভাব বিস্তার করবে। বাস্তবে এটি আধুনিক সমাজের উদ্বেগেরই প্রতিফলন; ভাঙ্গার কোনো প্রত্যক্ষ বক্তব্য নেই।
ভিনগ্রহবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ
২০২৬ সালে নাকি মানবজাতি প্রথমবারের মতো ভিনগ্রহের প্রাণের সাক্ষাৎ পেতে পারে—এমন দাবি জনপ্রিয় সামাজিকমাধ্যমের একাংশে ছড়িয়েছে। এমনকি এক বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে বলেও দাবি করা হয়। বিজ্ঞানীরা এসব ধারণাকে সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বলে মনে করেন।
রাশিয়া থেকে ‘নতুন বিশ্বনেতা’
বিভিন্ন প্রচারে বলা হয়—রাশিয়া থেকে একজন শক্তিশালী নেতার উত্থানের কথা বাবা ভাঙ্গা বলেছিলেন, যিনি নাকি বিশ্বপরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনবেন। কিন্তু এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা সময়কাল পাওয়া যায় না।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস
কেউ কেউ দাবি করছেন, ২০২৬ সালে বড় অর্থনৈতিক ধস দেখা দিতে পারে—ব্যাংকিং সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপে বিশ্বব্যবস্থা নড়ে উঠতে পারে। তবে এটিও তাঁর নামে গড়ে ওঠা আধুনিক ব্যাখ্যা; কোনো প্রত্যক্ষ উদ্ধৃতি নেই।
সোনার দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা
২০২৬ সালে সোনার দামে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও তাঁর নামে প্রচারিত। কেউ বলছেন সোনার দাম কমবে, কেউ বলছেন বাড়বে—কোনোটিরই সুনির্দিষ্ট উৎস নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের বড় মোড়
আরেকটি দাবিতে বলা হয়—২০২৬ সাল জলবায়ু বিপর্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে পারে; বন্যা-খরা থেকে শুরু করে বহু বাস্তুতন্ত্র বিপর্যস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক সতর্কবার্তাগুলোরই প্রতিফলন, ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
এশিয়ার শক্তির উত্থান
কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয়—২০২৬ সালে চীন বা অন্য কোনও এশীয় শক্তি ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব বিস্তার করবে, যা হয়তো তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুকে কেন্দ্র করে হতে পারে। এসবই অনুমাননির্ভর ব্যাখ্যা।
সামাজিক অস্থিরতা ও প্রযুক্তিগত বিপর্যয়
বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন বক্তব্য একত্র করে বলা হয়—পরিবেশগত সংকট, প্রযুক্তির আধিপত্য ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অভিবাসনসহ বড় ধরনের সামাজিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবই জনপ্রিয় সংস্কৃতির কল্পনা।
গবেষকেরা বলছেন, বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীরই কোনও প্রমাণ নেই। তাঁর প্রকৃত বক্তব্য কম, আর প্রচারিত গল্প-ব্যাখ্যা অনেক বেশি। তাই এসবকে বিশ্বাসের জায়গায় না রেখে কৌতূহল ও লোককথার আলোকে দেখাই যুক্তিযুক্ত।








