ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

বিউটিশিয়ান মাকসুদা সোমা

লিখন আহমেদ

প্রকাশিত: ০১:৩২, ২১ জুন ২০২৪

বিউটিশিয়ান মাকসুদা সোমা

মাকসুদা সোমা

বাংলাদেশ উন্নয়নের বিকাশমান ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সমসংখ্যক নারীরাও পেছনে পড়ে থাকছে না। গৃহিণী মমতাময়ী নারীরা সংসার সামলে বাইরে বেরিয়েছে। আধুনিক সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরা নিত্য নতুন নানা পেশার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন। নারীরা পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে প্রাধান্য দেওয়া যুগ-যুগান্তরের বরমালা। আবার অনেক রমণী মানব সেবার অনন্য কর্মযোগ চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

একসময়ের নারীদের পছন্দের পেশা শিক্ষকতা ও চিকিৎসা থাকলেও আজ সেখানে শিক্ষা প্রণালীর সম্প্রসারিত সময়ে নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। নারীরা বিভিন্ন পেশায় নিজেকে যুক্ত করে আলো ছড়াচ্ছেন। তাই এখনকার শিক্ষিত নারীরাও ভিন্ন মাত্রার পেশায় সম্পৃক্ত হয়ে যুগ ও সময়ের অনুষঙ্গ হতে দেরি লাগছে না। তেমনি এক ভিন্ন পেশার সঙ্গে দীর্ঘ ২৪ বছর পূর্বে নিজেকে জড়িয়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মাকসুদা সোমা।

যিনি কি না প্রচলিত পেশার বাইরে গিয়ে এক কর্মসাধনায় যুক্ত হন। শুরুটা কষ্টের হলেও অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর সংগ্রামের পর তিনি এখন সফল নারীদের তালিকায় নাম লেখিয়েছেন। বর্তমানে মাকসুদা সোমা একজন সফল বিউটিশিয়ান। ২০০০ সালের দিকে তিনি প্রচলিত কাজের বাইরে ভিন্ন ধর্র্মী পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। শখের বসে শুরু করলেও পরবর্তীতে তা পেশা হিসেবে নেন তিনি। ২৪ বছর পূর্বে বিউটিশিয়ান অথবা বিউটি পার্লারের সঙ্গে মফস্বল এলাকার মানুষের ততটা পরিচয় ছিল না। সে সময় সোমা নিজ থেকে শুরু করেন বিউটিশিয়ানের কাজ।

তার নিপুণ হাতে যতœসহকারে সাজিয়ে নারীদের ফুটিয়ে তোলেন তিনি। প্রথম দিকে বিয়ে কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে বাড়িতে গিয়েও নারীদের সাজিয়ে দিতেন তিনি। তার এ পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সমাজের মানুষের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি নানা আলোচনা-সমালোচনাতেও দমে যাননি মাকসুদা সোমা। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সংগ্রাম করেছেন দীর্ঘ সময়। উল্লাপাড়া উপজেলা শহরে প্রথম বিউটি পার্লারের যাত্রা শুরু হয় তার হাত ধরেই। মাকসুদা সোমা উল্লাপাড়ায় ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা ইসমাইল হোসেন এবং মা দু’জনই সরকারি চাকরিজীবী। উল্লাপাড়া ঝিকিড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করেন তিনি। শান্ত মরিয়াম ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে পড়া-লেখা শেষ করেন। ছোটবেলা থেকে নাচ গান এবং মেকআপের ওপর বিশেষ আগ্রহী ছিলেন সোমা। স্কুল জীবন থেকে নিজে অধিক সাজগোজ করতেন এবং অন্যকে সাজাতে পছন্দ করতেন। এরপর শখের বসে শুরু করেন বিউটিশিয়ানের কাজ। পরে তা পেশা হিসেবে বেছে নেন। বিউটিশিয়ানের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে দুবাই এবং ইন্ডিয়ায় একাধিকবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

এ ছাড়াও এশিয়ার বিখ্যাত মেকআপ আর্টিস্ট সেলিনা মনির কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে সাপোর্ট না পেলেও পরে মায়ের অনুপ্রেরণা পান তিনি। নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে চলে সোমার এ কর্মযজ্ঞ। অনেক সংগ্রাম ত্যাগ- তিতিক্ষার পর সফলতা ধরা দেয় সোমার হাতে। বর্তমানে বিউটিশিয়ান হিসেবে উল্লাপাড়ায় পরিচিত একটি নাম মাকসুদা সোমা। উল্লাপাড়া ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী বিভাগীয় শহরে নিজ নামে বিউটি পার্লারের শাখা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা আছে তার। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সোমা জয়িতা সম্মাননাসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ প্রদান করছেন।

×