ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

পোশাকে সাদৃশ্য

কারিমুন্নেছা হক

প্রকাশিত: ২১:২৫, ৯ জুন ২০২৪

পোশাকে সাদৃশ্য

.

সংসারের বটবৃক্ষ হলো বাবা। সন্তানের যে কোনো পরিস্থিতিতে ছায়া দিয়ে আগলে রাখেন তিনি। জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে অপার স্নেহশীষ ভূমিকার নামই বাবা। শত আবদার যার কাছে করা যায় নির্দ্বিধায়। মায়ের পরে যে মানুষটি হয় প্রকৃত বন্ধু সেই হলো বাবা। রামপুরার বাসিন্দা অবন্তিকা এক বছর আগেই স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শেষ করেছে। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ছোটবেলা থেকেই দারুণ মেধাবী স্মার্ট। নতুন সংসার জীবনের বয়স প্রায় এক বছর। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। ব্যস্তময় দিনশেষে কোনো এক বেদনা মনের কোনে হু হু করে। কি যেন নেই কাছে। এতগুলো বছর যাদের ছায়ায় বড় হয়েছে। আজ সেই ছায়াহীন অবন্তিকা সংসার জীবনে ভালোই আছে।

তবুও সারাক্ষণ বাবা-মায়ের জন্য মন কাঁদে। সুযোগ পেলেই ছুটে যায় তাদের দেখতে। যে কোনো বিশেষ দিন তাদের সঙ্গেই কাটানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ বাবা দিবস মা দিবস। বাবাকে অবন্তিকা ভীষণ ভালোবাসে। যখন থেকে সে বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই প্রতি বছর বাবা দিবসে বাবাকে সারপ্রাইজড করার জন্য করেন নানা পরিকল্পনা। এবার তার কাছে এই দিনটা আরও স্পেশাল। কেননা এখন সে সবসময় বাবার সান্নিধ্যে থাকতে পারেন না। তাই পরিকল্পনা করেছেন সারাদিন বাবাকে নিয়ে ঘুরবেন। তার প্রিয় সব খাবার খাবেন। যেহেতু বাবা দিবস আসতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি। জন্য ইতোমধ্যেই বাবার জন্য কিনেছেন তার পছন্দের পাঞ্জাবি। মায়ের যেন মন খারাপ না হয় তাই তার জন্য নিয়েছেন একটি জামদানি শাড়ি। অবন্তিকার এসব ভালোলাগা তার পিতা-মাতাও বেশ উপভোগ করে। তারা মেয়ের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন আনন্দঘন ছবি দেখে নানা রকম স্মৃতিচারণ করে। সকল সন্তানই পিতা-মাতাকে অনেক ভালোবাসে। তাই অনেকেই ভাবেন মা-বাবাকে ভালোবাসতে কোনো দিবস লাগে না। তবে বছরের একটি দিন তাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবলে ভালো কিছু স্মৃতি তৈরি করা যায়।  

বাবা শব্দটার মাঝে লুকিয়ে আছে শাসন, অনুরাগ ভালোবাসা। যেসব সন্তান বাবার ছায়ায় বেড়ে ওঠে তাদের জীবনে বন্ধুর পথ মসৃণ হয়ে যায়। শৈশবে থাকে খেলার সাথী হয়ে, কৈশোরের সব আবদার পূরণ করা, আর যৌবনকালে সে হয়ে ওঠে শ্রেষ্ঠ পরামর্শদাতা। এটা সত্যি বাবা-মাকে ভালোবাসতে কোনো দিবসের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বছরের একটি দিন শুধুমাত্র তাদের জন্যই থাকুক না! আসছে ১৬ জুন বাবা দিবস। এই দিনে বাবাকে তার কোনো প্রিয় জিনিস উপহার দেওয়া, তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, তার পছন্দনীয় খাবার রান্না করে খাওয়ানো যেতে পারে। সারাটি বছরই তো আমরা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাই একটি দিনের বিশেষ স্মৃতির মাধ্যমে হয়ত বছরের বাকি দিনগুলোও ভালো কাটাতে পারে তারা।

কেননা আমাদের সময় ব্যস্ততায় কাটলেও অধিকাংশ পিতা-মাতা কর্মহীন সময় কাটায়। ছেলে-মেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে আদর্শবান মানুষ করার জন্য তারা অনেক পরিশ্রম করে। বাবার অবদানকে বছরের একটি দিনে বিশেষভাবে মনে করার জন্য বাবা দিবস পালন করা হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই। যেখানে বাবাকে ঘিরে করা হয় বিভিন্ন আয়োজন। জানা যায়, ১৯০৮ সালের জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একটি গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালন করা হয়। তবে একটি দিন নয় প্রতিটি দিন বাবার প্রতি ভালোবাসা অটুট রাখুন। বাবা দিবস উপলক্ষে বর্তমানে বিভিন্ন দেশীয় ফ্যাশন হাউজে পাওয়া যাচ্ছে বাবা-ছেলে অথবা বাবা-মেয়ের একই নকশার নান্দনিক পোশাক। তাই কিনতে পারেন বাবার সঙ্গে ম্যাচিং করে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। ছাড়াও উপহার দেওয়া যেতে পারে মোবাইল বা বাবার কোনো প্রিয় বই।

×