ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

অতিরিক্ত ঘুম থেকে বাঁচার উপায়

প্রকাশিত: ১০:২৮, ২৮ মে ২০২৪

অতিরিক্ত ঘুম থেকে বাঁচার উপায়

অতিরিক্ত ঘুম

কাজ করতে গেলেই ঘুম পায়। এমন সমস্যা থাকেন প্রায় অনেকেই। এমনকি ট্রেনে-বাসেও ঘুমিয়ে পড়েন। যা থেকে পড়তে পারেন মহা বিপদে! কিন্তু এর পেছনের কারণ কি জানেন? এমন ঘুম ঘুম ভাবের পেছনে রয়েছে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। তাই চোখে ঘুম লেগে থাকার কয়েকটি কারণ জেনে নিন। এতে মিলতেও পারে সমাধান।

যদিও ঘুমের জড়তার সঠিক কারণ অজানা, তবে আরো ভালো ঘুমের সুবিধার্থে এবং জাগ্রততা বাড়াতে আপনি আপনার জীবনধারা সামঞ্জস্য করতে পারেন এমন সব উপায়ও কিন্তু রয়েছে। যেমন-

> বারবার বিরতি নেওয়া: এমন সময় একমনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুম ঘুম চোখে বইয়ের পাতায় বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে কোনো লাভ হবে না। কাজ তো হবেই না, অন্যান্য শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেবে। তাই এ রকম সময় কাজ করতে করতে দ্রুত একটু পায়চারি করে আসতে হবে। একটা পছন্দের গান শোনা যায়। দুই তিন মিনিট ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলেই বা ক্ষতি কী। দাঁড়িয়ে স্ট্রেচিংও করতে পারেন। এ রকম বিরতিগুলো অবশ্যই ছোট হতে হবে। এক ঘণ্টা পরপর দশ মিনিট ব্রেক নিলেই যথেষ্ট। এতে ঘুম পাবে না, ভুলও কম হবে পড়ায় বা কাজে।

> কাজে বৈচিত্র্য আনা: সারাক্ষণ একই কাজ করলে ঘুম ঘুম ভাব আরো জেঁকে বসবে। বড় একটি কাজ বা পড়ার পুরো পাঠটিকে ভেঙে কিছু অংশে বিভক্ত করে নিতে হবে। এভাবে ধাপে ধাপে ভাগ করে নিলে আর এত একঘেয়ে লাগবে না কাজ করতে। পড়ার বেলায় বিভিন্ন বিষয় অল্প অল্প করে পড়ে বেশি কাজে দেবে এমন সময়। অন্য কাজের বেলায়ও তাই করতে হবে। কাজের ফোকাস এভাবে বারবার বদলাতে পারলে আর অবচেতনে ঘুমের কোলে ঢলে পড়তে হবে না।

> একটু আলো বাতাসের স্থানে যাওয়া: ঘরের এক কোণে টেবিলে মুখ গুঁজে কাজ করতে করতে শরীর ও মনে ক্লান্তি আসে এমনিতেই। এমন সময় জানালায় গিয়ে দাঁড়ান একটু। রাতের তারা বা ভোরের উষার লালিমা উপভোগ করুন। ছাদেও যেতে পারেন বা সুযোগ থাকলে বাইরে। তরতাজা বাতাসটুকু অনুভূতি দিয়ে আকণ্ঠ পান করুন। আবার ২০২২ সালের এক নির্ভরযোগ্য গবেষণা বলে, ৪০০ কিলোওয়াট তাপ নিয়ন্ত্রিত আলোয় কাজের স্ট্রেস কমে যায়। সাদা ফ্লুরোসেন্ট লাইটে বাড়ে বরং স্ট্রেস। ডেলাইট লেখা এনার্জি বালব ব্যবহার করলে ভালো। সব সময় লাইটিং নিজের ইচ্ছামতো করা সম্ভব নয়। তাই দিন হলে বাইরে বেরিয়ে একটু প্রাকৃতিক সূর্যালোকে থেকে আসা যায়।

> ছোট একটা পাওয়ার ন্যাপ নেওয়া: কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে হয়। ২০১৬ সালের এক গবেষণা বলে, ছোট পাওয়ার ন্যাপ যেকোনো কিছু আত্মস্থ ও মুখস্থ করার শক্তি বাড়ায়। ঠিকঠাক ঘুমালেও দিনের মাঝে লম্বা সময় ধরে কাজ করতে গেলে ক্লান্তি আসে। তখন এমন ছোট একটা ঘুম দিয়ে উঠতে হবে। তবে তা যেন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি না হয়। আমরা যেমন দুপুরে পেট ঠুসে খেয়ে ভাতঘুম দিই, তাতে আরো বাড়ে ক্লান্তি।

কাজের মধ্যেই সচল থাকা: লম্বা সময় ধরে ডেস্কে বসে থাকা ক্লান্তি আনবেই। আর এমন সময় ঘিরে ধরে ঘুম ঘুম ভাব। বিরক্তি, হতাশা আর শ্রান্তির অনুভব আসে একে একে। এরপর পায় শুধু ঘুম। এমন অবস্থা এড়াতে একটু সচল থাকা দরকার। কাজের মধ্যেই স্ট্রেচিং করা যায়, ফ্রি হ্যান্ডও।  আবার ইয়োগাও খুব কার্যকর এ ক্ষেত্রে। ভালো লাগার অনুভূতি দেয় এমন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে নিয়মিত ব্যায়াম। তখন এমনিতেই এনার্জি লেভেল ভালো থাকে বলে সহজেই এ রকম ঘুম পায় না।

শহিদ

×