ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঈদে সেমাই খাওয়ার প্রচলন শুরু হয় যেভাবে

প্রকাশিত: ১৫:০৬, ১১ এপ্রিল ২০২৪

ঈদে সেমাই খাওয়ার প্রচলন শুরু হয় যেভাবে

সেমাই

বাহারি মিষ্টি খাবারের মধ্যে বাঙ্গালিদের অন্যতম প্রিয় হচ্ছে সেমাই। সেমাই ছাড়া বাঙালি মুসলমানের ঈদুল ফিতর কল্পনাই করা যায় না। ঈদে কেউ তৈরি করে দুধে ভেজা সেমাই, কেউ ঝরঝরে সেমাই, বা সেমাইয়ের জর্দা। এই সেমাই বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানে খাওয়ার প্রচলন আছে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে ঈদে সেমাইয়ের প্রচলন নেই বললেই চলে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানে ঈদে সেমাই খাওয়ার প্রবর্তন আছে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে ঈদে সেমাইয়ের প্রচলন নেই বললেই চলে। কিন্তু কবে থেকে ঈদে বাংলাদেশে সেমাই খাওয়া শুরু হলো? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনেই। চলুন ইতিহাস থেকে জেনে নেয়া যাক ঈদে যেভাবে এলো সেমাই খাওয়ার রীতি। 

জানা যায়, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বেশ কিছু খাবারের নাম পাওয়া যায়। কিন্তু সেমাইয়ের কথা কোথাও নেই। হিন্দু কবিদের রচনাতেও নেই। মুসলমান কবির রচনাতেও নেই। সেমাইয়ের দেখা পাওয়া যায় না মোগলদের রন্ধনশালাতেও। এছাড়া গ্রিকরা সেমাইয়ের মতো দেখতে একটি খাবার খেত যা উপমহাদেশের সেমাই থেকে অনেকটাই আলাদা। 

ইতিহাসবিদদের মতে, উনিশ শতকের শেষের দিক থেকেই ঈদে ঘরে ঘরে সেমাই তৈরির সংস্কৃতি গড়ে উঠে।  

এদিকে বাংলা অভিধানে সেমাই শব্দটাকে কোথাও বলা হয়েছে হিন্দি, কোথাও বলা হয়েছে দেশি। ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার বইয়ে লিখেছেন, গ্রিক শব্দ সেমিদালিস থেকে সেমাই শব্দের উৎপত্তি।  

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ত্রিশ-চল্লিশের দশক থেকে সেমাইয়ের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। যার মধ্যে কিছু সেমাই হাতে তৈরি হয় আবার কিছু তৈরি হতে থাকে বাণিজ্যিকভাবে। বর্তমানে যেই সেমাই দেখা যায় সেটির প্রচলন শুরু হয়েছে পঞ্চাশের দশক থেকে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে সেমাইয়ের গ্রহণযোগ্যতা জনপ্রিয়তা পেয়েছে দামে অপেক্ষাকৃত সস্তা ও দ্রুত তৈরি করা যায় এর কারণে। 

ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন বলেন, সেমাইয়ের ইতিহাস তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার একে বহিরাগত খাবারও বলা যাবে না। কারণ ভারতীয় উপমহাদেশের পিঠা-পুলি বানানোর পদ্ধতিই পরিবর্তিত হয়ে আস্তে আস্তে আজকের সেমাইয়ের রূপ নিয়েছে।

 

এস

×