ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

৪৬ বছর পর প্রথম নারী মহাসচিব পেতে যাচ্ছে আটাব

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

৪৬ বছর পর প্রথম নারী মহাসচিব পেতে যাচ্ছে আটাব

আফসিয়া জান্নাত সালেহ

আফসিয়া জান্নাত সালেহ। সংসার সামলে মনোযোগ দিয়েছিলেন ব্যবসায় আর নিয়েছিলেন একের পর এক চ্যালেঞ্জ। ফলও পেয়েছেন। যখনই যে কাজে হাত দিয়েছেন, পেয়েছেন বিস্ময়কর সাফল্য। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ধীরে ধীরে উঠে আসেন দেশের ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্বের কাতারেও। বর্তমানে তিনি সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে গঠিত বাণিজ্যিক সংগঠন এসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) বর্তমান সহ-সভাপতি। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ট্যুরস ও ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান সায়মন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। 

আটাবের পাশাপাশি আফসিয়া যুক্ত আছেন সদস্য, গভর্নিং বডি, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, ঢাকা চেম্বার, উইমেন চেম্বার, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ই-ক্যাব ও এফবিসিসিআই’র সদস্য হিসেবে। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন সেরা ট্রাভেল অপারেটর, সেরা নারী উদ্যোক্তা, বেস্ট উইমেন লিডার ইন ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি, বেস্ট ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরস্কার।

আগামী ৫ই মার্চ আটাবের নির্বাচনে বর্তমান মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ ও আফসিয়া জান্নাত সালেহ-এর নেতৃত্বাধীন ‘আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আটাবের ৪৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান আটাবের প্রথম নির্বাচিত নারী সহ-সভাপতি আফসিয়া জান্নাত সালেহ।

গত ২০২১-২০২৩ আটাব নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। সম্প্রতি দেশের এভিয়েশন ও ট্যুরিজম ব্যবসার বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যা-সম্ভাবনা ও আটাব নির্বাচনসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আফসিয়া জান্নাত সালেহ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার এমএম মাসুদ।

ব্যবসা শুরুর ইতিহাস নিয়ে আফসিয়া জান্নাত সালেহ বলেন, বাবা সাবেক আটাব ও হাবের সভাপতি মরহুম এম  এ মোহাইমিন সালেহ’র অনুপ্রেরণা ও ইচ্ছাতেই পড়াশুনা চলাকালীন সময়ে ২০০৮ সালে এই ব্যবসায় আসি। ২০১৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর মানুসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়ি। তবে এই খাতে বাবার সুনাম ধরে রাখতে বেশ কিছু ব্যবসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ট্রাভেলস বিজনেসেই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেই। আর এই ব্যবসার সিনিয়র, জুনিয়র এবং সমসাময়িক সবারই সহযোগিতা পেয়েছি। 

বর্তমানে আটাবের মতো সংগঠনের সহ-সভাপতি। আগামী ৫ই মার্চ নির্বাচনে ‘আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের’ নেতৃত্বও  দিচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী? জবাবে আফসিয়া জান্নাত বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় মুখ্য নয়। মূলত বাবার সুনাম ধরে রাখতেই ব্যবসার পাশাপাশি আটাবের কমিটিতে আসা। সদস্যদের কল্যাণে সব সময় পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। এজন্যই নির্বাচন করছি। আমাদের এবারের স্লোগান ‘গড়ি তারুণ্যদীপ্ত অভিজ্ঞ সদস্যবান্ধব স্মার্ট আটাব’। কাজেই বুঝতেই পারছেন আমরা কী চাই। আটাব কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয় যে আমারা হারলে অনেক লোকসান হয়ে যাবে। যারা আটাবকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানাতে চায় তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান। অনেকেই আটাবকে রাজনৈতিক লেবাস দিয়ে নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান। ইনশাআল্লাহ সাধারণ সদস্যদের মাঝে যে সাড়া পাচ্ছি আমার বিশ্বাস ‘আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচিত হবে।

একজন নারী হিসেবে কতটা চ্যালেঞ্জ দেখছেন? তিনি বলেন, পুণ্যভূমি সিলেটের রক্ষণশীল পরিবারে আমার জন্ম। আসলে সফল সমাজ গড়তে হলে তরুণীদের এগিয়ে আসতে হবে। তবেই নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমাদের ট্রাভেল খাতে নারীর সংখ্যা খুবই সামান্য। কিন্তু এখন অনেক নারী উদ্যোক্তা ট্রাভেল ও ট্যুরিজম ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। আর চ্যালেঞ্জের মধ্যে সিন্ডিকেট ভাঙাই আমার একমাত্র চ্যালেঞ্জ। 

দেশের পর্যটন শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আফসিয়া জান্নাত বলেন, সাগরের গর্জন, পাহাড়ের নীরবতা, হাওরের সৌন্দর্য কোথাও আবার প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মাঝে হেঁটে চলা সবই আছে আমাদের দেশে। বৈচিত্র্যময় আমাদের এই দেশ পর্যটনের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এই মুহূর্তে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ছোট ছোট অবকাঠামো, মানসম্মত রাস্তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্পের সমন্বয়হীনতা ও দক্ষ জনবলের অভাব দূর করতে হবে। সরকার ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে ট্যুরিজমের বিকাশ সম্ভব হবে।

দেশের এভিয়েশন সেক্টরের সম্ভাবনা সম্পর্কে আটাব সহ-সভাপতি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই বাংলাদেশই হতে পারে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহনের হাব। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় কিছু পরিবর্তন হয় যেমন একসময় হংকং ছিল আন্তর্জাতিক হাব, এরপর হলো সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এখন দুবাই। আমি বিশ্বাস করি পূর্ব ও পশ্চিমের আকাশ পথের মধ্যবর্তী হওয়ায় এক সময় আমাদের কক্সবাজার বা হযরত শাহজালাল হতে পারে আন্তর্জাতিক আকাশ পরিবহন হাব। রিফুয়েলিংয়ের জন্যই এখানে সবাই আসবে। তাছাড়া শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে কক্সবাজার বিমানবন্দর এ পথকে আরও সুগোম করবে।

প্রায় আটাবের কিছু সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এসব সমস্যা সমাধান বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে আমি বলবো পলিসির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু এজেন্সি কমিটমেন্ট ফেল করে, এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সেখানেও কাউকে এককভাবে দোষারোপ করা যায় না। আসলে এই বিজনেসটা অনেকটা চেইনের মতো। কোথাও একটু বাধাগ্রস্ত হলে সেই দায় সবার উপরে পড়ে। এ বিষয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আফসিয়া জান্নাত বলেন, সদস্যদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সত্যিকার অর্থেই স্মার্ট আটাব গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার আটাব গঠনে আমরা আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কাজ করে যাবো ও সকল সদস্যদের স্বার্থ নিশ্চিত করবো।
 

 

আরএস

×