ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

রন্ধনশিল্পী সঞ্চি

ফারহানা ইয়াসমিন

প্রকাশিত: ০০:১৭, ২৬ মে ২০২৩

রন্ধনশিল্পী সঞ্চি

.

জেমস ফাকহিলের ভাষায়, ‘রান্না যদি ভালো হয় তার প্রশংসা  দশ বছর পরেও হয়ে থাকে।’  কিন্তু এমন একজন ব্যক্তির কথা বলব এখন, যাকে তার নিজের হাতের রান্না করা খাবারের প্রশংসা শোনার জন্য খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। তিনি  হলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ নির্দেশনা অফিসের সেকশন অফিসার সাইফা আলম সঞ্চি।

 ছোট বেলায় থেকে তার রান্নার প্রতি অন্য রকম ভালো লাগা আগ্রহ কাজ করত। তাই স্কুল, কলেজে বিভিন্ন আঞ্চলিক রান্নার প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, টিভিতে প্রচারিত রান্নার অনুষ্ঠানের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন।

১৪১২ প্রথমবারের মতো যখন সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়েছিল, তখন কলেজপড়ুয়া সঞ্চি শখের বশেই  প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করার পর, যখন হোস্টেলের খাবার খেতে কষ্ট হতো, তখন নিজে কিছু রান্নার চেষ্টা করেন, সেই থেকে  রান্নার হাতেখড়ি। তিনি মনে করেন, ‘রান্নার মতো এমন সুনিপুণ শিল্পের গুণাবলীটি তার জীনগত।’  কেননা, তার পরিবারের মা, বিশেষ করে ফুফাদের সুনাম ছিল এলাকা জুড়ে। এমনকি তার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দাদাও নাকি নিজের প্রিয় খাবারগুলো নিজে হাতে রান্না করতে পছন্দ করতেন এবং সেগুলো অনেক সুস্বাদু হতো। পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবন বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করলেও, তিনি নিজের পছন্দের এবং ভালোবাসার জায়গাগুলোকে ভুলে যাননি।

শ্বশুরবাড়িতে খুব অল্প দিনেই তার রান্নার সুনাম অর্জিত হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কুকিং রিয়েলিটি শোসেরা রাঁধুনি১৪২২ প্রতিযোগিতা শুরু হলে, তার ভোজনরসিক স্বামীর উৎসাহ সহযোগিতায় তিনি সেখানে  অংশগ্রহণ করেন। প্রতিভা ছাই চাপা আগুনের মতো, যেকোনো সময় প্রস্ফুটিত হতে পারে। সেরা রাঁধুনি ১৪১২ তে তিনি শখের বশে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন১৪২২ সে এসে দেশের হাজারো প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে, বিভিন্ন কঠিন কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ১ম রানার্স খেতাপ জয় করে, বরিশালের মুখ উজ্জ্বল করেন। এরপর থেকে অদ্যাবধি তিনি দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে রন্ধন শিল্পী হিসেবে রান্নার অনুষ্ঠান করে চলেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের টিভি চ্যানেলেও কাজ করেছেন।

কথায় আছে যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। প্রবাদটি সঞ্চির ক্ষেত্রে একেবারেই শতভাগ প্রযোজ্য। ছোট বেলা থেকে  যেমন তার রান্নার প্রতি আলাদা টান, ভালোবাসা, ঠিক তেমনি ব্যবসায়ী দাদার নাতনি হিসেবে ব্যবসার প্রতি ছিল দুর্বলতা। তাইতো বোনদের নিয়ে তার নিজের এলাকায় ১ম বারের মতো শুরু করে ছিলেন অনলাইন বিজনেস। যেখানে মেয়েদের থ্রিপিছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু পাওয়া যায়। মূলত, নিজেদের কারখানার ব্লকবাটিক বুটিকের পোশাক ছিল তাদের প্রধান আকর্ষণ। এগুলোর পাশাপাশি তার একটি রান্নার ইউটিউব চ্যানেল আছে, যেখানে তিনি বিভিন্ন  ঐতিহ্যবাহী দেশীয় এবং তার নিজেস্ব রেসিপিগুলো রান্না করার নিয়মসহ যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ভিডিও আপলোড করেন।

উল্লেখ করার মতো বিষয়, এবারের ১৪২৯ এর সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো মেন্টরিং ধারণার চালু হয়  এবং সেখানে তিনি মেন্টার হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। এভাবে তিনি ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছেন নিজের আবেগ এবং ভালোবাসার জায়গাগুলোতে।  ভবিষ্যতে তিনি চান স্বেচ্ছায় তাদেরকে রান্না শেখাতে, যারা প্রকৃতভাবে রান্নাকে ভালোবাসে, যারা নাকি রান্না করে নিজেদের আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করতে চায়।

 

 

×