ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০২৩ নারী উদ্যোক্তা

অপরাজিতা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৪০, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০২৩ নারী উদ্যোক্তা

বাণিজ্যমেলায় নারী উদ্যোক্তার স্টলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার বর্ণিল ও বিশাল কার্যক্রম এখন তার শেষ সময় পার করছে। গত বছর থেকে নতুন স্থান হিসেবে পূর্বাচলে এই সাড়ম্বর বাণিজ্যমেলা শুরু হওয়া এক আলাদা গতিপথ। ২০২২ সালের মতো এবারও যথাসময়ে শুরু হয়েছে মেলার নানাবিধ ও চমকপ্রদ আয়োজন এবং প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম। নতুন ভ্যানু হিসেবে পূর্বাচল এখন দর্শনার্থীদেরও মনোযোগ আকর্ষণ করতে সর্ববিধ কর্মচাঞ্চল্যে এগিয়ে গেছে।

মেলায় স্টল বসানো থেকে আরম্ভ করে সারাদেশ থেকে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের কর্মযোগ সাজানো গোছানো সবই যেন নির্ধারিত নিয়ম ও পরিকল্পিতভাবে উপস্থাপন করা এক অভাবনীয় যাত্রা পথ। সেখানে নারী উদ্যোক্তাদের নজরকাড়া অংশীদারিত্ব মেলার শোভাবর্ধনে অগ্রণী অবদান রাখে। সারাদেশ থেকে আসা বিশাল সংখ্যক নারী উদ্যোক্তার স্টলের সামনে দর্শনার্থীর ভিড়ও দৃষ্টিনন্দন। নারী উদ্যোক্তার বিষয় এলেই সামনে চলে আসে জয়িতাদের অনন্য কর্মযোগ। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতে হয়Ñ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের হরেক উন্নয়ন প্রকল্পে নারীর সরাসরি সম্পৃক্ততাকে বিশেষভাবে নজরে আনা হয়।

সেই ২০১১ সালে নারীবান্ধব বাণিজ্যিক কার্যক্রম ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ প্রকল্প হাজির করা সেই সময়ের এক ব্যাপক কর্মযোগ। এক সময় নারীরা শিক্ষকতা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পছন্দই শুধু নয় বরং পেশা হিসেবে বেছে নিতেও খুব বেশি পেছনে তাকাতো না। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি নজর তো ছিলই না। তারপরেও কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী শিল্পোদ্যোক্তার সামনে চলে আসার চিত্রও দৃশ্যমান হতে থাকে। আর ‘জয়িতা সন্ধানে বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি তৎকালীন সময়ে যেন জোয়ারই বয়ে এনেছিল।
পরবর্তী কয়েক বছর পার হতে না হতেই সারাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারীদের অংশীদারিত্ব এক প্রকার চমকই সৃষ্টি করে। অবিশ^াস্যভাবে উঠেও আসে এই এসএমই খাতে নারীদের সংখ্যার শতকরা হার ৬৫% বাকি ৩৫% পুরুষ উদ্যোক্তা। সঙ্গত কারণে গত কয়েক বছরে বাণিজ্যমেলায় নারী উদ্যোক্তার সরাসরি উপস্থাপনে তাদের নিজস্ব স্টল সাজানোর যে ব্যস্ততা দৃশ্যমান হয় তা সারাদেশকে সমৃদ্ধির জোয়ারও এনে দেয়। শুধু কি তাই? তেমন কর্মডাকে সাড়া দিয়ে গ্রামে-গঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে নারীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে নজরকাড়া ভূমিকা আধুনিক বাংলাদেশের যেন নবতর সংযোজন। যা বিশ^ কাতারেও উঠে আসতে সময় নেয়নি।
এবারের মেলায়ও আবহমান বাংলার অনেক ঐতিহ্যিক শিল্প পণ্য ক্রেতাদের সামনে চলে আসাও এক সফল কর্মদ্যোতনা। সেখানে গ্রাম বাংলার হরেক কুটির শিল্প ছাড়াও চারু, দারু ও কারুশিল্পের নিত্যনতুন সম্ভার বিমুগ্ধ হওয়ার মতো। আর হাতের বুনন, নকশিকাঁথার নানামাত্রিক বাহার, বস্ত্র শিল্পের দ্যুতি ছড়ানো পণ্য উপস্থিত গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেই যাচ্ছে। মৃৎশিল্পের আয়োজনও মাতিয়ে দেওয়ার মতোই। সেখানে হাঁড়ি, পাতিল ছাড়াও বঙ্গ ললনার শোভাবর্ধনে দৃষ্টিনন্দন অলঙ্কার সামগ্রীও সংশ্লিষ্টদের আগ্রহান্বিত করতে এগিয়ে এসেছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় গ্রামগঞ্জ থেকে আসা ক্ষুদ্র কুটির ও হস্তশিল্পের উদ্যোক্তারা হাতে তৈরি নকশার বাহারে ক্রেতাদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় মাতিয়ে দিচ্ছে।

সারা বছরের কর্মযোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় বাণিজ্যমেলায় নিজেদের পণ্য সম্ভার উপহার দেওয়াও সংশ্লিষ্ট দ্যোতনার সিংহভাগ জুড়েই থাকে। শুধু কি দেশীয় ক্রেতা? এখন সারা বিশে^ প্রযুক্তির বলয়ে বাংলার নান্দনিক শিল্পকর্ম আন্তর্জাতিক সীমানাকেও পাড়ি দিতে এগিয়ে চলেছে। সফল জয়িতা থেকে অনন্যা নারী উদ্যোক্তারা মূলত নারীদের পছন্দ এবং প্রয়োজনকে মাথায় রেখে সেভাবেই তাদের শিল্পকর্মের পসরা সাজিয়ে বসে।  আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা মানেই সারা বছরের আগ্রহ জাগানিয়া বিকিকিনির এক মহা সাড়ম্বর তো বটেই। যার প্রস্তুতি চলে গোটা বছরের সার্বিক কর্মযোগে।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতেও ফি বছর অনন্য ভূমিকা রাখে প্রতি বছরের সূচনালগ্নে শুরু হওয়া এই নিয়মমাফিক বাণিজ্যমেলা। যেখানে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান ধারায় উন্নয়ন মহাযজ্ঞে শামিল হয়েছে সেখানে সমসংখ্যক নারীদেরও সম্পৃক্ত করা সময়ের অনিবার্য চাহিদা। আর বর্তমান সরকারের আমল থেকেই নারী সম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রকল্প গ্রহণ, এগিয়ে নেওয়া ছাড়াও পরবর্তীতে তার সফল বাস্তবায়ন দেশকে উন্নতির শীর্ষে পৌঁছে দিতে নির্ণয়কের ভূমিকা পালনও করে যাচ্ছে। সুতরাং সর্বজনীন উন্নয়নে যা দৃষ্টিনন্দনভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে তাতে নারীরাও সমান অংশীদারিত্বের দাবিদার বললেও অত্যুক্তি হয় না। এখানে আরও এক অবশ্যম্ভাবী চিত্র উদ্ভাসিত হওয়াও নারীদের অনন্য প্রাপ্তি।

স্বাবলম্বী হয়ে নিজের মতো পেশা বেছে নেওয়ার সম্পৃক্ততা ও সুযোগের কারণে তাদের আর পিতা, স্বামী কিংবা পুত্রের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে না। এটা যে কত বড় অর্জন তা সহজেই অনুমেয়। উল্লেখ করা সঙ্গত ছোট আর মাঝারি যে  শিল্পই হোক না কেন ব্যবসা শুরু করতে গেলে সামান্য হলেও পুঁজির প্রয়োজন পড়ে। সেখানে স্বল্প পুঁজি কিংবা সহজ সুদে ঋণ পাওয়ারও এক প্রকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যা স্বল্পবিত্ত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক ব্যাপক উৎসাহের বিষয় তো বটেই। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদান রাখার চিত্র সত্যিই স্বস্তিদায়ক। 
পুরো মেলায় নারীদের বেচা-বিক্রিতে নজরকাড়া কর্মযোগ সত্যিই উপভোগ করার মতো। আর ক্রেতা হিসেবেও যেন নারীরাই এগিয়ে থাকে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাপারটা মেলা শেষ হওয়ার কিছু আগে থেকে শুরু হয়। 
প্রথমে দর্শনার্থীরা ঘুরে ফিরে সব কিছু দেখতে থাকেন। সামান্য  কিছু কেনাকাটাও করেন। তবে শেষ সময় বিভিন্ন স্টল পণ্যের মূল্যে ছাড় দিলে বিকিকিনির হিড়িক পড়া মেলা শেষের অন্তিম কার্যক্রম। শুধু নির্দিষ্ট পণ্যের  দর কমানো নয় বরং একটা কিনলে অন্যটা ফ্রি এমন আকর্ষণীয় মূল্য ছাড়ও ক্রেতা সাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে সময়ও লাগে না। আর বাণিজ্যমেলায় নারীদের নয়নাভিরাম পণ্যের দর্শনীয় আমেজে যে মাত্রায় উপচে পড়া ভিড় দৃশ্যমান তাও মেলা প্রাঙ্গণকে উৎসবে আনন্দে মাতিয়ে দেয়। এখন সর্বশেষ সময় অতিক্রম করছে বাণিজ্যমেলার অভাবনীয় উৎসব। ক্রেতা-বিক্রেতার আয়োজন আর কর্মচাঞ্চল্যের যেন কোনো শেষ পরিশেষ নেই।
অপরাজিতা প্রতিবেদক

×