জীবন জোয়ার-ভাটার খেলা। আজ রোদ তো কাল ঝড়-তুফান। রোজকার জীবনে ছোট-বড় হাজার রকম কষ্ট আসে। এসব ছাপিয়ে নিজেকে সামনে টেনে নিয়ে যাওয়াটাই জীবনের মূল উপজীব্য। কষ্টের সঙ্গে সবার বোঝাপড়া করার কিংবা কষ্ট কাটিয়ে ওঠার ধরন এক না। একই কষ্টানুভূতির তীব্রতা আবার ব্যক্তিভেদে আলাদা। সাময়িক কষ্টগুলো অনেক সময় হতে পারে স্থায়ী যাতনার কারণ। কষ্ট আসতে পারে নানা রূপ নিয়ে। কারও দ্বারা অপমানিত হওয়া, কোন বন্ধু কর্তৃক প্রতারিত হওয়া, প্রিয় কোন ব্যক্তি বা পরিবারের কোন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু, অনেক সাধনায় গড়া প্রেমের সম্পর্কের ভাঙ্গন ইত্যাদি। যে ভুক্তভোগী, সেই শুধু জানে তার কষ্টের তীব্রতা। আমরা সবাই কম-বেশি জানি কী করে কষ্ট কাটিয়ে উঠতে হয়। কিন্তু নিগূঢ় কষ্ট জর্জরিত অবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন জ্ঞানই কাজ করে না।
অবসর নিন
অতিরিক্ত কাজের বোঝা একদমই নেবেন না। যদি প্রয়োজন হয়, সাধারণ কাজের রুটিন থেকেও অবসর নিন। নিজেকে সময় দিন, পারলে কিছুদিনের জন্য জায়গা পরিবর্তন করুন। সাধারণত যে কোন কষ্টে পতিত হবার পরে মস্তিষ্কের মূল তাড়না থাকে প্রয়োজনীয় হরমোন ক্ষরণ করে কষ্টানুভূতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। যে কারণে কাজে মনোযোগ না থাকাটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় অতিরিক্ত কাজ কিংবা অপ্রিয় কাজ স্বভাবতই শরীর ও মন উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া কিঞ্চিত অবসর আপনার মস্তিষ্ককে উক্ত কষ্টের মূল তাৎপর্য উপলব্ধি করতে ও কষ্ট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় যুক্তি সরবরাহ করতে সাহায্য করবে।
কেঁদে নিন
কান্না হলো কষ্টের মাত্রা হাল্কা করার সবচেয়ে ফলপ্রসূ উপায়। কষ্ট পেলে কান্না আটকে নিজেকে শক্ত-সমর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা না করে কোন আড়াল খুঁজে ছেড়ে দিন চোখের জল। অনেকেই অনেক তীব্র কষ্টেও কান্নাহীনতায় ভোগেন। তারা আত্মনিমগ্ন হয়ে নিজেকে নিজের অসহায় অবস্থার উপলব্ধি করিয়ে কান্নার প্রয়াস চালাতে পারেন। কান্না চেপে থাকলে মানসিক সমস্যাগুলো শুধু বাড়েই, কমে না। আর কান্না মোটেও দুর্বলতার লক্ষণ না। এক পশলা কান্নার পর দেখবেন কতটা হালকা লাগে আর কত সহজে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারেন। তাই নিজের ওপর মায়া অনুভব করুন, গলা ছেড়ে কাঁদুন।
মাদক পরিহার করুন
কেউ কেউ কষ্টের সময়গুলোতে বাস্তবতা থেকে পরিত্রাণ পেতে সিগারেট বা অন্যান্য মাদকদ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সিগারেটের নিকোটিন বা অন্যান্য মাদকদ্রব্যের সংশ্লিষ্ট মাদকতা ক্ষণিকের জন্য বিষণœতা দূর করতে পারে, কিন্তু সত্যিই নেশা কেটে গেলে সবই কেটে যায়।
যাপিত ডেস্ক

