মুখ যদি হয় মানুষের মনের প্রতিবিম্ব তবে চোখ তার আলো। কারণ এই একজোড়া চোখ দিয়ে আমরা সারাবিশ্বের সৌন্দর্য দেখি। আমাদের মুখশ্রী সুন্দর রাখতে চোখের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চোখের নিচে কালো দাগ পড়লে বা ফুলে গেলে সেই সৌন্দর্যের হানি ঘটে। প্রচলিত ধারণা মতে কম ঘুম হওয়া বা অধিক চা কফি পান করা বা দুশ্চিন্তা করা এ সমস্যার কারণ হলেও, আরো অনেক কারণ আছে। বংশগত কারণ, বয়স ইত্যাদির কারণে চোখের নিচে ফুলে যাওয়া ছেলেদের বেশি হয়। চোখের নিচে কালো দাগ পড়া মেয়েদের বেশি হয়। এ্যালার্জিক কারণ, প্রসাধনীর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেও এটি হতে পারে। মোটা মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অনেকেই কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করে থাকেন। কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাপড়িতে ব্যবহৃত আঠা আমাদের চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবার মাশকারা ব্যবহারে অনেকেরই এ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে চোখের পাপড়িকে ঘন করতে পারেন। পেট্রোলিয়াম জেলির সাহায্যে খুব সহজে চোখের পাপড়ি ঘন ও বড় করা যায়-
প্রথমে একটি মাসকারার ব্রাশ নিন। ব্রাশটি পুরনো হলে ভাল হয়। এবার ব্রাশটি ভাল করে ধুয়ে মুছে হাতে কিছু পাউডার নিয়ে ব্রাশটির ওপর পাউডারে ঘষে নিতে হবে। বাড়তি পাউডার ভালমতো ঝেড়ে ফেলে দিন। একটি পেট্রোলিয়াম জেলি হাত নিয়ে এতে ব্রাশ বুলিয়ে নিয়ে চোখে যেভাবে মাশকারা লাগাতে হয় সেভাবে চোখের পাপড়িতে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন। এভাবে সারারাত চোখের পাপড়িতে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রেখে সকালে উঠে মুছে ফেলুন। এভাবে প্রতিদিন করতে পারলে চোখের পাপড়ি লম্বা, ঘন ও সুন্দর হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন পেট্রোলিয়াম জেলিটি কোন গন্ধ বা ফ্লেভারযুক্ত না হয়।
প্রিয় চোখজোড়া সাজাতে আমরা কতকিছুই তো ব্যবহার করে থাকি। কখনও কাজল, কখনও শ্যাডো, কখনওবা আইলাইনার। নানা রঙের নকশা ফুটে ওঠে যেন আমাদের চোখের পাতায়। চোখের সাজে আইলাইনার বেশ গুরুত্বপূর্ণ নাম।
আইলানার
লিকুইড আইলাইনার তরল ধরনের হয়ে থাকে। ছোট টিউব বা বোতলে পাওয়া যায়। এর সঙ্গে দেয়া থাকে একটি ব্রাশ। যার সাহায্যে আইলাইনার চোখের পাতায় ব্যবহার করা হয়। লিকুইড আইলাইনার বিভিন্ন শেডেও পাওয়া যায়। পেন্সিল আইলাইনার বিভিন্ন শেডে পাওয়া যায়। পেন্সিল লাইনার সাধারণত চোখের উপরের পাতায় এবং নিচে ব্যবহার করা যায়। পেন্সিল লাইনার সহজেই স্মাজ করা যায়। তাই স্মোকি আই মেকআপেও এটি ব্যবহার করা হয়।। এগুলো মোটামুটি ধরনের ক্রিমি হয়ে থাকে। পেন্সিল লাইনার প্রত্যেক বার ব্যবহারের আগে শার্প করে নিতে হয়। পেন আইলাইনার দেখতে অনেকটা কলমের মতো। এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। যারা ঠিকভাবে লিকুইড আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের জন্য পেন লাইনার সব থেকে সহজ উপায়। এই লাইনারগুলোও লিকুইড ধরনের হয়।
গাঢ় সাজে চোখ সাজাতে দরকার হবে গ্লিটার আইলাইনার। এ লাইনারগুলো গ্লিটারি হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন শেডে পাওয়া যায়। চোখের বিভিন্ন স্থানে এই গ্লিটার আইলাইনার ব্যবহার করে চোখের মেকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
জেল আইলাইনার ছোট পটে পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করার জন্য আলাদা লাইনার ব্রাশ দরকার হয়। এগুলো খুবই ক্রিমি এবং থিক ধরনের হয়ে থাকে। আইলাইনার ব্রাশের সাহায্যে জেল লাইনার খুবই সহজ ও সুন্দরভাবে চোখে ব্যবহার করা যায়।
এ ছাড়া অনেকদিন ধরে কোন কারণে (রোগ) চোখ ফোলা থাকলে চোখের নিচে কালি পড়তে পারে। হরমোনগত কোন অসুখ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্যও হতে পারে। যদি চোখের নিচের ফোলা প্রতিদিন সকালে হয় তাহলে তা চর্বি জমার জন্য নয়, এটি এ্যালার্জিক কারণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে জন্য
-প্রসাধনী ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
-খাবারে অতিরিক্ত লবণ (পাতে কাঁচা লবণ) খাওয়া চলবে না।
-রাতে শোবার জন্য অতিরিক্ত একটি বালিশ মাথার নিচে দিলে উপকার হয়।
-যদি চোখের নিচে ফুলে যাওয়া চর্বি জমার জন্য হয় তাহলে সার্জারিই একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা।
মডেল : আয়েশা ও বারবি
ছবি : নাঈম ইসলাম

