পোশাকে একুশের ছোঁয়া
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রক্তক্ষয়ী এক সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে মাতৃভাষা বাংলা। বাঙালির ত্যাগ ও বিসর্জনকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয় বিন¤্র শ্রদ্ধায়। ১৯৫২ সালের পর থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির দিন শহীদ মিনারে প্রভাতফেরিতে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে ভাষাপ্রেমী মানুষ যায় ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা-সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্মরণে এ দিনটি ঘিরে এখনো থাকে নানা আয়োজন। বাঙালিরা বরাবরই যেকোনো উপলক্ষ পেলেই নিজেদের রাঙিয়ে তুলতে চায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে। চলতি মাস যেহেতু ভাষার মাস তাই সাজ-পোশাক সবকিছুই যেন ভাষার কথা বলে। পোশাকে থাকে সাদা-কালো রঙের আধিক্য। বিশুদ্ধতার প্রতীক সাদা। এক সময় সেই সাদা পোশাক ও কালোব্যাজ পরার প্রচলন থেকেই সাদা-কালোর সমন্বয়ে পোশাকের ডিজাইন করা হয়। শুধু রং নয় পোশাকের নকশায়ও থাকে একুশের চেতনার তাৎপর্য। বর্ণমালা খচিত পোশাকও যেন ভাষার কথাই বলে। ডিজাইনাররা নকশায় ফুটিয়ে তোলেন কখনো দেশাত্মবোধক গান আবার কখনো বাংলার রূপ বৈচিত্র্য। এর সঙ্গে মানানসই গহনা ও সাজ রমণীদের করে তোলে অনন্যা।
চমৎকার ও আকর্ষণীয় সালোয়ার কামিজের সম্ভার রয়েছে দেশীয় ফ্যাশন হাউজ ও ছোট-বড় যেকোনো মার্কেটে। যারা সালোয়ার কামিজ পরতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন, তারা স্টিচ বা রেডিমেট সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি বেছে নিতে পারেন। হাল সভ্যতায় বাঙালি নারীদের মধ্যে শাড়ির প্রতি দুর্বলতা বেশ লক্ষণীয়। কোনো উপলক্ষ পেলেই যুবতী থেকে বৃদ্ধা সবাই বারো হাতের শাড়িকেই নানা স্টাইলে গায়ে জড়ান। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরিতে যারা ভাবছেন শাড়ি পরবেন, তারা সুতি কাপড়কে বেছে নিতে পারেন।
আঁচলখানা এক ভাজ করে উঠিয়ে পিন দিয়ে ভালোভাবে সেট করে নিন। খোঁপায় গাঁধা ফুলের মালা পেঁচিয়ে কপালে কালো টিপ ও চোখে দিন কালো শেড। আপনি সাধারণভাবে সেজেই হয়ে যাবেন অসাধারণ। ত্বকের উজ্জ্বলতায় হাল্কা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ব্লাশন দিতে পারেন। সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে লাগিয়ে নিতে হবে সানস্ক্রিন। সাইডব্যাগে একটি ফোল্ডিং ছাতাও নিতে পারেন।
গহনা ছাড়া কোনো উপলক্ষের সাজ যেন পূর্ণ হয় না। তাই সাদা ও কালো রঙের মধ্যেই বেছে নিন সুন্দর গহনা। ফ্যাশন হাউজগুলোও বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা তৈরি করছে সাদা-কালো শেডের। সাধারণ সুতির শাড়ির সঙ্গে একটু ভারি গহনা ভালোলাগে। আবার শাড়ি যদি অ্যামব্রয়ডারি কাজ করা হয় তবে হাল্কা গহনাই ভালো লাগবে। সিল্কের শাড়ির সঙ্গেও ভারি গহনা পরা যায়। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য ফুলের তোড়ার পাশাপাশি খোলা চুলেও গুঁজে দিতে পারেন কয়েকটি ফুল। হাতের শোভা বাড়াতে কালো রঙের আংটি বেশ মানানসই। তরুণ-তরুণীরা হয়ত এভাবেই ভাবছেন নিজেদের। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিজেকে সাজান একুশের চেতনায়। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য আপনার মাঝে ফুটে উঠবে নিঃসন্দেহে।
ফ্যাশন হাউসগুলো সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিত্যনতুন পোশাক প্রস্তুত করছে। সাদা-কালো ড্রেসের সঙ্গে হাল্কা গহনা পরতে পারেন। একটা সময় ছিল যখন সাজ বললেই বোঝা যেত এটা মেয়েদের কোনো বিষয়। দিন পাল্টেছে। মানুষের চিন্তায় এসেছে পরিবর্তন। মেয়েদের থেকে ছেলেরা কোনো অংশে কম নয়। বর্তমান যুগের ছেলেরা ত্বক থেকে পোশাক সব ব্যাপারেই বেশ সচেতন। উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সময়োপযোগী হিসেবে নিজেকে সাজাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের জন্যও ফ্যাশন হাউসগুলো প্রস্তুত করেছে আকর্ষণীয় পাঞ্জাবি। যেহেতু ছেলেরা এই দিনটিতে পাঞ্জাবি পরতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যা এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। সেই চিন্তাধারা থেকেই ফ্যাশন হাউজগুলো প্রস্তুত করেছে বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি।
সাদা-কালো কম্বিনেশনের একটি পাঞ্জাবির সঙ্গে সাদা চুরিদার পাজামা ও পায়ে স্লিপার পরে বেরিয়ে পড়ুন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে। আপনাকে লাগবে সাধারণের মাঝেই অসাধারণ। তবে সব সময় পাঞ্জাবি পরতে হবে এমন রীতি নেই। হতে পারে শার্ট। হতে পারে ফতুয়া। যেহেতু চলছে ভাষার মাস তাই পুরো মাসজুড়ে পোশাকের গায়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন ভাষার প্রতি ভালোবাসার মহত্ত্ব। প্রাকৃতিক মোটিফ ও বৈচিত্র্যময় নানা পোশাকের সম্ভার দেখা যায় শপিংমল ও দেশীয় বুটিকস শপে। রয়েছে যুগল পোশাক। আবার একই নকশায় তৈরি পুরো পরিবারের জন্য ম্যাচিং পোশাকও পাওয়া যায়। রঙ বাংলাদেশ, কে-ক্র্যাফট, অঞ্জনস, লা রিভসহ দেশীয় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পেয়ে যেতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে।
প্যানেল হু








