ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

ক্যাজুয়াল বিউটি

জলি রহমান

প্রকাশিত: ০০:৩৮, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২; আপডেট: ০০:৪৪, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

ক্যাজুয়াল বিউটি

.

মেয়েদের পোশাক
আজকাল মেয়েরা সালোয়ার কামিজ ও শাড়ির সঙ্গে পাশ্চাত্যের ড্রেসও বেছে নিচ্ছে অফিসের জন্য। কর্পোরেট অফিসগুলোতে পশ্চিমা পোশাকের ব্যবহার আগের চেয়ে এখন অনেক বেড়েছে। এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে স্কার্ট, ফরমাল শার্ট, ফতুয়া, টপ, বিভিন্ন প্যান্ট, পালাজ্জো, ব্লেজার ইত্যাদি। স্কার্টের মধ্যে সাধারণত এক রঙের স্কার্টই বেশি পরছে কর্পোরেট অফিসগুলোতে। এছাড়াও কালো, সাদা, বাদামি ও হালকা যে কোন রঙের স্কার্ট পরতে পারেন। এক রঙের স্কার্ট পছন্দ না হলে একই রঙের মখমলের হালকা নকশা করা স্কার্ট ভাল লাগবে। স্কার্টের সঙ্গে ফরমাল শার্ট বেছে নিতে পারেন, যা টপ এর কাট দিয়ে হবে। প্যান্ট বা স্কার্ট যদি একটু গাঢ় রঙের হয়, তবে শার্ট বা টপ হালকা পেস্ট , স্কাই গোলাপি বেছে নিতে পারেন।
গলাবন্ধ এবং সামনে বোতাম দেওয়া টপ হলে বেশি ভাল লাগবে। আবার পাতলা কিছু ফরমাল টপস ও পাওয়া যায়। ফরমাল ও লম্বা শার্টে স্ট্রাইপ থাকতে পারে। মেয়েদের জন্য সেমিফিটিং ও সেমিন্যারো প্যান্ট পাওয়া যায়। প্যান্টগুলো লিলেন বা গ্যাবার্ডিনের হলে বেশি ভাল। ইজিপশিয়ান সুতির হালকা মাইল্ড রঙের শার্ট, টপস ও কুর্তি বেশি আরামদায়ক। পকেট দিয়ে কুর্তাও বেশ চলছে। অফিসের জন্য মেয়েরা এখন এমন পোশাকই চান, যাতে ফ্যাশন ও আরাম দুটোই পাওয়া যায়।
অফিসে শাড়ি বেশ ফরমাল লুক এনে দেয়। তবে সব ধরনের শাড়ি বা সব নকশার শাড়ি অফিসের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই নয়। শাড়িতে রঙের ক্ষেত্রে কালো, ধুসর, ছাই, হাল্কা বেগুনী, গোলাপী বেশ ভাল লাগবে। যেহেতু এখন বেশ গরম তাই সুতি ব্লক বা টাঙ্গাইলের শাড়ি আরামদায়ক হবে। আবার অফিসে কোনো প্রেজেন্টেশন থাকলে জামদানি বা খাদিও একটা ফরমাল লুক আনে। শাড়িতে বাটিক, ব্লক বা হাতের কাজ ও ভাল লাগবে। তবে মোটা পাড় এর শাড়ি ভাল লাগবে না।
ফরমাল পোশাক পরলে স্লিপার ভাল লাগে না, তাই মাঝারি আকারের হিল পরতে পারেন। হাতে পরতে পারেন ঘড়ি এবং কানে, গলায় হালকা ও ছোট আকারের দুল বা টপ ও চেইন। কড়া পারফিউম এড়িয়ে চলুন। হাল্কা মিষ্টি ঘ্রাণের সুগন্ধি ব্যবহার করুন। অফিসে এমন জুতা পরুন যাতে হাঁটার সময় শব্দ না হয়। আওয়াজ হয় এমন কোন অলঙ্কার পরেও মেয়েদের অফিসে আসা ঠিক নয়। কেননা অলঙ্কারের শব্দে অন্যদের কাজের মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। কখন ও অফিসে খুব বেশি সেজে যাবেন না। যেভাবে আপনাকে খুব কনফিডেন্ট দেখায় সেভাবেই যান। খুব বেশি মেকআপ ও অনেক ঝকমকে জামাকাপড় অফিসের জন্য উপযুক্ত নয়। আবার তার মানে এই নয় যে কোন রকম অফিসে চলে যাবেন।
ছেলেদের পোশাক
অনেকের ধারণা ছেলেদের পোশাক পরিচ্ছেদ নিয়ে খুব ঝামেলা নেই। একটা শার্ট ও প্যান্ট পরলেই হলো। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। ছেলেদের পোশাকেও মার্জিত ও ক্যাজুয়াল ভাব রাখতে হয়। পরিপাটি মানেই সব সময় ফরমাল সং সেজে যেতে হবে তা নয়। বরং ইনফরমালি যাতে গুছানো দেখতে লাগে। ছেলেরা অফিসের জন্য পোশাক নির্বাচনের সময় হাল্কা রঙের মার্জিত পোশাক বেছে নিন। কেননা খুব বেশি কড়া রঙের পোশাক দৃষ্টিকটু দেখায়। সাদা, হাল্কা হলুদ, হাল্কা বেগুনি, স্কাই এই ধরনের মাইল্ড কালারের পোশাক বেছে নিন।
যেকোন একটি কালার বা স্ট্রাইল ও রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। যে পোশাকই পরুন না কেন তা যেন অফিসের সঙ্গে মানানসই ও শালীন হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন। সাধারণত অফিসে ফরমাল শার্ট পরাই বেশি ভাল। তবে সব সময়ই শার্ট পরতে হবে এমন কোন কথা নেই। কেউ টি শার্ট পরে অফিসে আসতে চাইলে অবশ্যই কলার যুক্ত টি শার্ট পরুন। কেননা গোল গলার টি শার্ট অফিসে খুবই বেমানান দেখায়। অতিরিক্ত কাজ করা বা জবড়জং প্রিন্টের শার্ট না পরাই ভাল, এতে নিজের ব্যক্তিত্ব ও নষ্ট হয়। ছেলেরা স্যান্ডেলের পরিবর্তে অফিসে স্যু পরে আসুন। অফিসের জন্য সবসময় ফরমাল প্যান্টই নির্বাচন করুন। খুব বেশি ভিন্ন ধরনের কাট ছাঁটের ইনফরমাল প্যান্ট পরে অফিসে না আসাই ভাল। অফিসে কড়া গন্ধের সুগন্ধির পরিবর্তে হালকা ঘ্রাণের রুচিশীল সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার রুচিশীল মানসিকতার প্রতিফলন ঘটবে এবং পোশাক ঘামে ভিজলেও কোন দুর্গন্ধ ছড়াবেনা।

 পোশাক ও ছবি : বিশ্ব রঙ