ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

ত্রিমুখী দৃশ্যপটে পাকিস্তান

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ত্রিমুখী দৃশ্যপটে পাকিস্তান

পাকিস্তানের সংসদ ভবন

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে যেন নাটকের শেষ নেই। পিটিআই প্রধান ইমরানকে হটাতে গিয়ে এবার নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পড়েছেন নওয়াজ শরীফ। জেলে বসেও বিপুল আসন জিতে নেয় ইমরান খানের দল- পিটিআই দলের মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলই পায়নি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সে কারণেই অবধারিতভাবে দেশটিতে গঠন হতে যাচ্ছে জোট সরকার। যদিও ক্ষমতার ভাগাভাগির বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হয়নি। এ নিয়ে মুখ খোলেনি কোনো দলই। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে সব মহলে। 

পাকিস্তানের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফ নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছেন আগেই। সে কারণেই এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটি। চলমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পরবর্তী সরকার প্রধান যিনিই হন না কেন, জাতীয় পরিষদে ১৬৯ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে হবে দলগুলোকে।

পাকিস্তানে নির্বাচন শেষে দেশটিতে কি ধরনের সরকার হতে চলেছে, তা নিয়েই আলোচনা এখন তুঙ্গে। জোট সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়ে গেছে দৌড়-ঝাঁপ। যদিও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। আগামী দিনগুলোয় পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা দিতে পারে তিনটি দৃশ্যপট। 

প্রথমত, রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে জোট গড়ে ক্ষমতায় যেতে চাইছে পিএমএল-এন ও পিপিপি। আগামী কয়েক দিনে এ দুই দল ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। জোট সরকারে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখা যেতে পারে নওয়াজ শরীফ কিংবা তার ভাই শাহবাজ শরিফকে। 

দ্বিতীয়ত, পিটিআই এই নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারেনি। ইমরান খানের মনোনীত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটের মাঠে লড়াইয়ে করে বিজয়ী হলেও, তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়, কারণ স্বতন্ত্ররা- কোন দল বা জোট নয়। তাহলে কি তাদের সামনে কোন পথই খোলা নেই?

এক কথায় সুযোগ আছে পিপিআইয়েরও। বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটা ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারে, যাতে সংসদের সংরক্ষিত আসনগুলো পাওয়া যায় এবং সরকার গঠন করা যায়। আর যদি তেমনটিই ঘটে যায় তাহলে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে আবারও ইসলামাবাদের মসনদে দেখা যেতে পারে ইমরান খানকে। 

আরেকটি বিকল্প, বিলাওয়াল ভুট্টোর প্রধানমন্ত্রী হওয়া। ভোটের হিসেবে তৃতীয় পিপিপি। নির্বাচনের আগেই পিপিপি কেন্দ্রীয় কমিটি বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনীত করে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, নওয়াজের সঙ্গে জোট সরকার গঠনে রাজি হলেও, প্রধানমন্ত্রী পদে ছাড় নাও দিতে পারেন বিলওয়াল।

 

এস

সম্পর্কিত বিষয়:

×