ঈদ সালামি, শব্দটা শুনলেই শৈশবের রঙিন দিনগুলো হু হু করে ফিরে আসে। তখন ঈদের আনন্দ মানেই ছিল নতুন জামার মিষ্টি গন্ধ, সেমাইয়ের স্বাদ, আর পকেটভরা সেলামির স্বপ্ন।
ঈদের সকাল শুরু হতো ভোরের আলো ফোটার আগেই। নতুন কাপড় পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বারবার দেখা, কেমন লাগছে!
তারপর নামাজ শেষে একটাই লক্ষ্য, বড়দের খুঁজে বের করা। আব্বা, চাচা, মামা, দাদা, যাকে পাওয়া যায়, সবাইকে সালাম। আর সালাম শেষ হতেই চোখ চলে যেত তাদের হাতের দিকে, কখন বের হবে সেই কাঙ্ক্ষিত সেলামি!
কেউ দিত দশ টাকা, কেউ বিশ, আবার কেউ স্নেহভরা হাসিতে মাথায় হাত রেখে দিত পঞ্চাশ কিংবা একশো টাকা। সেই টাকাগুলোই যেন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেগুলো গুনে গুনে জমিয়ে রাখা, বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা করা, কার বেশি, কার কম, এসব ছোট ছোট আনন্দেই ভরে উঠত পুরো দিন।
দুপুর গড়াতেই শুরু হতো পরিকল্পনা, এই সালামি খরচ হবে কোথায়! কেউ কিনত আইসক্রিম, কেউ খেলনা, কেউ বা যত্ন করে জমিয়ে রাখত ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু যাই হোক, প্রতিটি টাকাই ছিল একেকটি আনন্দময় গল্প।
আজ সময় বদলেছে। আমরা বড় হয়েছি, এখন আমরাই সালামি দেই ছোটদের। তবু সত্যি বলতে কী, সেই আগের মতো আনন্দ আর ফিরে আসে না। কারণ তখন সালামি শুধু টাকা ছিল না; ছিল ভালোবাসার উষ্ণ স্পর্শ, ছিল সম্পর্কের গভীর টান।
ঈদ সালামি আজও আছে, থাকবে। কিন্তু শৈশবের সেই নিষ্পাপ আনন্দ, অপেক্ষা আর উচ্ছ্বাস, সেগুলোই সবচেয়ে বড় সালামি হয়ে চিরকাল রয়ে গেছে স্মৃতির পাতায়।
নোভা








