ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

পাটুরিয়া ও আরিচা রুটে স্বস্থির ঈদযাত্রা, প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি

শহিদুল ইসলাম, শিবালয়, মানিকগঞ্জ

প্রকাশিত: ১০:২৮, ১৯ মার্চ ২০২৬

পাটুরিয়া ও আরিচা রুটে স্বস্থির ঈদযাত্রা, প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি

আর মাত্র এক দিন পর শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে কর্মস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন অজস্র মানুষ। রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা ও যমুনা সেতু এড়িয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলগামী মানুষের বেস ভিড় দেখা গেছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয় ও আরিচা ঘাটে। ঘরমুখো মানুষগুলো ঘাট এলাকা থেকে ফেরি-লঞ্চ ও স্পিটবোটে স্বস্থিতে নৌপথ পাড়ি দিয়ে ছুঁটছেন নিজ-নিজ গন্তব্যে।

বৃহস্পতিবার পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের বাস-কোচ, মাইক্রো, প্রাইভেটকার ও খোলা ট্রাক-পিকআপে চেপে ঘরমুখো মানুষ আসছে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে। মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে কোন বাঁধা না থাকায় স্বাভাবিক গতিতে এ সব যানবাহন ঘাটে আসছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল চেপেও এসেছেন অসংখ্য যাত্রী। 

ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা ও যাত্রী নিরাপত্তায় দেখা গেছে প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান। সহসাই ঘরমুখো যাত্রীরা স্বস্থিতে ছুটছেন নিজ-নিজ গন্তব্যে।

জানাযায়, ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ছোট-বড় ১৭টি ও আরিচা-কাজিরহাট রুটে ৫টি ফেরিতে যানবাহন ও যাত্রী পার করছেন ফেরি কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিসি। যাত্রী পারাপারে উভয় রুটে রয়েছে আরো ৩৪টি লঞ্চ। এছাড়া, দ্রুত যাত্রী পারাপারে আরিচা-কাজিরহাট রুটে চলছে অর্ধশতাধিক স্পিটবোট।  

ঢাকা থেকে ছেড়ে পাটুরিয়া ঘাটে আসা যাত্রীবাহী দূঢ়পাল্লার বাস-কোচগুলো সহসাই উঠছে দৌলতদিয়াগামী ফেরিতে। সাথে কাটা লাইনের যাত্রীরা নদী পারি দিচ্ছে তাদের ইচ্ছে মাফিক ফেরি ও লঞ্চে। তবে, এরুটে ফেরি চাইতে লঞ্চে যাত্রী পারের সংখ্যা ছিলো চোখে পড়ার মতো। 

অপরদিকে, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে মিলেছে কিছুটা ভিন্ন চিত্র। এখানে ফেরি ও লঞ্চের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে চলছে অর্ধশতাধিক স্পিডবোট। স্বল্প সময়ে নদী পারি দিতে আগ্রহী যাত্রীদের বেশ ভিড়  দেখা যায় এ ঘাটে । 

আরিচা স্পিডবোট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী বিল্লাল হোসেন বলেন, এরুটের ফেরি ও লঞ্চে নদী পারে দেড় থেকে দু'ঘন্টা সময় লাগে।  আর স্পিডবোটে সময় নেয় মাত্র ২০ মিনিট। এতে ভাড়া একটু বেশি হলেও  বাড়তি একটি আনন্দ রয়েছে।

পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটে কথা হয় কুষ্টিয়াগামী যাত্রী মনিরুলের সাথে, তিনি বলেন ভোগান্তীর এ নৌপথে স্বস্থিতে ঘরে ফিরছি এটাই বড় কথা। আগে পাটুরিয়া ছিল ভোগান্তির ঘাট। ফেরি ও লঞ্চে উঠা ছিল দায়। হুড়া-হুড়ি করে ফেরি-লঞ্চে নদী পারি দিতে বিপাকে পড়তে হয়েছে অনেককে। কিন্ত এখন সে চিত্র আর নেই।

৩নং ফেরি ঘাটে অপেক্ষামান যাত্রীবাহী এসবি পরিবহনের চালক আবু সাঈদ বলেন, পাটুরিয়া ফেরি ঘাট পারি দিতে এক সময় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। কষ্টের শেষ ছিল না আমাদের।  সে কস্ট আর নাই। বর্তমানে ঝুট-ঝামেলাও নাই এ ঘাটে।
 
পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানেজার পান্না লাল নন্দি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এরুটে যাত্রী চাপ বেড়েছে। ঘাটে দায়িত্বরত প্রশাসনের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় সতর্কতার সহিত এ রুটের লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। 

ফেরি সেক্টর বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহ-মহাব্যবস্থাপক (বানিজ্য) আব্দুস সালাম বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ১১টি রোরো, ২টি ইউটিলিটি একটি কেটাইপ ও তিনটি ছোট ফেরি সার্বক্ষনিক অপারেশনে রয়েছে। পারের জন্য ঘাটে আসা যানবাহন গুলো সিরিয়াল অনুযায়ী ফেরিতে পাড় হচ্ছে। যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রী পারের সংখ্যাও ছিলো উল্লেখযোগ্য। 

শিবালয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষা ও যাত্রী নিরাপত্তায় পাটুরিয়া-আরিচা ঘাট এলাকাসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সহশ্রাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত সক্রিয় রয়েছে।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মনীষা রানী কর্মকার বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অগ্রীম সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করায় ঘরমুখো মানুষ স্বস্থিতেই এপথে ফিরছেন নিজ-নিজ গন্তব্যে। 

নোভা

×