দেশের সর্ব উত্তরের পঞ্চগড়, নীলফামারী,ঠাকুরগাঁও সহ বিভিন্ন এলাকার ঈদে বাড়ি ফেরা ট্রেণযাত্রীদের মহা দূর্ভোগ চলছে। ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রেন পরিবর্তনে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারের অদুরে ছাতিয়ানগ্রামে গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি ওইদিন দুপুর ২টার দিকে লাইনচ্যুত হয়। ওই দিন সন্ধ্যার পর হতে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। তবে এখনও রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার (১৯মার্চ) দুর্ঘটনা কবলিত ৯টি কোচের মধ্যে ৫টি উদ্ধার করা হয়। বাকীগুলো উদ্ধার করা এবং পুনরায় রেললাইন স্থাপনের কাজ এখনও চলমান রয়েছে। রেলসুত্র বলছে পুরো রেলপথ সচল হতে আরও অন্তত ৫/৬ ঘন্টা সময় লাগতে পারে । এরপরই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারবে। দুটি রিলিফ ট্রেনের প্রায় ৪০০জন কর্মী রাত থেকে বিরতিহীন ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গের বিশেষ করে আব্দুলপুর জংশন থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইনকে ডবল লাইনে রূপান্তরের দাবি উঠেছে। সাধারন যাত্রীরা বলছেন ডবল লাইন করা থাকলে এমন দূর্ভোগের শিকার হতে হতোনা। তারা এ ব্যাপারে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছে ডবল লাইন স্থাপনে প্রধান মন্ত্রী যেন দ্রুত ঘোষনা দেন।
এদিকে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রেন পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, লাইন পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই পাশে থাকা ট্রেন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পঞ্চগড় ,দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও গামীএকতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান, ও সৈয়দপুর ,নীলফামারী, ডোমার, চিলাহাটি এবং খুলনাগামী সীমান্ত ও রূপসা- ঢাকা- চিলাহাটি রুটের চিলাহাটি এক্সপ্রেস এবং রাজশাহী গামী তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের যাত্রীরা ট্রেন বদল করে যাতায়াত করছেন। অর্থাৎ, ঢাকা থেকে আসা যাত্রী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই প্রান্তে নেমে হেঁটে এলাকা পার হচ্ছেন এবং অপর পাশের ট্রেনে উঠে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। এতে যাত্রীরা মালামাল নিয়ে এক ট্রেন থেকে নেমে অন্য ট্রেনে যাওয়ার পথে বিপাকে পড়ছেন। হাটতে হচ্ছে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ। এ ছাড়া আজ ও কালকের জন্য ৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের (-রাজশাহী -পঞ্চগড়-রাজশাহী) যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ৭৯৭ নম্বর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসটি বিকল্প পথে বগুড়া হয়ে চলাচল করছে। ঈদের ঘরমুখো হাজারো যাত্রী আশপাশের স্টেশনগুলোতে আটকা পড়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিকল্প রেকের মাধ্যমে ঢাকা হতে চিলাহাটি গামী ৭৬৫ নীলসাগর এক্সপ্রেস কমলাপুরের ৭ নম্বন প্লাটফরম থেকে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে এসেছে। বিকল্প রেকে তিনটি কোচ ঘাটতি রয়েছে। এতে ট্রেনটি ৫ ঘন্টা বিলম্বে চলছে।
নোভা








