ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

মাহি সমাচার

আনন্দকণ্ঠ ফিচার

প্রকাশিত: ০০:৫৮, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪; আপডেট: ১৬:৩৩, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মাহি সমাচার

মাহিয়া মহি

জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মহি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বেশ আলোচনায় তিনি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার ঘরে একের পর এক হিট সিনেমা দিয়ে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। ক্যারিয়ারের মাঝ পথেই আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাতেও আসেন এ নায়িকা। প্রেম-ভালোবাসা বিয়ে এসব নিয়ে খবরের শিরোনাম হতে থাকেন অভিনেত্রী। ২০১৬ সালে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালের ২২ মে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে।

এরপর ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের রাজনীতিবিদ রকিব সরকারকে বিয়ে করেন মাহি। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্র ফারিশ। কিন্তু এটির স্থায়ীও বেশি দিন নয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন ‘অগ্নিকন্যা’। একই সঙ্গে জানান খুব দ্রুতই ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।  এ বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে। ফেসবুকে মাহি ও রকিব দুজন-দুজনকে নিয়ে নানা রকম পোস্ট দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাহির স্বামী রকিব সরকার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখান তিনি লিখেছেন, ‘আস্থা! শব্দটির সঙ্গে যখন ডিক্লায়ারেশন ইস্যু যুক্ত হয়, তখন তার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস, নির্ভরতা ছাড়াও গভীরে অনেকগুলো সমার্থকের উপস্থিতি উপলব্ধি হওয়া খুবই প্রাসঙ্গিক। ভয়ঙ্কর রাতে আস্থার আস্তানায় সাজানো সিসা, নাইনটিজ ইন্ডিয়ান সং, মিটিমিটি আলো তার সদস্যদের সবাই দেখল। ওই আস্তানার প্রধান ফটোগ্রাফির অজুহাতে আড়ালেই রয়ে গেল সপ্তাহ-দশদিনে তো আর এমন আস্থা অর্জন করা সম্ভব নাহৃ’।

এরপর আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এক জিন সাধিকার কাছে প্রায় তিন বছর পূর্বে বন্দী হয়ে তার মন মর্জি মতন চলতে গিয়ে অধিকাংশ সময় নির্ঘুম সারারাত কাটিয়েছি আর নিজের প্রতি কোনো যতœ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় নানা অসুখ বিসুখ শরীরে বাসা বেঁধেছে। তাই ব্যাংককে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছি। এই তিন বছরে অনেকের মনে কষ্ট দিয়েছি। হয়তো ইচ্ছার বিরুদ্ধে, দয়া করে কেউ আমাকে অভিশাপ দিবেন না।

দোয়া চাই (শক্ত দলিল ছাড়া আমি কথা বলি না।)’ মূলত মাহিকে ইঙ্গিত করেই এই পোস্ট দিয়েছেন রকিব। এতে সন্দের কিছু নেই। এদিকে এই বিষয়ে মুখ খুললেন নায়িকাও। এক ভিডিও বার্তায় মাহি বলেন, ‘রকিব সরকার আমার হাজব্যান্ড ছিলেন। রকিব সরকার আমার ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। আমি তাকে ভালোবেসে ছিলাম। এইটুকু না, অনেক ভালোবেসেছি। এতই ভালোবেসেছি, আপনারা দেখেছেন আমি সিনেমা থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম। কেন চলে গিয়েছিলাম? কারণ তিনি পছন্দ করতেন না।

আমাকে কখনো মুখ ফুটে বলেনি যে তুমি সিনেমা করতে পারবে না। আমার মনে হয়েছে ওর পছন্দ না, এজন্যই দূরে সরে গিয়েছিলাম। তো তাকে এই লেভেলের ভালো বেসেছিলাম। ও ফেসবুকে কী লিখল বা কী লিখল না, আই ডোন্ট কেয়ার। 
আমার মাথায় যদি পিস্তল ঠেকিয়েও কেউ বলে, তুমি এখনই মরে যাবে, তোমাকে শুট করব; রকিব সম্পর্কে কিছু নেগেটিভ বলোৃ আই উইল নেভার ডু দ্যট (কখনোই এমনটা পারব না)। আমি ওকে সম্মান করি। এবং এটা মৃত্যু অবধি থাকবে।’ ১১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে মাহি আরও বলেন, ‘ওর (রকিব) কি কোনো নেগেটিভ সাইড নাই? দুটি মানুষ প্রেম করার সময় বোঝা যায় না, বিয়ে করার পর বোঝা যায় কার কী প্রবলেম।

আমার যে এত এত প্রবলেম এটা নিশ্চয় প্রেম করার সময় রকিব বুঝে নাই। সরি (দুঃখিত), ওর সঙ্গে আমার তো ঠিক প্রেম হয়নি, মাত্র দুই মাসের পরিচয়ে আমাদের বিয়ে হয়। যখন দেখেছি দুজনের মধ্যে ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং। তখন আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই। ও তখন তো বুঝেনি, আমার রাগ বা ইগো কেমন? যাই হোক, ও তখন দেখেনি, বিয়ে করার পর দেখেছে। তো ওর ক্ষেত্রেও একই। ওর যা যা সমস্যা ছিল, সেগুলো পরে দেখেছি, আগে দেখিনি। মানুষ মাত্রই প্রবলেম থাকবে।

যখন দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকব, তখন সবই ভালো লাগবে; আবার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে একে অপরের শত্রু হয়ে যাব, এই ক্যাটাগরির মানুষ আমি আর রকিব না।’ সবশেষ এই নায়িকা বলেন, ‘রকিব আমার জীবন থেকে অতীত হয়ে গেছে। আমি ওর জীবন থেকে অতীত হয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের একজন আছে। যদি কোনো টান আমাদের থেকে থাকে, তা হলো সন্তান। আমি ফারিশের মা, ও ফারিশের বাবা। যেহেতু আমরা ফারিশের বাবা-মা, তাই মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ থাকবে।’

×