বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই তা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অব্যাক্ত শোকে। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ সদস্যসহ ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের মাতম বইছে এলাকাজুড়ে। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মোংলার শেলা বুনিয়া এলাকার পরিবেশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুম্মার নামাজের পর উপজেলা প্রশাসনের মাঠে জানাজা শেষে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১০ জনকে মংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া নববধূসহ তার পরিবারের দুই সদস্যকে খুলনার কয়রা উপজেলায় এবং অপর একজনকে খুলনায় দাফন করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে বিএনপিনেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর পরিবারের ছেলে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ ৯ সদস্য রয়েছেণ। এ পরিবারের বেঁচে থাকা স্বজনেরা শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস সালাম মোড়লের মেয়ে মিতুর সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোংলার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-–োমংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে রবকনেবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন নিহত হন।
বিয়ের পর দাম্পত্য জীবন শুরুর আগেই নিভে যায় নবদম্পতির জীবনপ্রদীপ। একই সঙ্গে পরিবার প্রধান আব্দুর রাজ্জাকও পরিবারের ৯ সদস্য রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের জীবিত সদস্যরা বারবার মূর্ছা যান। স্থানীয়রা ছুটে এসে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও কারও মুখে ভাষা নেই।
এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকের পুত্রবধূ পুতুল ও তার তিন শিশু সন্তান। বোন ও তিন ভাগ্নেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পুতুলের বড় ভাই লিটন শিকারি। বোন ও ভাগ্নেদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার অচেতন হয়ে পড়েন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়।
মর্তান্তিক এ ঘটনার পর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রীড. ফরিদুল ইসলাম গবীর শোক প্রকাশ করে এ বার্তা দিয়েছেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষনিক বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ পুপারের সাথে কথা বলেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে বলেন। মোংলা পৌর ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ রাজ্জাকসহ তার পরিবারের সদস্যরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ তিনি গভীর সমবেদনা এবং মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন’র প্রতি নিহতদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব কামনা করেন।
রাজু








