ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

ভোগ্যপণ্য আমদানি ও রিফাইনে এস আলম গ্রুপ

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতিশীল হচ্ছে অর্থনীতি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:২৩, ১৩ জুন ২০২৪

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতিশীল হচ্ছে অর্থনীতি

এস আলম গ্রুপ

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতই বিকশিত হচ্ছে, বাড়ছে প্রবৃদ্ধি। অর্থনীতির এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে দেশের শিল্প খাত। সামগ্রিক উৎপাদন আরও বহুমুখী করতে এবং কর্মসংস্থানের বিকাশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক বিস্তারের বিকল্প নেই।

দেশের যে অল্প কিছু কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করছে, তাদের মধ্যে এস আলম গ্রুপ অন্যতম। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিল্প ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্প, যেমন- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিদ্যুৎ খাত, আমদানি ও পরিশোধন, অবকাঠামো খাত, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, স্বাস্থ্য, বস্ত্র, আইটি, পরিবহন ইত্যাদি ব্যবসায় যুক্ত রয়েছে।

১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু করা এস আলম গ্রুপের উন্নয়নমুখী বিনিয়োগ উদ্যোগের ফলে প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে ও প্রতিনিয়ত দেশের অর্থনীতি উপকৃত হচ্ছে। এস আলম গ্রুপের সবচেয়ে বড় অবদান দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য খাতে। দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যৌক্তিক ও সহনীয় রাখতে সাপ্লাই চেইনে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও পর্যাপ্ত মজুত থাকা আবশ্যক।

নতুবা পণ্যের ঘাটতি থাকলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়। ধারাবাহিক পণ্যের আমদানিতে আরও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে- ভোগ্যপণ্যের বাজারে সরবরাহকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ বাজারে কর্মচাঞ্চল্য থাকে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং অর্থনীতি গতি পায়। এস আলম গ্রুপ প্রতি বছর ভোগ্যপণ্য আমদানি ও রিফাইনে প্রায় হাজার মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করে।

বর্তমানে চিনি, তেল ও গমের দেশীয় চাহিদার যথাক্রমে ৩৫, ৩০ ও ২০ শতাংশ পূরণ করে থাকে এস আলম গ্রুপ এবং তা চলতি বছরই ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। এ ছাড়া ৬টি ভোজ্য তেল ও ২টি চিনি রিফাইনারিতে এস আলম গ্রুপ ৬ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে।

ভোজ্যতেল শিল্পে এস আলম গ্রুপের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৪৯২ কোটি টাকারও বেশি ‘নেট ইনভেস্টমেন্ট’ এবং চিনি শিল্পে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকারও বেশি ‘নেট ইনভেস্টমেন্ট বা বিনিয়োগ’ রয়েছে। আরও একটি মেগা চিনি রিফাইনারি স্থাপনের কাজ শেষ হবে ২০২৬ সাল নাগাদ।

২০২৩ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার আর্থিক মূল্য ৪৯ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছরে এ আমদানির পরিমাণ ১৪ লাখ ৮২ হাজার টন, যার আর্থিক বাজার মূল্য ৮২ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে পাম ও সয়াবিন তেলের মোট আমদানি ছিল প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৮০ টন, যেখানে পাম অয়েল ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৯ টন এবং সয়াবিন তেল ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০ টন।

পাম ও সয়াবিন তেলের আর্থিক বাজারমূল্য ছিল যথাক্রমে প্রায় ২৫ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার ১৫২ মার্কিন ডলার এবং ৪ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ৭২ মার্কিন ডলার। গত তিন বছরে মোট তেল আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ১০৬ টন এবং এর আর্থিক বাজার মূল্য ছিল ১৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৪২ হাজার ৩৩১ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, গত বছর, ২০২৩ সালে গম আমদানি করা হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার টন।

যার মোট বার্ষিক আর্থিক মূল্য ১৪ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত গত তিন বছরে গম আমদানির পরিমাণ ১৬ লাখ ১০ হাজার টন, যার আর্থিক বাজার মূল্য ৪৯ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। এস আলম গ্রুপ বিশ্বাস করে বাংলাদেশ অমিয় সম্ভাবনার দেশ। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার পর আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাওয়া।

এক্ষেত্রে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ ও ভারি ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ। এস আলম গ্রুপ সে জন্যই কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে যৌথভাবে ৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে এস আলম গ্রুপ। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গ-ামারায় প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ২৮ হাজার কোটির টাকারও বেশি ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়েছে।

প্রকল্পটিতে এস. আলম গ্রুপের অংশীদারিত্বের পরিমাণ ৭০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি। বিগত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। এ ছাড়া এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও একটি মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রিন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি, এটিও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত হচ্ছে।

আর গ্রিন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পালে নতুন হাওয়া দিতে ২টি বৃহৎ বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করেছে এস আলম গ্রুপ। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন ‘বাঁশখালী এস. আলম ইকোনমিক জোন ১’ গড়ে উঠছে ১৮৪ একর জমির ওপর এবং ‘বাঁশখালী এস আলম ইকোনমিক জোন ২’ গড়ে উঠছে ২৫৯ একর জমির ওপর।

দুটি বিশেষ শিল্পাঞ্চলে ৫৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, এইচ আর কয়েল খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা, ডিআরআই প্ল্যান্ট খাতে ৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল দুটির উন্নয়নের জন্য ৫শ’ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করবে এস আলম গ্রুপ।
কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবকাঠামো খাতের ভূমিকা অপরিসীম। অভ্যন্তরীণ নির্মাণসামগ্রীর এই সেক্টরের মানোন্নয়ন ছাড়া অবকাঠামো খাতের সফল রূপায়নও সম্ভব নয়। তবে এ খাতের বিকাশে প্রয়োজন সেরা প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের ফ্যাক্টরি। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে স্টিল ও সিমেন্ট খাতে ৭৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং এতে  তৈরি হয়েছে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান।

এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী খাতে আরও ২.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা এস আলম গ্রুপের। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে- দেশ নির্মাণ শিল্পে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদেশে রপ্তানি করে অর্জিত হবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও আমাদের দেশে তা অপ্রতুল। তাই অনেকেই আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে দেশের বাইরে পাড়ি জমান। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং দেশ হারাচ্ছে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।

ভারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প খরচে সর্বাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এস আলম গ্রুপ। কোম্পানিটি চট্টগ্রামে ‘এস আলম ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ হাসপাতালে অনকোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, অর্থোপেডিক্স, পেডিয়াট্রিক্স, গাইনোকোলজি, ও মাতৃত্বকালীন সেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হবে। এস আলম গ্রুপের নেওয়া স্বাস্থ্য খাতের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

×