ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ইসরাইলে ইরানের হামলার প্রভাব

পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বড় দরপতন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১৪, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বড় দরপতন

পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বড় ধরনের দরপতন

ইসরাইলের অভ্যন্তরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। ঈদুল ফিতরের পাঁচদিনের ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ভালো-মন্দ বাছ-বিচার ছাড়াই ঢালাওভাবে দরপতন ঘটেছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর। ৮৫ শতাংশ কোম্পানির দর কমায় সব ধরনের সূচকের পতন ঘটেছে এক শতাংশের বেশি। আশঙ্কাজনকহারে সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেন কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসরাইলি ভূখ- লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে পুঁজিবাজারে এমন দরপতন হয়েছে। তাদের অভিমত, ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল পাল্টা হামলা করলে নতুন করে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বেঁধে গেলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল সরবরাহ আটকে যেতে পারে। ফলে সৃষ্টি হবে নতুন সংকট।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টনা দরপতন থেকে দেশের পুঁজিবাজার যখন বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা পুঁজিবাজারে আবার নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করল। এখন অস্থিরতা অবস্থা থেকে বাজার কীভাবে বেরিয়ে আসে সেটাই দেখার বিষয়।
এর আগে দেশের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন লাখো কোটি টাকার ওপরে কমে যায়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ফলে ঈদের পর শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা।
তবে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ইসরাইলে হামলা করে ইরান। দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাবে গত শনিবার রাতে ইসরাইলি ভূখ- লক্ষ্য করে কয়েকশ’ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ইসরাইলের মাটিতে এটিই প্রথমবার ইরানের সরাসরি হামলার ঘটনা। ইরান এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’ বা ‘সত্য প্রতিশ্রুতির অভিযান’।

এ হামলার পর ইরান এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসরাইল বা তার সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আরও বড় আক্রমণ চালাবে তারা। অন্যথায়, সংঘাত এখানেই সমাপ্ত। অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাচ্ছে না ইসরাইল।
হোয়াইট হাউস ইসরাইলকে এ বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় অংশ নেবে না।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে সোমবার দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই ব্রোকারেজ হাউসে হাউসে ইসরাইলের ভূখ-ে ইরানের হামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ফলে লেনদেন শুরু হতেই মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপ বাড়ান এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী। এতে লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সূচকের বড় পতন হয়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে বাড়ে পতনের মাত্রাও।
সারাদিনে ডিএসইতে মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩৬টি প্রতিষ্ঠানের। আর ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৭৭৮ পয়েন্টে নেমে গেছে।
অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ দরপতনের বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, শেয়ারবাজার খুবই স্পর্শকাতর জায়গা। যে কোনো ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এখন ইরান-ইসরাইল পরিস্থিতিও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। কারণ ইরান-ইসরাইল পরিস্থিতি নতুন বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তাহলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধনের সমস্যা সৃষ্টি হবে। তখন বিশ্বে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। ওই যুদ্ধ বাধার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক যে সংকট সৃষ্টি হয়, তা থেকে এখনো বের হওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ইরান-ইসরাইল ইস্যু পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল।
এদিকে সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে গেছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৭ কোটি ৫৩ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৪৩ কোটি ৮৪ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৭৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

×