ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ক্রেস্ট, বাংকো ও তামহার প্রতারনা

৪৩১ জন পাওনাদার পেলেন পৌনে ৫ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ৫ জুলাই ২০২২

৪৩১ জন পাওনাদার পেলেন পৌনে ৫ কোটি টাকা

ব্রোকারেজ হাউজ

গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্রোকারেজ হাউজ ক্রেস্ট, বাংকো তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ৪৩১ জন পাওনাদার কোটি ৭৬ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ ফেরত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদেরকে এই টাকা ফেরত দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইসংস্থাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন

তিনি জানান, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশেনা অনুযায়ী অর্থ ফেরত কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএসই

ওই তিন হাউজের যে সব বিনিয়োগকারী ১৫ মের মধ্যে ডিএসইতে অভিযোগ দাখিল করেছেন তাদের নিজ নিজ বিও হিসাবে উল্লেখিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আনুপাতিক হারে অর্থ ফেরত শুরু করা হয়েছে

এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিইএফটিএনের মাধ্যমে ৪৩১ বিনিয়োগকারীকে কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেয়া হয় বলে জানান ডিএসই কর্মকর্তা

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডিএসই আশা করছে পর্যায়ক্রমে সকল বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে৷ সকল পাওনা পরিশোধের জন্য ডিএসই সংশ্লিষ্ট ব্রোকারদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে৷ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে৷

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ওই তামহা সিকিউরিটিজের বিওধারী বিনিয়োগকারীরা এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন, অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর ৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

এই সিকিউরিটিজের মালিক ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা বিএসইসি ওই সিকিউরিটিজের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে দেয়ার পর সিডিবিএলে যোগাযোগ করে বিনিয়োগকারীরা জানতে পারেন তাদের হিসাবে কোনো শেয়ার নেই

তামহা কর্তৃপক্ষ দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য বিনিয়োগকারীদের ফোনে এসএমএস মেইল পাঠাতো কারণে তারা জালিয়াতি বুঝতে পারেনি

হাউজটি ১৩৯ কোটি টাকা ৭০ লাখ টাকা আত্মসা করেছে বলে বিএসইসির এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওঠে আসে অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে গত ২৮ নবেম্বর ব্রোকারেজ হাউসটির শেয়ার কেনাবেচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ডিএসই

গত বছরের জুনে বাংকো সিকিউরিটিজের কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয় অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিএসইসির তদন্ত অনুযায়ী, ব্রোকারেজ হাউসের মালিকপক্ষ গ্রাহকদের ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আত্মসা করেছে

 

ঘটনায় ডিএসই মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডিও করে পরে দুদক প্রতিষ্ঠানটির ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছে আসামিরা হলেন বাংকো সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আবদুল মুহিত এবং পরিচালক শফিউল আজম, ওয়ালিউল হাসান চৌধুরী, নুরুল ঈশান সাদাত, মুনিম চৌধুরী জামিল আহমেদ চৌধুরী

২০২০ সালের জুনে ডিএসইর এক তদন্তে উঠে আসে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষ গ্রাহকের ৮০ কোটি টাকার বেশি আত্মসা করেছে ৫৭ পুরানা পল্টনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ আর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এমডি শহিদ উল্লাহ তাঁর স্ত্রী নিপা সুলতানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ

২১ হাজার বিনিয়োগকারীর হিসাব ছিল এই হাউসে আর গ্রাহকদের টাকা ছিল ১০০ কোটি শেয়ার কেনাবেচার বাইরে বেআইনিভাবে লভ্যাংশের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকাও নিতেন তাঁরা মালিকপক্ষ ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেদের ব্যাংক হিসাবে