অনুমোদনহীন ভুঁইফোড় সংগঠন গঠন এবং বিতর্কিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর আদর্শকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে বিএনপি। ওই নির্দেশনার আলোকে জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (জেবিএবি)–এর সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র কেন্দ্রীয় কমিটি এবং এর অধীন সকল সাংগঠনিক ইউনিট বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিলুপ্ত ঘোষণার আওতায় রয়েছে—
সোনালী ব্যাংক পিএলসি কেন্দ্রীয় কমিটির অধীন সকল বিভাগীয় কমিটি, জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস কমিটি, প্রিন্সিপাল অফিস কমিটিসহ সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহবুব সোহেল (বাপ্পী) বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) একটি আদর্শভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন। দলের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিএনপির নাম ও আদর্শ ব্যবহার করে সংগঠন পরিচালনা করতে পারে না। বিএনপির ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিভ্রান্তি দূর করতেই আমরা এই কঠিন কিন্তু সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অননুমোদিত বা বিতর্কিত কার্যক্রম চালানো হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপির আদর্শ, নীতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে পরিচালিত কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
এ প্রসঙ্গে সভাপতি মাহবুব সোহেল (বাপ্পী) জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (জেবিএবি)–এর সকল সদস্যকে বিএনপির অনুমোদিত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’–এ সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘জিয়া পরিষদ হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। যারা সত্যিকার অর্থে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের উচিত বিএনপির অনুমোদিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।’
জানা গেছে, জিয়া পরিষদ বিএনপির আদর্শিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নীতি, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। দলীয় অনুমোদনের বাইরে গিয়ে কোনো সংগঠনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা রাজনৈতিক অপব্যবহার ঠেকাতেই বিএনপির এই সর্বশেষ অবস্থানকে দলীয় শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ.এইচ








