ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

‘মৃত্তিকাঞ্জলি’ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী চারুকলার জয়নুলে

​​​​​​​সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

‘মৃত্তিকাঞ্জলি’ শিল্পকর্ম  প্রদর্শনী চারুকলার  জয়নুলে

চারুকলায় ‘মৃত্তিকাঞ্জলি’ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী দেখছেন দর্শক

গ্যালারিতে প্রবেশ করেই চোখে পড়বে টেবিলে সাজানানো অনেকগুলো সিরামিকের তৈরি মানুষের মাথা হাত। দেয়ালেও রয়েছে মানুষের মুখায়ব, ফুল পাখিসহ নানা রকম প্রকৃতিক দৃশ্য। সিরামিকের তৈরি এসব শিল্পকর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে চলছেমৃত্তিকাঞ্জলিশীর্ষক মৃৎশিল্প প্রদর্শনী।

এরমধ্যে যুদ্ধাস্ত্রও রয়েছে বিভিন্ন রকম। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে শুধুমাত্র শিল্পকর্ম দিয়েই সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। কিন্তু এর অন্তর্নিহীত তাৎপর্যে রয়েছে মাতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতিচ্ছবি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসব কিছুকেই যেন একই ফ্রেমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগের অধ্যাপক . আজহারুল ইসলাম শেখ।

শুক্রবার প্রদর্শনীতে গিয়ে পাওয়া গেল শিল্পী অধ্যাপক . আজহারুল ইসলাম শেখকে। তার ভাষ্যমতে, সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ বেঁচে থাকার  সংগ্রাম করেছে। প্রাকৃতিক নানান প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠত্ব। এই শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো মেধা এবং আত্মত্যাগী দৃষ্টিভঙ্গী। শিল্পকর্মে মানুষের দৃশ্যগত স্বাভাবিক সৌন্দর্য দেখানো হয়নি বরং তার আত্মত্যাগের অন্তর্গত শক্তিময় সত্তা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের মুখায়ব এবং হাতের মাধ্যমে আমি উপস্থাপন করতে চেয়েছি সংগ্রামী ত্যাগী মানুষের অন্তর্গত অভিব্যক্তি। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন পর্যায়ে যুদ্ধ সংগ্রাম করেছে নিজের জাতিসত্ত্বাকে প্রতিষ্ঠা করতে। প্রতিষ্ঠা করেছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছে অসংখ্য মানুষ। এই সংগ্রামী আত্মত্যাগী মানুষের রূপায়নে আমি অনুভব করেছি দ্রোহে প্রজ্বালিত মানুষ এবং কর্মময় দুহাতের উপস্থাপনে অন্তরিত রেখেছি বুদ্ধিদীপ্ত, ত্যাগী সরল অস্তিত্বের প্রকাশ। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ মূর্ত করেছে আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতাকে। ২৫ মার্চ কালরাত্রি ছিল ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা যা ইতিহাসের এক উদাহরণযোগ্য কলঙ্কিত দিন।

এভাবে নিঃস্বার্থভাবে আত্মনিবেদন করেছে লক্ষ প্রাণ। এই আত্মত্যাগী মানুষগুলো মাটিতে মিশে গেলেও ইতিহাস এবং আমার চেতনায় তারা নানান অভিব্যক্তিতে মূর্ত হয়ে উঠেন। তাড়িত করে আমাকে সিরামিকের মত স্থায়ী মাধ্যমে শিল্প নির্মাণ করতে। যা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে বিশ্বদরবারে। আত্মত্যাগী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বিন্যস্ত করি উচ্চতাপমাত্রায় সিরামিক শিল্প। সংগ্রামী মানুষের চেতনাকে স্পষ্টতা দেবার জন্য ব্যবহার করেছি বিভিন্ন ক্লে এবং গ্লেজ যা নেরিয়্যাজ শিল্প মাধ্যম হিসেবে সমকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম্পোজিশনে হাতকে উর্ধ ভঙ্গিমায় ব্যবহার করা হয়েছে ন্যায়, সত্য এবং সম্ভাবনার প্রতীকরূপে। উলম্বভাবে বিন্যস্ত হাতগুলো শত বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে চলেছে। ঐতিহাসিক চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে আত্মত্যাগী মুখাবয়বের সঙ্গে যুক্ত হয় বাঙালির কর্মময় সংগ্রামী হাত। সংগ্রামী মানুষের পারস্পরিক সম্মিলিত মেধা এবং হাজারো দক্ষতার বিষয়াবলীকে প্রতিকী অর্থে বিন্যাস করার চেষ্টা করেছি আমার সুজনশীল চিন্তার মৃৎভাস্কর্যে।

প্রদর্শনী চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

×