ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

শিমরাইল-ডেমরা সড়কটিতে ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া

​​​​​​​মো. খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০৯, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

শিমরাইল-ডেমরা সড়কটিতে ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া

শিমরাইল-ডেমরা সড়কটিতে দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ঢাকার ডেমরা থানাধীন শিমরাইল-ডেমরা সড়কটির (পুরাতন ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক) এখনো আধুনিকায়ন হয়নি। সড়কটির গুরুত্ব বহুগুণ বাড়লেও এখনো দুই লেনের সড়কেই রয়ে গেছে। নির্মাণের ৫৫ বছর পর থেকে মাঝেমধ্যে সংস্কারকাজ ছাড়া সড়কটি একই অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি দিয়ে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার হয়ে ঢাকার বনশ্রী, গুলশান, বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা, এয়ারপোর্ট, টঙ্গী গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে লোকজনের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। ছাড়াও শিমরাইল থেকে ডেমরা হয়ে যাত্রাবাড়ী দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু এখনো ব্যস্ততম সড়কটি চার লেনের সড়কে উন্নীত না করায় যাত্রী স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে শিমরাইল- ডেমরা সড়কটি দুই লেন থেকে চার লেন অথবা ছয় লেনের সড়কে উন্নীতকরণের জোর দাবি জানান।

জানা যায়, ১৯৬৫-১৯৬৮ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রজেক্টটি বাস্তবায়নের সময় নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়কটি নির্মিত হয়। ১৯৭৭ সালের দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কাঁচপুর সেতু নির্মাণের পর সেতুটি পার হয়ে শিমরাইল থেকে ডেমরা চৌরাস্তা দিয়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে যাতায়াত করা হতো। আশির দশকে তৎকালীন সরকার শিমরাইল থেকে সাইনবোর্ড-শনিরআখড়া হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ডিএনডি প্রজেক্টের ভেতর দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণ করে।

সড়কটি ঢাকার যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি সম্প্রসারণ করা হয়। ফলে শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি অবহেলিত হতে থাকে। এখন কাঁচপুর সেতু থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি আট লেনের সড়কে উন্নীত হয়েছে। শিমরাইল এলাকায় চৌরাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এখন শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি দিয়ে যাত্রাবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেটকার মাইক্রোবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-ডেমরা সড়কটি ছয় লেনের সড়কে উন্নীত করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি ৫৫ বছর আগে নির্মিত হলেও এখনো দুই লেনেই রয়ে গেছে। এতে সড়কের আশপাশের লোকজন যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সড়কটি এখন আধুনিকায়ন করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মহাসড়কের কোনো স্থানে যখন সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন পুরাতন শিমরাইল-ডেমরা সড়ক দিয়েই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনগুলো ডেমরা হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে থাকে।

স্থানীয়রা বলছেন, সব মিলেই শিমরাইল- ডেমরা সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ শিমরাইল-ডেমরা সড়ক দিয়ে অটোরিক্সা, লেগুনা প্যাডেল রিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার গিয়ে যাত্রীবাহী বাসযোগে ঢাকার বনশ্রী, গুলশান, বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা, এয়ারপোর্ট গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। যদি শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি দুই লেন থেকে চার লেনে অথবা ছয় লেনে উন্নীত করা হয়, তাহলে শিমরাইল থেকেই এসব যানবাহন স্টাফ কোয়ার্টার হয়ে ঢাকার বনশ্রী, গুলশান, বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা, এয়ারপোর্ট গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন। ডেমরার শুকুরশি এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ মিয়া বলেন, সড়কটি আধুনিকায়ন করা হলে সড়ক দিয়ে শিমরাইল থেকে ঢাকার বনশ্রী, গুলশান, বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা, এয়ারপোর্ট গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করা যাবে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল থেকে শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি শুরু হয়েছে। সড়কটির সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, ঈদগাহ ডেমরার গলাকাটাপুল, রানীমহল, সারুলিয়া ডেমরাÑ ছয়টি বাসস্ট্যান্ড রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের সারুলিয়া বাজার এলাকায় প্রায়ই সৃষ্টি হয় যানজট। যানজট অতিক্রম করেই গন্তব্যে যেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটির রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা এমদাদ হোসেন বলেন, আমি গুলশানের একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করি। প্রতিদিন রসুলবাগ থেকে অটোরিক্সা দিয়ে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার গিয়ে যাত্রীবাহী বাসে করে গুলশান যাই। যদি শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি দুই লেন থেকে চার লেনের সড়কে উন্নীত করে আধুনিকায়ন করা হতো, তবে শিমরাইল থেকেই আমরা যাত্রীবাহী বাসে করে গুলশান যেতে পারতাম।

বিষয়ে সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন শামীম বলেন, এটি একটি আলাদা প্রকল্প হয়েছে। প্রকল্পে রামপুরা- ডেমরা-আমুলিয়া-শিমরাইল পর্যন্ত ছয় লেনের একটি সড়ক হবে।

 

×