ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সংস্কৃতি সংবাদ

সন্ধ্যার অবকাশে নজরুল সুরধারায় শ্রোতার মুগ্ধতা

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ২৬ মে ২০২৩

সন্ধ্যার অবকাশে নজরুল সুরধারায় শ্রোতার মুগ্ধতা

ছায়ানটের নজরুল উৎসবে সমবেত নৃত্যগীত পরিবেশনা

সন্ধ্যার অবকাশে বেজে ওঠে নূপুরের নিক্কণ। চঞ্চল হয়ে ওঠে শ্রোতা-দর্শকের নয়ন থেকে মন।  ভেসে বেড়ায় সুরেলা শব্দধ্বনি। অনেকগুলো কণ্ঠের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয়- চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে/ নয়ন-পলকে বিজলি ঝলকে চাঁচর অলক ওড়ে পবনে ...। সেই সম্মেলক সংগীতের সমান্তরালে পরিবেশিত হয় নান্দনিকতার প্রতিচ্ছবিময় বৃন্দ নাচ। শুক্রবার এই পরিবেশনার মাধ্যমে ধানম-ির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে ছায়ানট আয়োজিত নজরুল উৎসবের দ্বিতীয় অধিবেশনের সূচনা হয়। জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপনে অনুষ্ঠিত উৎসবের সমাপনী দিনে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির ঐশ্বর্যে স্থাত হয়েছে শ্রোতার অন্তর। কবির সৃষ্ট সুরের ¯্র্েরাতধারায় ভালো লাগার অনুভবে প্লাবিত হয়েছে হৃদয়। সেই মুগ্ধতার আবেশে ঝরেছে করতালি। গানের সঙ্গে নাচ ও কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে সজ্জিত আবৃত্তি পরিবেশনায় আয়োজন হয়েছে বৈচিত্র্যময়।
সমবেত নাচ-গানের পর উপস্থাপিত হয়েছে পাঠ ও গানের সম্মিলনে সাজানো নবরাগ শীর্ষক গীতি-আলেখ্য। এ পর্বে দোলন চাঁপা বনে দোলেÑদোল-পূর্ণিমা-রাতে চাঁদের সঙ্গে ... শীর্ষক সংগীত পরিবেশন করেন সুস্মিতা দেবনাথ শুচি। মিরাজুলা জান্নাত শুনিয়েছেনÑ শোনো ও সন্ধ্যামালতী বালিকা তপতী ...। সুমন মজুমদারের গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল ‘বেণুকা ও কে বাজায় মহুয়া বনে’। এছাড়া রেজাউল করিমের গাওয়া গানের সঙ্গে পাঁচটি নজরুল সংগীতের বর্ণনাত্মক পাঠে অংশ নেন জহিরুল হক খান। গান ও পাঠের যুগলবন্দি পরিবেশনা শেষে শ্রোতা-দর্শকের হৃদয় রাঙিয়েছে সমবেত নাচ-গান। পায়েলা বোলে রিনিঝিনি/নাচে রূপ-মঞ্জরি শ্রীরাধার সঙ্গিনী... গানের সুরে নাচ করে ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল। একক কণ্ঠের পরিবেশনায় প্রমিতা দে গেয়েছেন ‘বসিয়া বিজনে কেন একা মনে’।

‘স্বপনে এসো নিরজনে’ শীর্ষক গান শুনিয়েছেন বিভাস রঞ্জন মৈত্র। লতিফুন জুলিও পরিবেশিত গানের শিরোনাম ছিল ‘কেন গো যোগিনী’। সমুদ্র শুভ্রম গেয়েছেন ‘দূর বেণুকুঞ্জে বাজে মুরলী’। বাদল দিনের সৌন্দর্যের প্রকাশে মনীষ সরকারের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে- মেঘের ডমরু ঘন বাজে/বিজলি চমকায়/আমার বনছায় ...। আজও কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া শিরোনামের নজরুল সংগীত শুনিয়েছেন কানিজ হুসনা আহম্মদী। ঐশ্বর্য সমদ্দার গেয়েছেন ‘আজো মধুর বাঁশরী’। নাহিয়ান দূরদানা শুচি শুনিয়েছেন ‘সেই মিঠে সুরে’।

সুমন চৌধুরী পরিবেশন করেন ‘সন্ধ্যামালতী যবে ফুল বনে ঝুরে’। মাহমুদুল হাসানের গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল ‘চেয়ে না সুনয়না আর চেয়ো না’। বিটু কুমার শীল শুনিয়েছেন ‘সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে’। এছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন শাহীন সামাদ, ইয়াকুব আলী খান, অনামিকা সরকার সোমা, ধ্রুব সরকার, মাকসুদুর রহমান মোহিত খান ও তানভীর আহমেদ। আমন্ত্রিত দল হিসেবে সংগীত পরিবেশন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ছায়ানটের বড়দের দল পরিবেশিত সম্মেলক নৃত্যগীতের পর জাতীয় সংগীতের পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় দু’দিনের নজরুল উৎসব।
‘শব্দের সড়কে জীবন সাজাই’ ॥ আবৃত্তিশিল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে বার্তা পৌঁছে দিতে আবৃত্তি প্রযোজনাকে উৎসাহিত করে থাকে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ। এ লক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় পরিষদের নিয়মিত আয়োজন ‘শব্দের সড়কে জীবন সাজাই।’ অন্যদিকে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আবৃত্তিশিল্পীদের নিয়ে ‘জ্বালাও আলো আপন আলো’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আয়োজন করে পরিষদ। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো শব্দের সড়কে জীবন সাজাই শীর্ষক অনুষ্ঠান। এতে অবিনাশী বীণ শীর্ষক আবৃত্তি পরিবেশনা উপস্থাপন করে মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র। প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মাহমুদা সিদ্দিকা সুমি।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে জ্বালাও আলো আপন আলো শীর্ষক প্রতিশ্রুতিশীল আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনা। এতে আবৃত্তি পরিবেশন সিলেট, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাচিকশিল্পী অর্চিতা ভট্টাচার্য, চপল কু-, শ্রুতি, অসীম কুমার মহন্ত, পারমিতা রায়, জেনিফার ইয়াসমীন, লামিয়া তাসনীম, পংক্তি, মো. মনিরুজ্জামান রাতুল ও নিলুফার ইয়াসমিন হ্যাপী।

×