ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

গ্রেপ্তার পাঁচ

যশোর থেকে ঢাকায় এসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৩৬, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

যশোর থেকে ঢাকায় এসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলায় থাকতেন গৃহবধূ নাবিলা (ছন্মনাম)। চার মাস আগে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে সন্তানদের স্বামীর কাছে রেখে গ্রামের বাড়ি যশোর চলে যান। এরমধ্যে কিছু না জানিয়েই স্বামী তাকে তালাক দেয় এবং সেই কাগজপত্র নাবিলার কাছে পাঠিয়ে দেয়। তালাক দেওয়ার কারণ জানতে এবং এ বিষয়ে আলোচনা করতে স্বামীর সাক্ষাতের জন্য গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন নাবিলা। কিন্তু এরই মধ্যে দুই সন্তানকে নিয়ে বাসা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যায় নাবিলার স্বামী। ফলে স্বামী ও সন্তানদের না পেয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথে এক রিক্সাচালক  বিষয়টি  জেনে স্বামীকে খুঁজে পেতে তাকে সহায়তার আশ্বাস দেয়। কিন্তু রিক্সাচালক তা না করে আরও ছয় সহযোগী নিয়ে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি’র ফুটেজসহ বিভিন্নভাবে কয়েকজনকে শনাক্ত করে। একপর্যায়ে গাবতলী, ডেমরা, বসিলা ও ভোলার তজুমুদ্দিন এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো- রিক্সাচালক শফিকুল ইসলাম (২৬), বিল্লাল হোসেন (২৫), আল-আমিন হোসেন (২৬), সবুজ (২৬) ও রাসেল ওরফে মোল্লা রাসেল (২৪)।
শফিকুল ছাড়া বাকিদের কেউ রিক্সাচালক, কেউ দিনমজুর। তবে সবাই রিক্সাচালক শফিকুলের পরিচিত নন। একেকজনের সঙ্গে একেকজনের পরিচিতি রয়েছে। শফিকুল একজনকে কল করতেই সে বাকিদের কল করে  নিয়ে আসে এবং ওই গৃহবধূর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।  এ ঘটনায় এখনো দুজন পলাতক রয়েছে।
ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গৃহবধূ তার আগের বাসায় আসেন। কিন্তু সেখানে তার স্বামী-সন্তানকে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বাড়ির মালিক, পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়াদের কেউই তার স্বামী-সন্তানদের কোনো ঠিকানা দিতে পারেননি। এভাবে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত বসিলা চল্লিশফিট, ফিউচার হাউজিং, গার্ডেনসিটি হাউজিং, স্বপ্নধারা হাউজিং ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি বসিলা চল্লিশফিট তিন রাস্তার মোড় থেকে গাবতলী যাওয়ার জন্য একটি রিক্সা নেন। রিক্সাচালক শফিকুল ওই নারীকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে না নিয়ে ঢাকা উদ্যান ও বসিলা এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরাতে থাকে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে। ওই নারীকে তার স্বামীর বাসা খুঁজে বের করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ও তার অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।
প্রায় তিন ঘণ্টা রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে বসিলা ফিউচার টাউনের একটি জায়গায় গিয়ে রিক্সাচালক ও তার সঙ্গীরা ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শ্রমিকদের জন্য তৈরি একটি অস্থায়ী টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে পাঁচজন মিলে ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তার চিৎকারে এলাকার সিকিউরিটি গার্ড ও লোকজন ছুটে আসে। পরে আসামিরা ভিকটিমকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এর পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে ওই নারীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় ও চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক রবিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় ২৭ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লু-লেস। ভিকটিম নারীও আসামিদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। মামলা হওয়ার পর থেকে আশপাশের সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাত ব্যক্তি ও তিনটি রিক্সার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর থানার চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং শাহিন খান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামি বিল্লাল হোসেনকে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার হয় আরেক আসামি আল আমিন হোসেন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বসিলা থেকে মো. সবুজ ও রাসেল ওরফে মোল্লা রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ভোলার তজুমুদ্দিন থেকে রিক্সা চালক শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছে থাকা দু’টি রিক্সা উদ্ধার করা হয়। পলাতক দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে।

 

×